চট্টগ্রামের দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় চাঁদার ২০ লাখ টাকা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মুখোশধারী সশস্ত্র একটি দল ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করে এবং পরে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সকালে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা
রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়দীঘিরপাড়-ভাটিয়ারী সংযোগ সড়কের কাছে একটি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালবেলায় একটি টেম্পুতে করে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি নির্মাণাধীন ভবনটিতে ঢোকে। তখন সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। হামলাকারীরা কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করে এবং ভবনের দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে।
একপর্যায়ে নির্মাণশ্রমিক হাসান সাকিকে কিরিচ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি আহত হন। ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও কয়েকজন শ্রমিকও হামলার শিকার হন।

তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হামলার ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, তিনি হাটহাজারীর বড়দীঘিরপাড় এলাকায় পাইকারি চাল ও চিনির ব্যবসা করেন। সম্প্রতি ওই এলাকায় ১০ তলা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন তিনি।
জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। কিছুদিন আগে নগরীতে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে লোকজন সোচ্চার হওয়ার পর কয়েক দিন চাঁদা দাবির ফোন বন্ধ ছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে আবারও টাকা চাওয়া শুরু হয়।
তিনি জানান, চাঁদা দাবির বিষয়টি পুলিশকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। রোববারের হামলার ঘটনায় তিনি মামলা করবেন। তবে কারা তাকে চাঁদা দাবি করছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হামলার ঘটনাটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলার ঘটনায় চাঁদা দাবির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার পেছনে থাকা কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















