ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তন ও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় বর্তমানে একটি বড় আলোচনার বিষয় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব।
পাকিস্তানের সাংবাদিকরা যতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করে, বাংলাদেশ তার একভাগও করে না। তাই বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে খোলাখুলি লেখা সম্ভব নয়। তবে যেটুকু ক্ষমতাবানরা উল্লেখ করেছেন, তা উল্লেখ করলে কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। বেগম জিয়া যখন মৃত্যুশয্যায়, ওই সময়ে তারেক রহমান একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন। আবেগঘন সেই ফেসবুক পোস্টের মধ্যে একটি উল্লেখ করার মতো লাইন ছিল, “আমার ফেরার বিষয়টি আমার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না।” তারপরে ইউনূস-২ কীভাবে কার্যকর হয়েছে এবং এই ইউনূস-২-এর রূপ কী, তা সকলেই দেখতে পাচ্ছেন।
তারেক রহমানের ফেরা, তাঁর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক—সবকিছুর পরেও এখনও বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি নিয়ে যে বিষয়টি আলোচনায়, তা কিন্তু অন্য অনেক দেশের মতো সীমান্ত, নৌপথ বা সমুদ্রবন্দর, সমুদ্রপথে চলাচল ইত্যাদি —সে সব কিছু নয়। বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি নিয়ে আলোচনার মূল বিষয় দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা।
এমনকি ২০২৪-এ বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের পরে এই পরিবর্তনের পক্ষে দেশে ও দেশের বাইরে যারা সমর্থন করেছিলেন বা কথা বলেছিলেন, তারাও যে এই দেশে মানুষের ভোটাধিকার চায় বা ভালো নির্বাচন চায়, তাও সত্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো একটি প্রহসনের নির্বাচনকে নির্বাচন ও গণতন্ত্রে ফেরা বলার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়ে গেছে, বাস্তবে তাদেরও চাওয়া নির্বাচন বা ভোটাধিকার প্রয়োগ নয়।
তাছাড়া গত এক দশকে গণতন্ত্রের পিতৃভূমি ব্রিটেনে ঘন ঘন সাধারণ নির্বাচন, ব্রেক্সিট প্রশ্নে গণভোট এবং ভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত—সর্বোপরি গত দশ বছরে ৭ জন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ফল পৃথিবী দেখতে পাচ্ছে। ব্রিটেনের মানুষের গণভোটের মাধ্যমে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্বাচনের পরেও কোনো স্থিতিশীল সরকার না হওয়ায় সেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন শুধু থেমে যায়নি, পেছনে চলে গেছে। প্রতিদিন দারিদ্র্য বাড়ছে।
ব্রিটেনের এই রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ হচ্ছে। এইসব বিশ্লেষণের ভেতর দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য। যেমন কিছু বিশ্লেষক বলেছেন, ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সরকার পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু সরকারে বসেই বড় চ্যালেঞ্জ সামনে আসে—রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা। এবং কোনো রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—সবই নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালকের যোগ্যতার ওপর। আর এই যোগ্যতার সব থেকে বড় দিক হলো, তিনি রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজকে কতটা স্থিতিশীল রাখতে পারবেন, তার ওপর। এ বিশ্লেষকদের কথার যথার্থতা মিলছে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সর্বশেষ লেখাটির মধ্য দিয়ে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান হওয়ার আগে অনেক ভালো ভালো পরিকল্পনার কথা বলা যায়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরেই দেখা যায় বাস্তবতা ভিন্ন, এবং তখনই প্রশ্ন আসে যোগ্যতার ও দক্ষতার। পৃথিবীতে ব্যর্থতাই সঠিক কিছু চেনার সব থেকে বড় সুযোগ। ঋষি সুনাক অর্থনৈতিক সংস্কারের কর্মসূচি দিয়ে অনেকটা দলের মধ্যে রাজনৈতিক ক্যু সৃষ্টি করে অর্থমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এ কারণে বর্তমানের এ উপলব্ধি তাঁর ব্যর্থতা থেকেই। তাই তাঁর এ অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতেই হবে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো হয়েছিল ভালো ভোট না হওয়ার ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে, ছাত্রদের মধ্যে সরকারি চাকরি নিয়ে একটা ক্যামোফ্লাজ তৈরি করে, এর সঙ্গে পুলিশ হত্যা, বিজিবি, সামরিক বাহিনীর সদস্য হত্যা, অজানা স্নাইপার রাইফেল হত্যা, সর্বোপরি রোহিঙ্গা ও বিহারি জনগোষ্ঠীকে লুটতরাজ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংসের কাজে লাগিয়ে।
