ডেনমার্কের উত্তরাঞ্চলের রেবিল্ড এলাকায় নিজের বাগানে নতুন টেরেস তৈরির কাজ করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য এক প্রত্নসম্পদের সন্ধান পেয়েছেন এক ব্যক্তি। মাটির নিচ থেকে উঠে এসেছে প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি রুপার তৈরি প্রায় ৭০০টি বস্তু ও খণ্ডাংশ—যা এখন পর্যন্ত ডেনমার্কে আবিষ্কৃত ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় রুপার ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মাটি খুঁড়তেই একের পর এক রুপার বস্তু
পরিচয় গোপন রাখা ওই ব্যক্তি জানান, বাগানে টেরেস তৈরির জন্য মাটি খোঁড়ার সময় প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাঁর কোদাল বা হাতের যন্ত্র কোনো শক্ত বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অস্বাভাবিক শব্দ করে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো পুরোনো লোহা, বেড়ার তার কিংবা ভাঙা মাটির পাত্রের অংশ পেয়েছেন।
কিন্তু হাত দিয়ে সাবধানে মাটি সরাতে গিয়ে একের পর এক ধাতব বস্তু বেরিয়ে আসতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তিনি বুঝতে পারেন, এগুলো সাধারণ ধাতব টুকরো নয়—এর মধ্যে রয়েছে গয়না, মুদ্রা ও রুপার দণ্ড।
কী কী পাওয়া গেছে
এই বিশাল ভাণ্ডারে রয়েছে রুপার দণ্ড, ব্রেসলেট, ৪৭টি অক্ষত ও ভাঙা মুদ্রা, ছোট আকারের থরের হাতুড়ি এবং বিভিন্ন ধরনের কাটা রুপার টুকরো। ধারণা করা হচ্ছে, এসব সম্পদ মূলত একটি মাটির পাত্রের ভেতরে রাখা হয়েছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ভাণ্ডারটির মোট ওজন প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি। এর আগে ডেনমার্কে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় রুপার ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল টের্সলেভ ভাণ্ডার, যার ওজন ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৫ কেজি। নতুন আবিষ্কারটি তার প্রায় তিন গুণ বড়।
ভাইকিংদের অর্থনীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু বিপুল পরিমাণ রুপার কারণে নয়। এটি ভাইকিং যুগের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরল একটি চিত্র তুলে ধরতে পারে।
সে সময় রুপা শুধু মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো না। ওজন করে রুপার দণ্ড ও কাটা টুকরো দিয়ে বাণিজ্য, লেনদেন এবং সম্পদ সঞ্চয়ের কাজও করা হতো। ফলে এই ভাণ্ডার থেকে ভাইকিং সমাজে সম্পদের ব্যবহার ও বাণিজ্যব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
রুপার দণ্ডে রহস্যময় রুনলিপি
আবিষ্কৃত রুপার দণ্ডগুলোর একটিতে রুনলিপি খোদাই করা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেটিকে ‘হুতু’ হিসেবে পড়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এটি কোনো ব্যক্তির নাম অথবা মালিকানার চিহ্ন হয়ে থাকতে পারে।
ভাণ্ডারে আরবি লিপি থাকা মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ভাইকিং যুগে ডেনমার্কের সঙ্গে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর বাণিজ্যিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলেছে।
ইতিহাসের পরিবর্তনশীল এক সময়ের সাক্ষী
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ভাণ্ডারটি এমন এক সময়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল, যখন ডেনিশ রাজ্য ধীরে ধীরে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে গড়ে উঠছিল এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় খ্রিস্টধর্মের বিস্তার ঘটছিল।
তাই এই আবিষ্কার শুধু ভাইকিংদের সম্পদ ও বাণিজ্যের ইতিহাস নয়, সে সময়কার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রত্নসম্পদগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার পর এগুলো ফাইরকাটে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফাইরকাট ভাইকিং যুগের একটি জাদুঘর ও ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত বৃত্তাকার দুর্গ, যা ডেনমার্কের রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের সময়ের সঙ্গে যুক্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















