১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

শহরের তাপ বাড়ছে, বিপদে আধুনিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য: নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়েই টিকবে ষাট বছরের পুরোনো ভবন

স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম তিন দশক ছিল নির্মাণ ও স্থাপত্যের এক অসাধারণ উত্থানের সময়। নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনে আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য দেশজুড়ে এক নতুন পরিচয়ের ভাষা হয়ে ওঠে। সেই সময়ের ভবনগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো ছিল না, বরং একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতের স্বপ্নের প্রতীক ছিল।

চলচ্চিত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন শহর পরিকল্পনায়ও এই আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। চণ্ডীগড় ও গান্ধীনগরের মতো পরিকল্পিত শহর, আহমেদাবাদের আইআইএম কিংবা কানপুরের আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সময়ের স্থাপত্য-দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। উন্মুক্ত কংক্রিট, ইটের ব্যবহার, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ওপর নির্ভরশীল নকশা এবং নতুন কাঠামোগত চিন্তা আধুনিক ভারতীয় স্থাপত্যকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়।

ঐতিহ্য না বোঝা?

আজ এসব ভবনের অনেকগুলোর বয়স ৬০ বছরেরও বেশি। ফলে অনেকেই ধরে নেন, এগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বহু ভবন এখনও ব্যবহারযোগ্য এবং তাদের মূল নকশাগত বৈশিষ্ট্যও অনেকাংশে অক্ষুণ্ন রয়েছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন ও উন্নয়ন করা হলেও স্থাপত্যের মৌলিক চরিত্র বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

দেশে তীব্র থেকে মাঝারী তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে | জাতীয় | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

তবে এই ভবনগুলোর সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে—তাপজনিত অস্বস্তি এবং আবহাওয়াজনিত ক্ষয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা।

প্রাকৃতিক বাতাস আর যথেষ্ট নয়

যখন এসব ভবন নির্মিত হয়েছিল, তখন শহরের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল। জানালা খুলে এবং সিলিং ফ্যান চালিয়েই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারত। ভবনের দিকনির্দেশনা, ছায়া এবং অভ্যন্তরীণ বিন্যাসও সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত ছিল।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নগর তাপদ্বীপ প্রভাব, শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণ এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ শহরে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

সমস্যা হলো, এসব ভবনের নকশায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি। পরে গিয়ে এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে গেলে কাঠামোগত এবং নান্দনিক—দুই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভবনগুলো না পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে, না আধুনিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

The hidden architecture behind AI systems that don't break under growth -  TechTalks

সমাধানের পথ কোথায়?

আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যের অন্যতম মূল দর্শন ছিল ভবনের উপাদান ও কার্যপ্রণালীকে আড়াল না করা। সেই দর্শন অনুসরণ করলে নতুন প্রযুক্তি বা যান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও লুকিয়ে না রেখে পরিকল্পিতভাবে স্থাপত্যের অংশ হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনর্গঠনের উদাহরণ দেখায়, নতুন অবকাঠামোকে পৃথক কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ স্তর হিসেবে যুক্ত করা সম্ভব।

এ জন্য স্থপতি, প্রকৌশলী, উপকরণবিজ্ঞানী, জ্বালানি ও আরামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং সংরক্ষণবিদদের শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু বাহ্যিক সংস্কার বা কাঠামোগত মেরামত নয়, ভবনের যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ভারতের আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য শুধু অতীতের স্মারক নয়; এগুলো এখনও জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব ভবন আগামী কয়েক দশকও নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

শহরের তাপ বাড়ছে, বিপদে আধুনিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য: নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়েই টিকবে ষাট বছরের পুরোনো ভবন

০৩:১৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম তিন দশক ছিল নির্মাণ ও স্থাপত্যের এক অসাধারণ উত্থানের সময়। নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনে আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য দেশজুড়ে এক নতুন পরিচয়ের ভাষা হয়ে ওঠে। সেই সময়ের ভবনগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো ছিল না, বরং একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতের স্বপ্নের প্রতীক ছিল।

চলচ্চিত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন শহর পরিকল্পনায়ও এই আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। চণ্ডীগড় ও গান্ধীনগরের মতো পরিকল্পিত শহর, আহমেদাবাদের আইআইএম কিংবা কানপুরের আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সময়ের স্থাপত্য-দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। উন্মুক্ত কংক্রিট, ইটের ব্যবহার, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ওপর নির্ভরশীল নকশা এবং নতুন কাঠামোগত চিন্তা আধুনিক ভারতীয় স্থাপত্যকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়।

ঐতিহ্য না বোঝা?

আজ এসব ভবনের অনেকগুলোর বয়স ৬০ বছরেরও বেশি। ফলে অনেকেই ধরে নেন, এগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বহু ভবন এখনও ব্যবহারযোগ্য এবং তাদের মূল নকশাগত বৈশিষ্ট্যও অনেকাংশে অক্ষুণ্ন রয়েছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন ও উন্নয়ন করা হলেও স্থাপত্যের মৌলিক চরিত্র বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

দেশে তীব্র থেকে মাঝারী তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে | জাতীয় | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

তবে এই ভবনগুলোর সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে—তাপজনিত অস্বস্তি এবং আবহাওয়াজনিত ক্ষয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা।

প্রাকৃতিক বাতাস আর যথেষ্ট নয়

যখন এসব ভবন নির্মিত হয়েছিল, তখন শহরের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল। জানালা খুলে এবং সিলিং ফ্যান চালিয়েই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারত। ভবনের দিকনির্দেশনা, ছায়া এবং অভ্যন্তরীণ বিন্যাসও সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত ছিল।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নগর তাপদ্বীপ প্রভাব, শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণ এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ শহরে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

সমস্যা হলো, এসব ভবনের নকশায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি। পরে গিয়ে এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে গেলে কাঠামোগত এবং নান্দনিক—দুই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভবনগুলো না পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে, না আধুনিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

The hidden architecture behind AI systems that don't break under growth -  TechTalks

সমাধানের পথ কোথায়?

আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যের অন্যতম মূল দর্শন ছিল ভবনের উপাদান ও কার্যপ্রণালীকে আড়াল না করা। সেই দর্শন অনুসরণ করলে নতুন প্রযুক্তি বা যান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও লুকিয়ে না রেখে পরিকল্পিতভাবে স্থাপত্যের অংশ হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনর্গঠনের উদাহরণ দেখায়, নতুন অবকাঠামোকে পৃথক কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ স্তর হিসেবে যুক্ত করা সম্ভব।

এ জন্য স্থপতি, প্রকৌশলী, উপকরণবিজ্ঞানী, জ্বালানি ও আরামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং সংরক্ষণবিদদের শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু বাহ্যিক সংস্কার বা কাঠামোগত মেরামত নয়, ভবনের যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ভারতের আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য শুধু অতীতের স্মারক নয়; এগুলো এখনও জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব ভবন আগামী কয়েক দশকও নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকতে পারে।