মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ইরান তার আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে ধাপে ধাপে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় গোপনে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়ালে তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালিয়ে সংঘাতের মূল্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
একের পর এক হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা, সুয়েজ খালের কাছে মিসরের বন্দরে গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন এবং জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অবস্থানরত ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি এবং ওয়াশিংটনকে ইরানবিরোধী অভিযান থামাতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির সময়ই তৈরি হয় পরিকল্পনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে যুদ্ধবিরতির সময় গোপনে এমন একটি কৌশল নির্ধারণ করা হয়, যাতে প্রয়োজনে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো পর্যায়ক্রমে হামলা বাড়াতে পারে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে সংঘাতের নিয়ম বদলে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে নতুন নতুন ফ্রন্ট তৈরি হচ্ছে, যদিও সেগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের অবস্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত একটি সমঝোতা হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখতে পারেন। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুথি, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ধরন এক নয়। কেউ তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও, সবার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করা। যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা এসব গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে সংঘাত বিস্তারের পরিকল্পনা করেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরির চেষ্টা
বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অন্যতম লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি ব্যাহত করা, যাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা
প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিজস্ব লক্ষ্য থাকলেও তারা মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান ও তার মিত্ররা নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















