মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ, নগদ ও রকেটের গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া ‘অতিরিক্ত ও ইচ্ছামতো’ সেবামূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। এসব চার্জ কেন বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।
রোববার বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।
অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে প্রশ্ন
আদালত জানতে চেয়েছেন, মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকদের ওপর আরোপ করা নির্বিচার ও অতিরিক্ত সেবামূল্য কেন বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে এসব সেবার চার্জ নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন শাকিব জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত এই রুল জারি করেছেন।
পৃথক আইন প্রণয়নের প্রশ্ন
হাইকোর্টের রুলে মোবাইল আর্থিক সেবা খাতকে নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইন করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে সেবামূল্য নির্ধারণ, গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ এবং প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য মোবাইল আর্থিক সেবার খরচ যেন যৌক্তিক, ন্যায্য ও সাধ্যের মধ্যে থাকে—এ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব
রুলের জবাব দিতে অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মোবাইল আর্থিক সেবা এখন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে এসব সেবার চার্জ কতটা যৌক্তিক এবং গ্রাহকের স্বার্থ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা যায়, হাইকোর্টের এই রুলে সেই আলোচনাই নতুন করে সামনে এসেছে।
বিকাশ, নগদ ও রকেটের সেবামূল্য নিয়ে আদালতের এই পদক্ষেপে গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর বিষয়ে ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















