০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি চুলে রুপালি ঝিলিক, মুকুটে রাজকীয় ছোঁয়া—সুকি ওয়াটারহাউসের নতুন ‘ডিস্কো’ লুক ৫৫ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার, ৫৬-তে আকাশে উড়ছেন ক্রেইগ এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর দাবি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দ্বিতীয় পর্বশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষক দিবসে কচি-কাঁচা একাডেমিতে অভিভাবক সভা নতুন মুখ, নতুন অর্থ: মিয়ানমারের বদলে যাওয়া সম্পদের গল্প উজবেকিস্তানে মিলল প্রাচীন অগ্নিবেদির সন্ধান, জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মা হলেই কেন এত বিচার? ‘খারাপ মা’ হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তেজগাঁওয়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি-সম্পর্কের অভিযোগে আটক ২৩ জনের ১১ জন মুক্ত, ১২ জন আদালতে ভারতে ২০২৭ সালেই আসছে প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

জেন জেড: পরিচয়ের নয়, মানসিকতার নতুন রাজনৈতিক শক্তি

ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক ধরনের ভোটার শ্রেণির উত্থান ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ নরেশ অরোরা। তাঁর মতে, জেন জেড বা তরুণ প্রজন্মকে কেবল প্রথমবারের ভোটার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এই প্রজন্মকে বোঝার জন্য প্রয়োজন তাদের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া।

সম্প্রতি দিল্লির জনতার মঞ্চে হওয়া বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক তরুণের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে অরোরা বলেন, জেন জেড ভারতের প্রথম রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যাদের পরিচয় নির্ধারিত হচ্ছে না জাত, ধর্ম বা প্রচলিত রাজনৈতিক মতাদর্শ দিয়ে; বরং তাদের অভিন্ন মানসিকতা ও ইস্যুভিত্তিক অবস্থানের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, এই প্রজন্ম কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আনুগত্যের চেয়ে নির্দিষ্ট ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একটি বিষয়ে তারা কোনো দলের পাশে দাঁড়াতে পারে, আবার অন্য কোনো বিষয়ে সেই দলের বিরোধিতাও করতে পারে। তাদের কাছে এটি কোনো বৈপরীত্য নয়।

ডিজিটাল যুগের মতো রাজনীতি চায় তরুণরা

নরেশ অরোরার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জেন জেডকে শুধু নতুন ভোটার হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে তারা বড় ভুল করবে। এই প্রজন্ম এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মতো দ্রুত সাড়া দেবে এবং মানুষের সমস্যার প্রতি তাৎক্ষণিক মনোযোগ দেবে।

তিনি বলেন, তরুণদের কাছে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। তারা রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়।

বিক্ষোভের পেছনে জমে থাকা ক্ষোভ

কক্‌রোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে তরুণদের যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা সংগঠনের কারণে নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন অরোরা।

তাঁর মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ছিল কেবল একটি তাৎক্ষণিক কারণ। এর পেছনে ছিল তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর অবিশ্বাস। অনেক তরুণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে শুধু প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে দেখছে না, তারা এটিকে নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, একজন ২০ বছর বয়সী তরুণের কাছে দুর্নীতি শুধু একটি অসুবিধা নয়, এটি ন্যায্যতার বিরুদ্ধে একটি আঘাত।

নেতৃত্বহীন আন্দোলনের নতুন ধারা

অরোরা বলেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অন্যতম শক্তি ছিল এর বিকেন্দ্রীভূত ও নেতৃত্বহীন চরিত্র। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের অধীনে না থেকেও তরুণরা একটি সাধারণ দাবিকে কেন্দ্র করে একত্রিত হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার বা বিরোধী দল—কেউ যেন এই আন্দোলনের অর্থকে সরলভাবে ব্যাখ্যা না করে। সরকারের জন্য এটি শুধু একটি পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা নয়; এটি মানুষের আস্থার সংকট।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর জন্যও এই ক্ষোভকে সরাসরি নির্বাচনী লাভ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জেন জেড পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই মূল্যায়ন করছে।

