ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়া বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এক ডলারের বিনিময় হার ১৮ হাজার রুপিয়ায় পৌঁছেছে, যা দেশটির মুদ্রার জন্য নতুন রেকর্ড নিম্নস্তর। চলতি বছরে রুপিয়ার মূল্যহ্রাস ৭ শতাংশেরও বেশি হওয়ায় এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স করা মুদ্রায় পরিণত হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রুপিয়ার ওপর, যা গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে।
বাণিজ্য উদ্বৃত্তে বড় ধাক্কা
সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। আমদানি করা তেল ও গ্যাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে, যা আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসার প্রবণতা দেখাচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রার ওপর।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে
ব্যাংক পারমাটার প্রধান অর্থনীতিবিদ যোসুয়া পারদেদে বলেছেন, রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে নয়, বরং ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়নও বেড়ে গেছে।
তার মতে, বাজারে আস্থার ঘাটতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলছে। ফলে তারা রুপিয়াভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি মুনাফা দাবি করছেন অথবা তাদের বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ অব্যাহত
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও দেশীয় আর্থিক বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে রুপিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশের বহিঃখাতের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্যাংকটির মুখপাত্র রামদান ডেনি প্রাকোসো এক বিবৃতিতে বলেন, বাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সব নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করছে।
শেয়ারবাজারেও চাপ
রুপিয়ার পতনের প্রভাব শুধু মুদ্রাবাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের শেয়ারবাজারও বড় চাপের মুখে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে সূচকটি দুর্বল অবস্থানে ছিল এবং এক পর্যায়ে প্রায় ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৬৪৪ পয়েন্টে নেমে আসে। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেখা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















