রাজধানীর বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া ও মেসে বসবাসকারী সবাইকে নাগরিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পুলিশের দাবি, নাগরিকদের সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি হলে অপরাধ দমন, তদন্ত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
এখন পর্যন্ত এই ব্যবস্থায় প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবার নিবন্ধিত হয়েছে। এসব পরিবারের মাধ্যমে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য পুলিশের তথ্যভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। তবে রাজধানীর সব বাসিন্দাকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনতে নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নিরাপত্তা জোরদারে নাগরিক তথ্যভান্ডার
নাগরিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর বাসিন্দাদের সঠিক পরিচয় ও বসবাসের তথ্য সংরক্ষণ করা। পুলিশের কাছে এসব তথ্য থাকলে এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও কার্যকর করা সম্ভব হয়।
একই সঙ্গে কোনো অপরাধের তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত, সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাচাই কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহেও এই তথ্যভান্ডার সহায়তা করে।

২০১৬ সালে শুরু কার্যক্রম
রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় প্রথম এই কার্যক্রম চালু করা হয়। পরের বছর ঢাকার সব থানায় তা সম্প্রসারণ করা হয়। নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০১৯ সালে চালু করা হয় মোবাইলভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থাও।
পুলিশ বলছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রমের সঙ্গে নাগরিক তথ্যভান্ডারকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হচ্ছে।
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারও সুবিধা
এই নিবন্ধন ব্যবস্থায় বাড়ির মালিকদেরও সুবিধা রয়েছে। ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় অপরাধী বা প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেওয়ার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়ার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকায় বাড়ির মালিকরাও বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন।
অন্যদিকে ভাড়াটিয়ারাও নিজ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। প্রয়োজনের সময় পুলিশি সহায়তা বা আইনি পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক কাজে আসে।

ঠিকানা বদলালে নতুন করে নিবন্ধন
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় একাধিক বিট রয়েছে। প্রতিটি বিটের দায়িত্বে রয়েছেন নির্দিষ্ট কর্মকর্তা। কোনো বাসিন্দার ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন ঠিকানার আওতাধীন থানায় আবার নিবন্ধন করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিবন্ধনের জন্য ঢাকার সব থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে নির্ধারিত ফরম পাওয়া যায়। ফরম সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতের প্রয়োজনে পূরণ করা ফরমের একটি অনুলিপি নিজের কাছে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ দমনে বাড়ছে কার্যকারিতা
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে পলাতক অপরাধীদের শনাক্ত করা, সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাচাই এবং অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি বিটভিত্তিক পুলিশি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হওয়ায় নাগরিক ও পুলিশের মধ্যে যোগাযোগ এবং আস্থাও বাড়ছে।
রাজধানীকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও অপরাধমুক্ত করতে বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া এবং মেসে থাকা সবাইকে নাগরিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















