ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি প্রাইভেট কার গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর প্রায় পৌনে ৪টার দিকে মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
নিহতদের পরিচয়
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা নূর জাহান বেগম, তার মেয়ে আয়েশা খাতুন এবং ছেলে আরিফ ইসলাম। এছাড়া প্রাইভেট কারের চালক জাহিদ হোসেনও নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শাহিদুল ইসলামের আরেক ছেলে এবং তার দুই নাতি-নাতনি। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
জানা গেছে, ঢাকা থেকে যশোরগামী প্রাইভেট কারটি এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে একই লেনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে নামে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তদন্ত শুরু
দুর্ঘটনার পর বিধ্বস্ত গাড়িটি জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কম দৃশ্যমানতা কিংবা অতিরিক্ত গতির কারণে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দাঁড়িয়ে থাকা ভারী যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















