বছরের পর বছর থেরাপি নেওয়ার পরও যদি কারও আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তাহলে কি সেই থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ থাকে? এই প্রশ্নই তুলেছিলেন ৩৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের এক নারী, যিনি মনে করেন তাঁর স্বামীর দীর্ঘদিনের থেরাপি তাদের আর্থিক ও মানসিক চাপ বাড়ালেও বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। মনোচিকিৎসক ও লেখক লরি গটলিব তাঁর উত্তরে দেখিয়েছেন, থেরাপির মূল্যায়ন সব সময় দৃশ্যমান পরিবর্তনের মাপকাঠিতে করা যায় না।
দীর্ঘ থেরাপি, অল্প পরিবর্তন
চিঠিতে ওই নারী জানান, তাঁর স্বামী ১৭ বছর ধরে সাপ্তাহিক সরাসরি মনোচিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ছিল উদ্বেগ, দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত আয় করার বিষয়ে অনাগ্রহ। স্ত্রী মনে করেন, এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও স্বামীর আচরণ বা ব্যক্তিত্বে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
কয়েক বছর আগে সেই থেরাপি বন্ধ হলেও দুই বছর আগে তিনি আবার অনলাইন থেরাপি শুরু করেন। এখন নিয়মিত বীমা দাবি জমা দিলেও চিকিৎসার পেছনে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্বামী মনে করেন, তারা এই ব্যয় বহন করতে সক্ষম। কিন্তু স্ত্রী প্রশ্ন তুলছেন—যদি ফলই না আসে, তাহলে আর কতদিন?
আসল সমস্যা কি অর্থ?
লরি গটলিব প্রথমেই বলেন, থেরাপি বন্ধ করার আগে বুঝতে হবে আসল উদ্বেগটি কোথায়। এটি কি সত্যিই অর্থের বিষয়, নাকি অর্থ ব্যয়ের প্রতি ক্ষোভ?
যদি চিকিৎসার খরচ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়, তাহলে কম ব্যয়সাপেক্ষ বিকল্প খোঁজা যৌক্তিক হতে পারে। কিন্তু যদি খরচ বহন করা সম্ভব হয় এবং আপত্তি মূলত অর্থ অন্য কোথাও ব্যয় করার ইচ্ছা থেকে আসে, তাহলে সেটি দাম্পত্য জীবনের আর্থিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনার বিষয়।
পরিবর্তন মানেই কি আচরণগত পরিবর্তন?
স্ত্রীর কাছে অগ্রগতির অর্থ হলো আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন। কিন্তু গটলিব মনে করিয়ে দেন, স্বামীর ক্ষেত্রে মনোযোগ ঘাটতিজনিত সমস্যা থাকতে পারে, যা বর্তমানে এডিএইচডির এক ধরনের রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ধরনের অবস্থায় ওষুধ কিছু মানুষের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে ওষুধ উপযুক্ত না হলে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ব্যবহার সম্ভব না হলে থেরাপির লক্ষ্য আচরণ পুরোপুরি বদলে দেওয়া নয়, বরং সেই সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা।
থেরাপির অদৃশ্য উপকারিতা
গটলিবের মতে, অনেক মানুষ থেরাপিতে যান শুধু জীবন বদলে ফেলার জন্য নয়। কেউ সেখানে মানসিক ভারসাম্য খুঁজে পান, কেউ উদ্বেগ কমানোর সুযোগ পান, কেউ আবার বার্ধক্য, মৃত্যু বা জীবনের অসমাপ্ত অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে নিরাপদ পরিবেশে কথা বলার সুযোগ পান।
স্বামীর থেরাপিকে “অপ্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন” হিসেবে দেখার প্রবণতা হয়তো তাঁর নিজের অতীত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। কারণ একসময় তিনিও এমন একজন সঙ্গীকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, যিনি তাঁর থেরাপি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

যা বদলায়নি, তার বাইরেও কিছু আছে
গটলিব উল্লেখ করেন, পরিবর্তন সব সময় বড় বা নাটকীয় হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি দেখান, আগে যিনি বীমার অর্থ ফেরতের আবেদনই করতেন না, এখন অন্তত নিয়মিত তা করছেন। এই ধরনের ছোট পরিবর্তনও অগ্রগতির অংশ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, থেরাপি না থাকলে স্বামীর মানসিক অবস্থা কেমন হতো, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। কারণ একবার থেরাপি বন্ধ করার পর তিনি নিজেই আবার ফিরে গেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি কোনো না কোনো উপকার পাচ্ছেন।
দাম্পত্যে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন
স্ত্রীর ক্লান্তি ও হতাশাকে অস্বীকার না করেও গটলিব বলেন, সমস্যার সমাধান সব সময় সঙ্গীকে বদলানো নয়। কখনও কখনও বাস্তবতা মেনে নিয়ে সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা বেশি কার্যকর হতে পারে। যেমন আর্থিক বা প্রশাসনিক কাজের জন্য বাইরের সহায়তা নেওয়া।
সবশেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি যে তিনি তাঁর স্বামীকে হারাতে চান না। ৩৮ বছরের সম্পর্কে এখনও ভালোবাসা, মমতা ও পারস্পরিক মূল্যবোধ রয়েছে। তাই জীবনের এই পর্যায়ে হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কী বদলানো সম্ভব, আর কী মেনে নিয়ে বাকি সময়টুকু অর্থবহ করে তোলা যায়।
থেরাপি কাজ না করলে কি বন্ধ করবেন
মানসিক স্বাস্থ্য, দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞ বলছেন, পরিবর্তন সব সময় চোখে পড়ে না।
থেরাপিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলেও তা মানসিক স্থিতি, উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। সম্পর্ক, অর্থ ও প্রত্যাশার ভারসাম্য নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত।
থেরাপি কাজ না করলে কি বন্ধ করবেন
থেরাপিতে বছর কেটেও দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে সেটি কি ব্যর্থতা? বিশেষজ্ঞের মতে, উত্তর এতটা সহজ নয়।
দাম্পত্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি নিয়ে এই আলোচনায় উঠে এসেছে এমন কিছু প্রশ্ন, যা অনেক পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















