০৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
আমাজনের বনের গভীরে লুকিয়ে থাকা হাজার বছরের রহস্য, লেজারে মিলল প্রাচীন সভ্যতার বিস্ময়কর নিদর্শন দক্ষিণ কোরিয়া–যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বিভ্রাটের কারণ ছিল যোগাযোগের ভুল বন ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্সে কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ইরানের নতুন কৌশল, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়াতে সক্রিয় মিত্র গোষ্ঠীগুলো মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ? বিষাক্ত উলফসবেইন ও লার্কস্পার ফুলেই নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, ব্যথা-ক্যানসার-ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় আশার আলো আগস্টে আকাশজুড়ে মহাজাগতিক বিস্ময়: দুই গ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি ও বিরল গ্রহ-চাঁদের যুগল দৃশ্য মিশরে ভোররাতে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল কায়রোসহ বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধ জেতার চেয়েও কঠিন: ইরান সংঘাতের শেষ কোথায়? ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত

বিচারক পদ হারালেন ‘অশোভন আচরণে’ অভিযুক্ত বিচারক, কর্মীদের পাঠিয়েছিলেন যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি

যুক্তরাজ্যে আদালতের কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি পাঠানোর অভিযোগে এক জেলা বিচারককে পদচ্যুত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বিচারকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত বিচারক অ্যান্ড্রু সিম্পসন নিউক্যাসল ও সান্ডারল্যান্ডে জেলা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চার বছর ধরে বিচারকের দায়িত্বে থাকা সিম্পসন এর আগে একজন সলিসিটর ছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কেবল ভদ্র ও বন্ধুসুলভ থাকা। তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি আদালতের কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানগত ক্ষমতার প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করেননি।

অভিযোগের সূত্র

বিচার বিভাগীয় আচরণ তদন্ত দপ্তর জানায়, তাদের কাছে অভিযোগ আসে যে সিম্পসন একাধিক কর্মীর সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, তিনি কর্মক্ষেত্রের বাইরে ব্যক্তিগত বিষয়ে কর্মীদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন।

এছাড়া কর্মস্থলের বাইরের সামাজিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবি কর্মীদের পাঠানোর অভিযোগও ওঠে। এসব ছবির মধ্যে একটি ছিল অত্যন্ত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিম্পসনের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগও ছিল। পাশাপাশি তিনি নিজের বিচারিক ই-মেইল ব্যবহার করে এমন একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যেখানে নিজেকে এবং সহকর্মী বিচারকদের সম্পর্কে অত্যন্ত অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল।

সিম্পসন কিছু অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু স্বীকার করলেও তার দাবি ছিল, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে কঠিন সময় পার করা কর্মীদের মানসিকভাবে সহায়তা করা বা তাদের উৎসাহিত করাই ছিল তার লক্ষ্য।

তদন্তে যা উঠে এসেছে

তদন্তকারীরা স্বীকার করেন যে সিম্পসনের উদ্দেশ্য সরাসরি অনৈতিক ছিল না। তবে তার কর্মকাণ্ডকে ‘গুরুতরভাবে ভুল সিদ্ধান্তের ফল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

তার অনুশোচনা প্রকাশ, ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার আশ্বাস, পূর্বের নির্দোষ কর্মজীবন এবং সহকর্মীদের ইতিবাচক মূল্যায়নের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত প্যানেল প্রথমে তাকে তিরস্কারের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কঠোর অবস্থান

পরে মামলাটি পর্যালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি ব্যারোনেস কার এবং তৎকালীন বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। তারা প্যানেলের সুপারিশের সঙ্গে একমত হননি।

তাদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, সিম্পসনের আচরণ ছিল বারবার সংঘটিত, ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল এবং তা আদালতের কর্মীদের মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড কর্মপরিবেশ ও বিচার বিভাগের সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এসব কারণেই তাকে বিচারকের পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে সততা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিচারক অ্যান্ড্রু সিম্পসনের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্মীদের অস্বস্তির বিষয় উঠে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাজনের বনের গভীরে লুকিয়ে থাকা হাজার বছরের রহস্য, লেজারে মিলল প্রাচীন সভ্যতার বিস্ময়কর নিদর্শন

বিচারক পদ হারালেন ‘অশোভন আচরণে’ অভিযুক্ত বিচারক, কর্মীদের পাঠিয়েছিলেন যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি

০৮:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যে আদালতের কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি পাঠানোর অভিযোগে এক জেলা বিচারককে পদচ্যুত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বিচারকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত বিচারক অ্যান্ড্রু সিম্পসন নিউক্যাসল ও সান্ডারল্যান্ডে জেলা বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চার বছর ধরে বিচারকের দায়িত্বে থাকা সিম্পসন এর আগে একজন সলিসিটর ছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কেবল ভদ্র ও বন্ধুসুলভ থাকা। তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি আদালতের কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থানগত ক্ষমতার প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করেননি।

অভিযোগের সূত্র

বিচার বিভাগীয় আচরণ তদন্ত দপ্তর জানায়, তাদের কাছে অভিযোগ আসে যে সিম্পসন একাধিক কর্মীর সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, তিনি কর্মক্ষেত্রের বাইরে ব্যক্তিগত বিষয়ে কর্মীদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন।

এছাড়া কর্মস্থলের বাইরের সামাজিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ছবি কর্মীদের পাঠানোর অভিযোগও ওঠে। এসব ছবির মধ্যে একটি ছিল অত্যন্ত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিম্পসনের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগও ছিল। পাশাপাশি তিনি নিজের বিচারিক ই-মেইল ব্যবহার করে এমন একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যেখানে নিজেকে এবং সহকর্মী বিচারকদের সম্পর্কে অত্যন্ত অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল।

সিম্পসন কিছু অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু স্বীকার করলেও তার দাবি ছিল, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে কঠিন সময় পার করা কর্মীদের মানসিকভাবে সহায়তা করা বা তাদের উৎসাহিত করাই ছিল তার লক্ষ্য।

তদন্তে যা উঠে এসেছে

তদন্তকারীরা স্বীকার করেন যে সিম্পসনের উদ্দেশ্য সরাসরি অনৈতিক ছিল না। তবে তার কর্মকাণ্ডকে ‘গুরুতরভাবে ভুল সিদ্ধান্তের ফল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

তার অনুশোচনা প্রকাশ, ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার আশ্বাস, পূর্বের নির্দোষ কর্মজীবন এবং সহকর্মীদের ইতিবাচক মূল্যায়নের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত প্যানেল প্রথমে তাকে তিরস্কারের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কঠোর অবস্থান

পরে মামলাটি পর্যালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি ব্যারোনেস কার এবং তৎকালীন বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। তারা প্যানেলের সুপারিশের সঙ্গে একমত হননি।

তাদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, সিম্পসনের আচরণ ছিল বারবার সংঘটিত, ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল এবং তা আদালতের কর্মীদের মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড কর্মপরিবেশ ও বিচার বিভাগের সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এসব কারণেই তাকে বিচারকের পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে সততা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিচারক অ্যান্ড্রু সিম্পসনের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্মীদের অস্বস্তির বিষয় উঠে এসেছে।