১১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিউম্যানয়েড রোবটের উন্মাদনায় লাগাম চীনের, আইপিওতে এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস কারখানা ঠান্ডা রাখার বিনিয়োগ, ৪ বছরেই উঠতে পারে খরচ গণহত্যা থেকে বেঁচে ওঠা রোহিঙ্গা তরুণের লড়াই, রাষ্ট্রহীনতা পেরিয়ে নতুন স্বপ্ন হুথি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি রাজশাহী স্টেশনে রাতভর তাণ্ডব, ট্রেন চলাচল বন্ধ—ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী আমেরিকা-চীনের গল্পের লড়াই: বিশ্বকে কে বেশি বিশ্বাসযোগ্য গল্প শোনাতে পারে? ইথিওপিয়ার সমুদ্রপথের সন্ধান: হর্ন অব আফ্রিকায় বদলে যেতে পারে শক্তির সমীকরণ পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি প্রতিরক্ষা সমীকরণ: পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের কৌশলের সামনে নতুন পরীক্ষা মেঘনায় গোসল করতে নেমে যমজ দুই ভাইসহ ৩ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস অঞ্চলের মনোরম গ্লেন অ্যাফ্রিক আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হলো। প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় পর এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বুনো পরিবেশে জন্ম নিয়েছে বিভারের নতুন প্রজন্ম। সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, এটি শুধু একটি প্রাণীর জন্ম নয়; বরং দীর্ঘদিনের পুনঃবন্যায়ন প্রচেষ্টার এক বড় সাফল্যের প্রতীক।

চার শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান

সংরক্ষণ সংস্থা ট্রিজ ফর লাইফ জানিয়েছে, লক বেইন আ মেহধোইন এলাকায় অন্তত দুটি বিভারশাবকের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। বিভারের বাচ্চাদের সাধারণভাবে “কিট” বলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের মে বা জুন মাসে তাদের জন্ম হয়েছে এবং গত কয়েক সপ্তাহে তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের আশ্রয় থেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

এই ঘটনাকে স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পথে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুনঃবন্যায়নের দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল

গত বছরের অক্টোবরে গ্লেন অ্যাফ্রিকে সাতটি বিভার অবমুক্ত করা হয়। এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরও একটি চার সদস্যের বিভার পরিবার সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই পুনঃবন্যায়ন কর্মসূচিতে ট্রিজ ফর লাইফের সঙ্গে কাজ করছে সরকারি বন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ল্যান্ড স্কটল্যান্ড, যারা প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ একর বিস্তৃত গ্লেন অ্যাফ্রিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিচালনা করে।

First baby beavers born in Scotland's Glen Affric after 400 years mark a  major rewilding milestone | - The Times of India

স্কটল্যান্ডে বিভারের প্রত্যাবর্তন

স্কটল্যান্ডে বিভার কয়েক শতাব্দী আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণীটিকে আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অনুমতি ছাড়াই কিছু বিভার ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এর আগে অনুমোদিতভাবে অবমুক্ত বিভার থেকে জন্ম নেওয়া বুনো শাবকের দেখা মিলেছিল কেয়ার্নগর্মস এলাকায়। তবে গ্লেন অ্যাফ্রিকে এবার প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটল।

প্রকৃতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ বিভার

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভারকে “প্রকৃতির প্রকৌশলী” বলা হয়। বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তারা জলাভূমি সৃষ্টি করে, যা বহু প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য নতুন আবাসস্থল তৈরি করে। একই সঙ্গে এসব জলাভূমি খরা ও বন্যার প্রভাব কমাতে এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংরক্ষণবাদীদের আশা, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নেওয়া এই নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যতে স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিউম্যানয়েড রোবটের উন্মাদনায় লাগাম চীনের, আইপিওতে এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে কোম্পানিগুলো

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

০৯:২৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস অঞ্চলের মনোরম গ্লেন অ্যাফ্রিক আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হলো। প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় পর এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বুনো পরিবেশে জন্ম নিয়েছে বিভারের নতুন প্রজন্ম। সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, এটি শুধু একটি প্রাণীর জন্ম নয়; বরং দীর্ঘদিনের পুনঃবন্যায়ন প্রচেষ্টার এক বড় সাফল্যের প্রতীক।

চার শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান

সংরক্ষণ সংস্থা ট্রিজ ফর লাইফ জানিয়েছে, লক বেইন আ মেহধোইন এলাকায় অন্তত দুটি বিভারশাবকের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। বিভারের বাচ্চাদের সাধারণভাবে “কিট” বলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের মে বা জুন মাসে তাদের জন্ম হয়েছে এবং গত কয়েক সপ্তাহে তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের আশ্রয় থেকে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

এই ঘটনাকে স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পথে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুনঃবন্যায়নের দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল

গত বছরের অক্টোবরে গ্লেন অ্যাফ্রিকে সাতটি বিভার অবমুক্ত করা হয়। এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরও একটি চার সদস্যের বিভার পরিবার সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই পুনঃবন্যায়ন কর্মসূচিতে ট্রিজ ফর লাইফের সঙ্গে কাজ করছে সরকারি বন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ল্যান্ড স্কটল্যান্ড, যারা প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ একর বিস্তৃত গ্লেন অ্যাফ্রিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিচালনা করে।

First baby beavers born in Scotland's Glen Affric after 400 years mark a  major rewilding milestone | - The Times of India

স্কটল্যান্ডে বিভারের প্রত্যাবর্তন

স্কটল্যান্ডে বিভার কয়েক শতাব্দী আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণীটিকে আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অনুমতি ছাড়াই কিছু বিভার ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এর আগে অনুমোদিতভাবে অবমুক্ত বিভার থেকে জন্ম নেওয়া বুনো শাবকের দেখা মিলেছিল কেয়ার্নগর্মস এলাকায়। তবে গ্লেন অ্যাফ্রিকে এবার প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটল।

প্রকৃতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ বিভার

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভারকে “প্রকৃতির প্রকৌশলী” বলা হয়। বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তারা জলাভূমি সৃষ্টি করে, যা বহু প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য নতুন আবাসস্থল তৈরি করে। একই সঙ্গে এসব জলাভূমি খরা ও বন্যার প্রভাব কমাতে এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংরক্ষণবাদীদের আশা, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নেওয়া এই নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যতে স্কটল্যান্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।