তরুণদের আস্থা ফেরাতে হবে

নরেশ অরোরার মতে, যে রাজনৈতিক শক্তি এই প্রজন্মের সমর্থন পাবে, তাদের সবচেয়ে বড় কাজ হবে তরুণদের বিশ্বাস করানো যে পরিশ্রম ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্য আবারও নিশ্চিত করা হবে।

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জেন জেড একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠবে। এই প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে হলে শুধু পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচার, সুযোগের সমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে অবস্থান নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গেরান-৫: নতুন রুশ ড্রোনে ন্যাটোর সীমান্তে বাড়ছে অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের ঝুঁকি

জেন জেড: পরিচয়ের নয়, মানসিকতার নতুন রাজনৈতিক শক্তি

০৯:২৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক ধরনের ভোটার শ্রেণির উত্থান ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ নরেশ অরোরা। তাঁর মতে, জেন জেড বা তরুণ প্রজন্মকে কেবল প্রথমবারের ভোটার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এই প্রজন্মকে বোঝার জন্য প্রয়োজন তাদের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া।

সম্প্রতি দিল্লির জনতার মঞ্চে হওয়া বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক তরুণের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে অরোরা বলেন, জেন জেড ভারতের প্রথম রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যাদের পরিচয় নির্ধারিত হচ্ছে না জাত, ধর্ম বা প্রচলিত রাজনৈতিক মতাদর্শ দিয়ে; বরং তাদের অভিন্ন মানসিকতা ও ইস্যুভিত্তিক অবস্থানের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, এই প্রজন্ম কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আনুগত্যের চেয়ে নির্দিষ্ট ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একটি বিষয়ে তারা কোনো দলের পাশে দাঁড়াতে পারে, আবার অন্য কোনো বিষয়ে সেই দলের বিরোধিতাও করতে পারে। তাদের কাছে এটি কোনো বৈপরীত্য নয়।

ডিজিটাল যুগের মতো রাজনীতি চায় তরুণরা

নরেশ অরোরার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জেন জেডকে শুধু নতুন ভোটার হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে তারা বড় ভুল করবে। এই প্রজন্ম এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মতো দ্রুত সাড়া দেবে এবং মানুষের সমস্যার প্রতি তাৎক্ষণিক মনোযোগ দেবে।

তিনি বলেন, তরুণদের কাছে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। তারা রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়।

বিক্ষোভের পেছনে জমে থাকা ক্ষোভ

কক্‌রোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে তরুণদের যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা সংগঠনের কারণে নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন অরোরা।

তাঁর মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ছিল কেবল একটি তাৎক্ষণিক কারণ। এর পেছনে ছিল তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া গভীর অবিশ্বাস। অনেক তরুণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে শুধু প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে দেখছে না, তারা এটিকে নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, একজন ২০ বছর বয়সী তরুণের কাছে দুর্নীতি শুধু একটি অসুবিধা নয়, এটি ন্যায্যতার বিরুদ্ধে একটি আঘাত।

নেতৃত্বহীন আন্দোলনের নতুন ধারা

অরোরা বলেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অন্যতম শক্তি ছিল এর বিকেন্দ্রীভূত ও নেতৃত্বহীন চরিত্র। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের অধীনে না থেকেও তরুণরা একটি সাধারণ দাবিকে কেন্দ্র করে একত্রিত হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার বা বিরোধী দল—কেউ যেন এই আন্দোলনের অর্থকে সরলভাবে ব্যাখ্যা না করে। সরকারের জন্য এটি শুধু একটি পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা নয়; এটি মানুষের আস্থার সংকট।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর জন্যও এই ক্ষোভকে সরাসরি নির্বাচনী লাভ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জেন জেড পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই মূল্যায়ন করছে।

তরুণদের আস্থা ফেরাতে হবে

নরেশ অরোরার মতে, যে রাজনৈতিক শক্তি এই প্রজন্মের সমর্থন পাবে, তাদের সবচেয়ে বড় কাজ হবে তরুণদের বিশ্বাস করানো যে পরিশ্রম ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্য আবারও নিশ্চিত করা হবে।

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জেন জেড একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠবে। এই প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে হলে শুধু পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়বিচার, সুযোগের সমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে অবস্থান নিতে হবে।