এই কাজের সফলতার এখন অনেক দাবিদার। এবারের জুলাই পালনে দেখা গেল, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন, তাঁদের নেতার টেলিফোন নির্দেশে তাঁরা কীভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণসহ সবকিছু করে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। ইউনূস দাবি করছেন, এটা তাঁর “অ্যামেজিং মেটিকুলাস ডিজাইনের ফসল”। এবং সে কারণে এখনও রাষ্ট্র তাঁকে সম্মান ও প্রোটেকশন দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, সরকার উৎখাতের মূল দাবিদার তারা। আবার এই তিন শক্তি কিন্তু মূলত ন্যাচারাল অ্যালাই। এদের মধ্যে বাস্তবে কোনো পার্থক্য নেই।
এর ভেতর আবার সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী একটি তত্ত্ব দিয়েছেন, বাংলাদেশে এ ধরনের রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন হলে বিএনপি লাভবান হয়। অর্থাৎ ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বিএনপি সৃষ্টি করেছেন। ৯০-এ এরশাদের পতনের পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এবার শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের পরে প্রথমে ইউনূস, এখন তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায়। এভাবে তিনি লাভের পাল্লা বিএনপির দিকে দেখাচ্ছেন।
এর আবার একটি বিপরীত দিকও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আছে। ১৯৭০-এ নির্বাচনে জেতার পরে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতা না দিয়ে ইয়াহিয়া দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তার ফলে পাকিস্তানই ভেঙে যায়। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ সৃষ্টি করে এবং ক্ষমতায় যায়। ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বিএনপি নির্বাচন করেছিল, যার ফল দেখা যায় বাংলাদেশের ইতিহাসে—বিএনপি ওই সময়ে সব থেকে সংক্ষিপ্ত সময় ক্ষমতায় থাকে এবং আওয়ামী লীগ ২১ বছর পরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। আবার ২০০৭-এ আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বিএনপি নির্বাচন করার চেষ্টা করলে দেশে ১/১১ হয় এবং তার দুই বছর পরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকে।
অন্যদিকে বিএনপি যে তিনবার ক্ষমতায় এসেছে, তিনবারই দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। জিয়াউর রহমানের সময়টা গেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার একটা চেষ্টার মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমান নিজের জীবন দিয়েও সেটা করতে পারেননি। বিএনপির ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬-এর শাসনের প্রায় শুরুতেই মীরপুর ও মাগুরা উপনির্বাচনে বড় মাপের দৃশ্যমান কারচুপি—যার ভেতর দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি অরাজনৈতিক সরকার গঠনের দাবি সামনে চলে আসে। আর তাই ঘিরে দুই বছরের বেশি সময় বিরোধী দলের পার্লামেন্ট বয়কট ও রাজপথে তীব্র আন্দোলন। অর্থাৎ বিএনপি স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। এর পরে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। সে সময় ৬৩ জেলায় ৫৫৪টি বোমা এক দিনে বিস্ফোরণ, বাংলা ভাই, শায়েখ আব্দুর রহমানের মতো জঙ্গির উত্থান, ২১ আগস্ট দিনের আলোয় বিরোধী দলীয় নেতাদের হত্যা করা ও মূল নেতাকে হত্যার সর্বোচ্চ চেষ্টা, চট্টগ্রাম বন্দরে রাতের আঁধারে দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র নামা—সব মিলিয়ে বিএনপি দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি।
সে সময়ে টাইম ম্যাগাজিন যেমন বাংলাদেশকে টেরোরিজমের কোকুন (জন্মগুটিকা) বলে আখ্যায়িত করেছিল, লাদেনের বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে রিপোর্ট হয়েছিল বিদেশি মিডিয়ায়। তেমনি তারেক রহমান দেশে ফেরার পরে টাইম ম্যাগাজিন তারেক রহমানকে নিয়ে যে কভার স্টোরি করে, তার শিরোনাম না হয় নাই উল্লেখ করা হোক; কিন্তু ভেতরে তারা লিখেছিল, তাঁর মা দুইবার ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু তাঁর শাসনামলের কোনো উজ্জ্বলতা নেই।
এবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে নির্বাচনের ভেতর দিয়ে। এই নির্বাচনের ফল নিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার আগের ফেসবুক স্ট্যাটাস না হয় নাই বা মেলানো হলো। তারপরেও দেখা যাচ্ছে, মে মাসের ৩০ তারিখ অবধি দেশের আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারসহ সেনাবাহিনী রাজপথে ছিল। আবার ২২ জুন থেকে ৩০ জুন অবধি তিন মেট্রোপলিটন সিটিসহ আরও ছয় জেলায় সেনাবাহিনী নামানো হয়।
এর দুই সপ্তাহের মধ্যে আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের জিডিপি ৩.৫ হবে এ প্রান্তিকে এবং পরবর্তী প্রান্তিকে সেটা যেভাবে দেশ চলছে, এভাবে চললে ৩-এর নিচে নেমে যাবে। এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর অনেকে তাদের নিউজের ভাষা এমন ব্যবহার করেছে, যে দেশটির একটি ঊর্ধ্বগতির—অর্থাৎ ৬.৫-এর ওপরের—জিডিপি ধরে রাখার গল্প ছিল তিন বছর আগে; সে দেশটির জিডিপি এখন ৩-এর নিচে নেমে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এই লেখা যখন লিখছি, সে সময় অবধি তাঁর সর্বশেষ যে সাক্ষাৎকার রয়টার্সকে দিয়েছেন, ওই সাক্ষাৎকারসহ রিপোর্টে রয়টার্স লিখছে, যে সময়ে বাংলাদেশ সরকার স্থিতিশীলতা তৈরির একটা চেষ্টা করছে, সে সময়ে শেখ হাসিনার এই দেশে ফেরার ঘোষণা। এবং তাঁর ফেরার পরে দেশের স্থিতিশীলতার অবস্থা কী হবে—এমন একটি আশঙ্কার প্রকাশ লাইনগুলোর অন্তর্নিহিত অর্থে আছে।
এখন অবধি যা তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য উপাদান মিলছে, তাতে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন—এটা নিশ্চিতই। এবং তিনি যা বলেছেন, অর্থাৎ ডিসেম্বর নাগাদ—তাই এটা ডিসেম্বরের আগে বা ডিসেম্বরের কাছাকাছি যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে।
এখন শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সরকার কীভাবে হ্যান্ডেল করবে, সেখানে কতটা রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে, তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এখানেও দেশের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। ভূ-রাজনৈতিক না হয় বাদই দেওয়া গেল।
কিন্তু এটা তো ঠিক, সেপ্টেম্বরের দিকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আরও বাড়বে। যার ফলে তেলের দাম, সারের দামসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। আবার হুথিদের সৌদি আক্রমণের পরে পাকিস্তান যে জবাব দিয়েছে, তাতে পাকিস্তান যে কোনো সময় ওই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান সমস্যা আর বিচ্ছিন্নতাবাদী সমস্যা নেই, এটা রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মিয়ানমার সীমান্তের আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারের যুদ্ধও সেপ্টেম্বর নাগাদ যে বড় আকার নেবে, তার ইঙ্গিত মিলছে।
তাছাড়া, পৃথিবীতে মাঝখানে যে ধর্মীয় রাজনীতির বা ধর্মীয় মোড়কের রাজনীতির একটা ধারা দেখা যাচ্ছিল, তার খোলস পড়ে গেছে। ধর্মীয় রাজনীতি বা ধর্মীয় মোড়কের রাজনীতি যে গণতন্ত্র বা জাতীয়তাবাদের মতো সফট পাওয়ার নয়, এটা মূলত তরবারি দিয়ে রাষ্ট্র দখলের মতোই এক ধরনের হার্ড পাওয়ার, তা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
এ সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও বিএনপি-জামায়াতের আমলের অতীত নির্বাচনের ইতিহাস মিলিয়ে জামায়াত-বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের মতো সফট পাওয়ার আর নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামের এই সব তথাকথিত ধর্মীয় মোড়কের জাতীয়তাবাদগুলো অনেকটা তরবারির মতোই হয়ে যাচ্ছে গোটা পৃথিবীতে। সেখানে সরকারের হাতে স্থিতিশীলতার জন্য সফট পাওয়ার বলতে কী থাকবে আর?
অথচ এ মুহূর্তে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের অর্থনীতির মূল দাবি বাংলাদেশের কাছে স্থিতিশীলতা।
লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সম্পাদক, সারাক্ষণ, The Present World।
স্বদেশ রায় 


















