০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ইতিহাসের বরপুত্র তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা ভোলায় অনুষ্ঠিত, মানুষের ঢলে শেষ শ্রদ্ধা তোফায়েল আহমদের মৃত্যুতে জিএম কাদেরের শোক, জাতির এক সংগ্রামী নেতার বিদায় ট্রাম্প নাকি আমেরিকা? বিশ্ব এখন আসলে কাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতুতে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের গরম, কম বৃষ্টি আর নতুন বাস্তবতা: বাংলাদেশের সামনে জলবায়ুর সতর্কবার্তা নেত্রকোনায় ঘরে ঢুকে নারীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী-ছেলে গুরুতর আহত মানুষের কাছে ফেরার সময় কি এখনও আসেনি? শহরের তাপ বাড়ছে, বিপদে আধুনিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য: নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়েই টিকবে ষাট বছরের পুরোনো ভবন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলে ভাঙনের দাবি, রিজু দত্তের সঙ্গে ‘৫০ বিধায়ক’ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে সম্মত হিজবুল্লাহ, বৈরুত নিয়ে নতুন সমঝোতা

শহরের তাপ বাড়ছে, বিপদে আধুনিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য: নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়েই টিকবে ষাট বছরের পুরোনো ভবন

স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম তিন দশক ছিল নির্মাণ ও স্থাপত্যের এক অসাধারণ উত্থানের সময়। নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনে আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য দেশজুড়ে এক নতুন পরিচয়ের ভাষা হয়ে ওঠে। সেই সময়ের ভবনগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো ছিল না, বরং একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতের স্বপ্নের প্রতীক ছিল।

চলচ্চিত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন শহর পরিকল্পনায়ও এই আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। চণ্ডীগড় ও গান্ধীনগরের মতো পরিকল্পিত শহর, আহমেদাবাদের আইআইএম কিংবা কানপুরের আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সময়ের স্থাপত্য-দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। উন্মুক্ত কংক্রিট, ইটের ব্যবহার, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ওপর নির্ভরশীল নকশা এবং নতুন কাঠামোগত চিন্তা আধুনিক ভারতীয় স্থাপত্যকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়।

ঐতিহ্য না বোঝা?

আজ এসব ভবনের অনেকগুলোর বয়স ৬০ বছরেরও বেশি। ফলে অনেকেই ধরে নেন, এগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বহু ভবন এখনও ব্যবহারযোগ্য এবং তাদের মূল নকশাগত বৈশিষ্ট্যও অনেকাংশে অক্ষুণ্ন রয়েছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন ও উন্নয়ন করা হলেও স্থাপত্যের মৌলিক চরিত্র বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

দেশে তীব্র থেকে মাঝারী তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে | জাতীয় | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

তবে এই ভবনগুলোর সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে—তাপজনিত অস্বস্তি এবং আবহাওয়াজনিত ক্ষয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা।

প্রাকৃতিক বাতাস আর যথেষ্ট নয়

যখন এসব ভবন নির্মিত হয়েছিল, তখন শহরের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল। জানালা খুলে এবং সিলিং ফ্যান চালিয়েই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারত। ভবনের দিকনির্দেশনা, ছায়া এবং অভ্যন্তরীণ বিন্যাসও সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত ছিল।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নগর তাপদ্বীপ প্রভাব, শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণ এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ শহরে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

সমস্যা হলো, এসব ভবনের নকশায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি। পরে গিয়ে এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে গেলে কাঠামোগত এবং নান্দনিক—দুই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভবনগুলো না পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে, না আধুনিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

The hidden architecture behind AI systems that don't break under growth -  TechTalks

সমাধানের পথ কোথায়?

আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যের অন্যতম মূল দর্শন ছিল ভবনের উপাদান ও কার্যপ্রণালীকে আড়াল না করা। সেই দর্শন অনুসরণ করলে নতুন প্রযুক্তি বা যান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও লুকিয়ে না রেখে পরিকল্পিতভাবে স্থাপত্যের অংশ হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনর্গঠনের উদাহরণ দেখায়, নতুন অবকাঠামোকে পৃথক কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ স্তর হিসেবে যুক্ত করা সম্ভব।

এ জন্য স্থপতি, প্রকৌশলী, উপকরণবিজ্ঞানী, জ্বালানি ও আরামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং সংরক্ষণবিদদের শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু বাহ্যিক সংস্কার বা কাঠামোগত মেরামত নয়, ভবনের যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ভারতের আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য শুধু অতীতের স্মারক নয়; এগুলো এখনও জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব ভবন আগামী কয়েক দশকও নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাসের বরপুত্র তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা ভোলায় অনুষ্ঠিত, মানুষের ঢলে শেষ শ্রদ্ধা

শহরের তাপ বাড়ছে, বিপদে আধুনিক স্থাপত্যের ঐতিহ্য: নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়েই টিকবে ষাট বছরের পুরোনো ভবন

০৩:১৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম তিন দশক ছিল নির্মাণ ও স্থাপত্যের এক অসাধারণ উত্থানের সময়। নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনে আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য দেশজুড়ে এক নতুন পরিচয়ের ভাষা হয়ে ওঠে। সেই সময়ের ভবনগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো ছিল না, বরং একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতের স্বপ্নের প্রতীক ছিল।

চলচ্চিত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন শহর পরিকল্পনায়ও এই আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। চণ্ডীগড় ও গান্ধীনগরের মতো পরিকল্পিত শহর, আহমেদাবাদের আইআইএম কিংবা কানপুরের আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সময়ের স্থাপত্য-দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। উন্মুক্ত কংক্রিট, ইটের ব্যবহার, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ওপর নির্ভরশীল নকশা এবং নতুন কাঠামোগত চিন্তা আধুনিক ভারতীয় স্থাপত্যকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়।

ঐতিহ্য না বোঝা?

আজ এসব ভবনের অনেকগুলোর বয়স ৬০ বছরেরও বেশি। ফলে অনেকেই ধরে নেন, এগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বহু ভবন এখনও ব্যবহারযোগ্য এবং তাদের মূল নকশাগত বৈশিষ্ট্যও অনেকাংশে অক্ষুণ্ন রয়েছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন ও উন্নয়ন করা হলেও স্থাপত্যের মৌলিক চরিত্র বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

দেশে তীব্র থেকে মাঝারী তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে | জাতীয় | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

 

তবে এই ভবনগুলোর সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে—তাপজনিত অস্বস্তি এবং আবহাওয়াজনিত ক্ষয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা।

প্রাকৃতিক বাতাস আর যথেষ্ট নয়

যখন এসব ভবন নির্মিত হয়েছিল, তখন শহরের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল। জানালা খুলে এবং সিলিং ফ্যান চালিয়েই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারত। ভবনের দিকনির্দেশনা, ছায়া এবং অভ্যন্তরীণ বিন্যাসও সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিত ছিল।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নগর তাপদ্বীপ প্রভাব, শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণ এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ শহরে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

সমস্যা হলো, এসব ভবনের নকশায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি। পরে গিয়ে এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে গেলে কাঠামোগত এবং নান্দনিক—দুই ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভবনগুলো না পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে, না আধুনিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঠিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

The hidden architecture behind AI systems that don't break under growth -  TechTalks

সমাধানের পথ কোথায়?

আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যের অন্যতম মূল দর্শন ছিল ভবনের উপাদান ও কার্যপ্রণালীকে আড়াল না করা। সেই দর্শন অনুসরণ করলে নতুন প্রযুক্তি বা যান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও লুকিয়ে না রেখে পরিকল্পিতভাবে স্থাপত্যের অংশ হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনর্গঠনের উদাহরণ দেখায়, নতুন অবকাঠামোকে পৃথক কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ স্তর হিসেবে যুক্ত করা সম্ভব।

এ জন্য স্থপতি, প্রকৌশলী, উপকরণবিজ্ঞানী, জ্বালানি ও আরামবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং সংরক্ষণবিদদের শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু বাহ্যিক সংস্কার বা কাঠামোগত মেরামত নয়, ভবনের যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ভারতের আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য শুধু অতীতের স্মারক নয়; এগুলো এখনও জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব ভবন আগামী কয়েক দশকও নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকতে পারে।