দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫৫ জন সাংবাদিক হামলা, মামলা, হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন শারীরিক হামলা ও লাঞ্ছনার মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
শারীরিক হামলার ঘটনা বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২১টি পৃথক ঘটনায় ৩৮ জন সাংবাদিক শারীরিক হামলার শিকার হন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের মারধর, লাঞ্ছনা ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

অন্যদিকে বাকি ১৭ জন সাংবাদিক মামলা, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা, আইনি হয়রানি এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। এসব ঘটনায় সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কারা জড়িত ছিল
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অপরাধী চক্র, ঠিকাদার, বখাটে গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কয়েকজন সাংবাদিককে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে। কিছু ঘটনায় আইনজীবী, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সতর্কবার্তা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হয়রানির ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য প্রকাশের পরিবেশ নিরাপদ না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা-হুমকির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ তথ্যভিত্তিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতা শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















