থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সিঙ্গাপুরে জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশনের বাধ্যতামূলক পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার আওতায় প্রথম বৈঠকে প্রাথমিক বিবৃতি বিনিময় করেছেন। বিতর্কিত এই সমুদ্র এলাকায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসসহ জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গত জুনে থাইল্যান্ড একতরফাভাবে দুই দেশের মধ্যে পঁচিশ বছরের পুরোনো একটি সমঝোতা স্মারক বাতিল করার পর কম্বোডিয়া এই প্রক্রিয়া শুরু করে। থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক যুক্তি দেন, পঁচিশ বছরে মাত্র দুটি বৈঠক ছাড়া আগের চুক্তিতে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

গত বছরের জুলাই ও ডিসেম্বরে সীমান্ত এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, পরে ডিসেম্বরের শেষে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কনভেনশনের রায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয় এবং ১৯৬২ সালের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের রায় নিয়েও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও একটি দৃষ্টান্ত, কারণ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসায় আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা উভয়ই এখানে স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসার অভিজ্ঞতা থাকা বাংলাদেশের জন্য এই প্রক্রিয়া বিশেষভাবে অনুসরণযোগ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















