ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের পদত্যাগ দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকদের একটি অংশ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দেন।
প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ
বিক্ষোভকারীরা নিজেদের সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তারা ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অবিলম্বে পদত্যাগ, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে অপসারণ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের বক্তব্য, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

নতুন চেয়ারম্যান নিয়ে আপত্তি
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকটিকে আবারও আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
গ্রাহক প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেন, অতীতে চাকরিচ্যুত কিছু কর্মকর্তার ব্যাংক প্রাঙ্গণে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে এবং ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
আগের দিনের কর্মসূচিতে উত্তেজনা
এর আগের দিন একই স্থানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর শুরু অসন্তোষ
সম্প্রতি ব্যাংকটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর থেকেই অসন্তোষ দেখা দেয়। ঈদুল আজহার ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। পরে একই রাতে সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঈদের ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই আন্দোলন শুরু হয়।
ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালেই সোমবার রাতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একটি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কয়েকজন পরিচালক অংশ নেন। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















