লেবাননে চলমান উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এক সমঝোতায় পৌঁছেছে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। এর ফলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্পরিক হামলা বন্ধের এই উদ্যোগে উভয় পক্ষই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। সমঝোতার আওতায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং ইসরায়েলও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক হামলা চালাবে না।
বৈরুতকে ঘিরে নতুন সমঝোতা

লেবাননের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছে। শুধু রাজধানী বৈরুত নয়, ভবিষ্যতে এই সমঝোতা পুরো লেবাননে বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। নতুন এই সমঝোতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর সতর্ক বার্তা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি হিজবুল্লাহ আবারও ইসরায়েলের শহর বা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে বৈরুতেও পুনরায় হামলা হতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আপাতত অব্যাহত থাকবে। ফলে সামগ্রিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সীমান্তে উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান
সমঝোতার ঘোষণা এলেও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের খবর থেমে নেই। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও গোলাবর্ষণ করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন পক্ষ এখন উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তাদের মতে, লেবানন ফ্রন্টে পরিস্থিতি শান্ত রাখা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা সীমিত করার এই সমঝোতা তাই কেবল দুই পক্ষের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















