মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের জোট ব্লাড মানি ক্যাম্পেইন সতর্ক করেছে, তানিনথারি অঞ্চলের উপকূলে মার্তাবান উপসাগরে অবস্থিত মিন ইয়ে থু নামের একটি অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প ২০২৮ সাল থেকে জান্তার তহবিলে অর্থ জোগান দিতে শুরু করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ ও থাই মালিকানাধীন গালফ পেট্রোলিয়াম মিয়ানমার গত বছরের মে মাসে এই আহরণ চুক্তি চূড়ান্ত করে।
সংগঠনটির এক মুখপাত্র জানান, উৎপাদন পরিকল্পনামাফিক শুরু হলে তা থেকে আসা রাজস্ব সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে, তাই জান্তার পুরো আর্থিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া কানাডাভিত্তিক ফোরসাইট গ্রুপ ও এমওজিই আগস্টে বৈঠক করে বছরের শেষ নাগাদ কাদান দ্বীপের কাছাকাছি আরেকটি অনুসন্ধান এলাকায় উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করছে, যা মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় চল্লিশ শতাংশ এনে দিতে পারে।
দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও রুশ সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে, যেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর, তেল শোধনাগার ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা ইন্টার আরএও জুন মাসে একটি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এমওজিই এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিকল্প পথ খুঁজছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জান্তার আর্থিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার এই আশঙ্কা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ, কারণ সামরিক শাসন যত বেশি অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হবে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ তত কমে আসবে। জ্বালানি রাজস্বনির্ভর এই সামরিক শাসনের স্থায়িত্ব রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সম্ভাবনাকেও দুরূহ করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















