ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে এক দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেন, তাহলে সেই রায় কার্যকরে তারা প্রস্তুত থাকবেন।
শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রসঙ্গ
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ১,৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য এবং ৩০ হাজার আহত যোদ্ধা শেখ হাসিনার বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান করবেন, যদি তিনি দেশে ফিরে আসেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তার ভাষায়, এসব পরিবার জাতির সম্পদ; তারা কোনো ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছেন।
সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান বিএনপি সরকারও অতীতের আওয়ামী লীগের মতো নিজেদের অনিয়ম আড়াল করছে। তার দাবি, বিএনপির নেতারাই স্বীকার করেছেন যে গত পাঁচ মাসে ঘুষ ও দুর্নীতির চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং অন্যদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে, যা অতীতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রচারিত বয়ানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জনদুর্ভোগ ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ এখনো দুর্ভোগে রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। গত দুই বছরে একমাত্র পরিবর্তন হয়েছে—তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য
নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ক্ষমতা অর্জন নয়। বরং তারা ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা’ বিলোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আবারও স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়কের প্রধান সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতু, প্রধান সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে এনসিপির আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে ফাঁসি, বিচার, শহীদ পরিবার এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















