মিশরে সোমবার ভোররাতে ৫.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাজধানী কায়রো ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন গভর্নরেটে কম্পন অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
দেশটির ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিকস (এনআরআইএজি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রথমে এর মাত্রা ৫.২ বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.৫ এবং সর্বশেষ ৫.৬ নির্ধারণ করা হয়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র সুয়েজের কাছে
এনআরআইএজির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুয়েজ শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে। প্রতিষ্ঠানটি কম্পনের স্থায়িত্ব সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। তবে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ড ধরে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়।
কায়রো মহানগর এলাকা ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি গভর্নরেটে কম্পন টের পাওয়া গেছে, যা অনেক বাসিন্দার মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি করে।

ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
এনআরআইএজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পৌঁছায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও সোমবার সকাল পর্যন্ত ভূমিকম্পজনিত কোনো আহত ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে।
জরুরি প্রস্তুতি জোরদার
ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদ আবদেল-গাফ্ফার জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা সক্রিয় করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে কেন্দ্রীয় সংকট ও জরুরি কার্যক্রম কক্ষ চালু করে দেশের সব গভর্নরেটের জরুরি ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করা হয়, যাতে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
এ ছাড়া দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়া দলগুলোকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রক্ত ও অক্সিজেনের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরও দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে নাগরিকদের নির্ধারিত জরুরি হটলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















