স্বাধীন তদন্ত সংস্থা মিয়ানমার উইটনেসের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বারোটি রাজ্য ও অঞ্চলে ছিয়ানব্বইটি ঘটনায় জান্তা বাহিনীর হামলায় পঁচাশিটি শিশু নিহত এবং একশো ঊনত্রিশটি শিশু আহত হয়েছে। এসব ঘটনার প্রায় সাড়ে তেষট্টি শতাংশের জন্য দায়ী বিমান হামলা, যেখানে বার্মা বিমানবাহিনী একষট্টিটি হামলা চালিয়েছে বলে নথিভুক্ত হয়েছে।
ভারী অস্ত্র, ড্রোন হামলা, স্থলমাইন ও প্যারামোটর হামলাও শিশু হতাহতের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি তেইশটি ঘটনা ঘটেছে সাগাইং অঞ্চলে, যা প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, বেসামরিক এলাকায় নির্বিচার বিমান হামলা মিয়ানমার সংঘাতে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
একই সময়ে ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালের প্রতিষ্ঠার পর থেকে জমা পড়া প্রায় একশোটি অভিযোগের মধ্যে ষাটটিরও বেশি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। উপ-মন্ত্রী কিয়াও নি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, নির্বিচার আটক ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্তের চেষ্টা চলছে, যদিও নির্দিষ্ট শাস্তি বা ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মিয়ানমার সংঘাতে শিশুদের ওপর এই ভয়াবহ প্রভাব বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে যুদ্ধ ও নির্যাতনের ট্রমা নিয়ে কক্সবাজারে বেড়ে উঠছে। এই ধরনের প্রতিবেদন প্রত্যাবাসন আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















