বিশ্বখ্যাত মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রথম আয়-প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের মতামত জানার জন্য চালু করা অনলাইন প্রশ্নমঞ্চে তৈরি হয়েছে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। গুরুতর ব্যবসায়িক প্রশ্নের পাশাপাশি সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে মিম, ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচারণা এবং প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয় কুকুর আকৃতির খেলনা ‘অ্যাস্টেরয়েড’ নিয়ে নানা পোস্ট।
স্পেসএক্স প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য কোম্পানি হিসেবে আয়-প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহের জন্য একটি অনলাইন মঞ্চ তৈরি করে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, এই মঞ্চ তৈরিতে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের বদলে সেখানে অনেক পোস্টে উঠে এসেছে হাস্যরস, ক্রিপ্টো সম্পর্কিত আলোচনা এবং অ্যাস্টেরয়েড নামের প্রতিষ্ঠানের প্রতীকী চরিত্র নিয়ে নানা অনুরোধ।
রকেটের রং থেকে মঙ্গলযাত্রা—অদ্ভুত সব প্রশ্ন
প্রশ্নমঞ্চে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া কয়েকটি প্রশ্নের মধ্যে ছিল, “অ্যাস্টেরয়েড কি মঙ্গলে যাবে?” আবার কেউ কেউ স্পেসএক্সকে তাদের শিবা ইনু আকৃতির খেলনার নতুন সংস্করণ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
আরেকজন প্রশ্ন করেছেন, “রকেট কি গোলাপি রঙে রাঙানো যাবে?”
স্পেসএক্স ৩৫ ডলারে অ্যাস্টেরয়েড নামের এই খেলনা বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভক্তদের মধ্যে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তবে এই প্রশ্নকারীদের সবাই প্রকৃত বিনিয়োগকারী কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ মঞ্চটিতে যে কেউ নিবন্ধন করে প্রশ্ন জমা দিতে পারছে বলে দেখা গেছে।
ক্রিপ্টো প্রচারণায় বিরক্ত প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা
প্রশ্নমঞ্চে অনেক পোস্টে ‘বেবি অ্যাস্টেরয়েড’ নামের একটি ছোট ক্রিপ্টো মুদ্রার প্রচারণা দেখা গেছে। এই মুদ্রাটি বাজারমূল্যের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ আট হাজার ক্রিপ্টো মুদ্রার মধ্যেও নেই।
তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর দাম এক পর্যায়ে ২৬২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরে আবার বেশিরভাগ মূল্য হারায়।
মোট ৩৭১টি প্রশ্নের মধ্যে প্রায় ২০টিতে অ্যাস্টেরয়েড সম্পর্কিত ক্রিপ্টো প্রচারণার উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। এতে অনেক গুরুতর বিনিয়োগকারী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, প্রকৃত বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের পরিবর্তে অনেকে শুধু অ্যাস্টেরয়েড মুদ্রার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও এসেছে
সব প্রশ্ন অবশ্যই মজার বা অপ্রাসঙ্গিক ছিল না। অনেক বিনিয়োগকারী স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে চেয়েছেন।
এর মধ্যে ছিল স্টারশিপ রকেটের কক্ষপথে জ্বালানি সরবরাহ পরীক্ষার অগ্রগতি এবং চাঁদে মানুষ ফেরানোর জন্য মার্কিন মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চুক্তির অবস্থা।
কিছু বিনিয়োগকারী ইলন মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলার সঙ্গে স্পেসএক্স একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন। এর আগে এমন গুঞ্জন টেসলার বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
কেউ কেউ আবার ভবিষ্যতে মহাকাশ থেকে সরাসরি আয়-প্রতিবেদন পরিচালনার মতো কল্পনাপ্রসূত প্রশ্নও তুলেছেন।
ইলন মাস্কের ভক্তদের প্রভাব
স্পেসএক্সের ইতিহাসে ভক্তদের অদ্ভুত প্রস্তাব বাস্তবায়নের নজির রয়েছে। ইলন মাস্ক এর আগে নিজের বৈদ্যুতিক গাড়ি মহাকাশে পাঠিয়েছেন এবং ব্যবহারকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী গাড়িতে নতুন সুবিধাও যুক্ত করেছেন।
তাই কিছু অস্বাভাবিক প্রশ্ন পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়।
প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে স্পেসএক্স
প্রকাশ্য কোম্পানি হিসেবে স্পেসএক্সের জন্য আসন্ন আয়-প্রতিবেদন একটি বড় পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৭০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ৬ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শেয়ার বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর ফলে প্রায় এক হাজার কোটি ডলারের শেয়ার বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে স্পেসএক্সের শেয়ারের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। জুনে প্রাথমিক উত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মোট মূল্যায়ন ইতোমধ্যে বড় ধরনের পতনের মুখ দেখেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















