গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি মার্কিন নজরদারি ড্রোনকে ঘিরে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল, তার মূল কারণ ছিল কর্মপর্যায়ে যোগাযোগের ত্রুটি। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী কোরীয় উপদ্বীপের আন্তঃসীমান্ত এলাকায় একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন শনাক্ত করে। শুরুতে সেটিকে শত্রুপক্ষের ড্রোন বলে ভুল করা হয় এবং সেটি ভূপাতিত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
নিয়মিত মহড়ার অংশ ছিল ড্রোনটি
পরে জানা যায়, ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর এবং এটি সিউলের উত্তরে পাজু এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দক্ষিণ কোরিয়ার মেরিন বাহিনীর সঙ্গে চলমান নিয়মিত যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল।
ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রথম কোরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এই ইউনিটটির দায়িত্বের আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ এলাকা রয়েছে।
বার্তা পেলেও ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়নি
দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনী প্রধানের দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তদন্তে দেখা গেছে ঘটনাটি মূলত আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগের ভুলের কারণে ঘটেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, মহড়ার আগের দিন প্রথম কোরের এক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে খুদে বার্তায় ড্রোনের উড্ডয়ন পরিকল্পনা ও নির্ধারিত উচ্চতার তথ্য পেয়েছিলেন। সেই বার্তার সঙ্গে আগাম লিখিত বিজ্ঞপ্তির ছবিও সংযুক্ত ছিল।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সদস্য উড্ডয়নের উচ্চতা–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি খেয়াল করেননি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তিনি মনে করেছিলেন ড্রোনটি এমন উচ্চতায় উড়বে, যা সেনাবাহিনীর স্থল অভিযান কমান্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন।
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উচ্চতায় উড়েছিল ড্রোন
বাস্তবে ড্রোনটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উচ্চতায় উড়েছিল। ওই উচ্চতায় উড্ডয়নের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনীকে আগাম অবহিত করা এবং তাদের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
ড্রোনটি শনাক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী অল্প সময়ের জন্য ‘দুরুমি’ নামে পরিচিত সামরিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করে, যা সাধারণত শত্রুপক্ষের ড্রোন অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিলে সক্রিয় করা হয়।
আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় বাড়ানো হবে
সামরিক কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অনুমোদনের পরিবর্তে খুদে বার্তার মাধ্যমে আগাম তথ্য আদান–প্রদানের প্রচলিত অভ্যাস উভয় পক্ষের প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা তৈরি করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ড্রোনের উড্ডয়ন পরিকল্পনা আগে লিখিতভাবে জানাতে হয় এবং নির্ধারিত উচ্চতা অনুযায়ী সেনাবাহিনী বা বিমান বাহিনীর অনুমোদন নিতে হয়।
যৌথ বাহিনী প্রধানের দপ্তর জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে এবং বিদ্যমান বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ ঘটনাকে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে দেখছে এবং যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর যোগাযোগের ভুলে ড্রোন বিভ্রাট, তদন্তে উঠে এলো প্রকৃত কারণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















