০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
থমাস গেইনসবোরোর তুলিতে ফ্যাশনের চিরন্তন গল্প বিড়ালের অ্যালার্জি: কোন কোন কারণে হয়, লক্ষণ কী এবং কী করবেন সিঙ্গাপুরের অরচার্ড রোডে নাচ ও মার্শাল আর্ট দেখাল মানবাকৃতির রোবট, চলছে টিকটক শপের ৯.৯ প্রচারণা গ্লোবাল সাউথের পরিবহন সংযোগ: অবকাঠামোর চেয়ে বড় যে রাজনৈতিক পরীক্ষা সৌদি আরবের শিল্পজগত বদলে দিতে ইতিহাস, তরুণ শিল্পী ও আন্তর্জাতিক বিনিময়ে জোর বিছানায় পড়ে থাকা থেকে ‘বাড্ডি’, মৃত্যুর মুখ থেকে উঠে মায়েদের ও প্রবীণদের ব্যায়ামের প্রেরণা ১০৮টি অবিশ্বাস্য কাস্টম পিসি: এক্সবক্স থেকে ড্রাগন, স্পেসশিপ থেকে কাঠের ডেস্ক অ্যারিজোনায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন গতি, তাইওয়ানের সঙ্গে ‘স্পার্ক’ গবেষণা কেন্দ্র চালু যুদ্ধের অন্ধকারে হারানো চার্চিলের ছবি, নাৎসি সহযোগীর হাতে পৌঁছানোর রহস্য পরিবার নিয়ে শরতের উৎসবে জমবে সিঙ্গাপুরে লণ্ঠনযাত্রা, হানফু সাজ ও চাঁদ দেখার আয়োজন

পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ?

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায় ঘিরে নেতৃত্ব ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১৮ মাস আগে তাঁকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সহায়তা করা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।

একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়

ড্রিসকলের পদত্যাগকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকেরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে এর আগে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা দায়িত্ব হারিয়েছেন বা পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন যৌথ সামরিক বাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর প্রধান। ফলে পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

ড্রিসকলের বিদায়ের প্রকৃত কারণ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তাঁর পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পার হয়েছে এবং পেন্টাগনকে একসঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি এবং নেতৃত্বের সংকট সামলাতে হচ্ছে।

যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন

পেন্টাগনে শীর্ষ নেতৃত্বের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক অভিযানের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে পিট হেগসেথ কীভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

শুধু নেতৃত্ব নয়, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মনোবল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধজাহাজগুলোকে সমুদ্রে অবস্থান করতে হওয়ায় সেনাসদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে।

২৫০ দিন পর বন্দরে ফিরছে যুদ্ধজাহাজ

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে জাহাজটি কোনো বন্দরে না থেমে টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে কাটিয়েছে।

অবশেষে জাহাজটির থাইল্যান্ডের পাতায়া বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজের ভেতরের জীবনযাপন, কর্মপরিবেশ এবং সদস্যদের মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য।

পাতায়ায় এই সফর আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসানে সাইগন পতনের পর এই সফরকে সেখানে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সদস্যসমাগম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হেগসেথের নেতৃত্বে বাড়ছে চাপ

সব মিলিয়ে পেন্টাগনে এখন শুধু কর্মকর্তাদের পদত্যাগের বিষয়টিই আলোচনায় নেই। শীর্ষ নেতৃত্বের ঘন ঘন পরিবর্তন, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া, দীর্ঘ সামরিক অভিযান এবং সেনাদের মনোবল—সবকিছু মিলিয়ে পিট হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে চাপ বাড়ছে।

ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে—মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওপর হেগসেথের নিয়ন্ত্রণ কি সত্যিই দুর্বল হয়ে পড়ছে, নাকি তিনি সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের পথে রয়েছেন?

মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের পরবর্তী পরিবর্তনগুলোই সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

থমাস গেইনসবোরোর তুলিতে ফ্যাশনের চিরন্তন গল্প

পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ?

০৫:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায় ঘিরে নেতৃত্ব ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১৮ মাস আগে তাঁকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সহায়তা করা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।

একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়

ড্রিসকলের পদত্যাগকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকেরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে এর আগে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা দায়িত্ব হারিয়েছেন বা পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন যৌথ সামরিক বাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর প্রধান। ফলে পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

ড্রিসকলের বিদায়ের প্রকৃত কারণ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তাঁর পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পার হয়েছে এবং পেন্টাগনকে একসঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি এবং নেতৃত্বের সংকট সামলাতে হচ্ছে।

যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন

পেন্টাগনে শীর্ষ নেতৃত্বের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক অভিযানের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে পিট হেগসেথ কীভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

শুধু নেতৃত্ব নয়, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মনোবল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধজাহাজগুলোকে সমুদ্রে অবস্থান করতে হওয়ায় সেনাসদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে।

২৫০ দিন পর বন্দরে ফিরছে যুদ্ধজাহাজ

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে জাহাজটি কোনো বন্দরে না থেমে টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে কাটিয়েছে।

অবশেষে জাহাজটির থাইল্যান্ডের পাতায়া বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজের ভেতরের জীবনযাপন, কর্মপরিবেশ এবং সদস্যদের মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য।

পাতায়ায় এই সফর আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসানে সাইগন পতনের পর এই সফরকে সেখানে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সদস্যসমাগম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হেগসেথের নেতৃত্বে বাড়ছে চাপ

সব মিলিয়ে পেন্টাগনে এখন শুধু কর্মকর্তাদের পদত্যাগের বিষয়টিই আলোচনায় নেই। শীর্ষ নেতৃত্বের ঘন ঘন পরিবর্তন, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া, দীর্ঘ সামরিক অভিযান এবং সেনাদের মনোবল—সবকিছু মিলিয়ে পিট হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে চাপ বাড়ছে।

ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে—মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওপর হেগসেথের নিয়ন্ত্রণ কি সত্যিই দুর্বল হয়ে পড়ছে, নাকি তিনি সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের পথে রয়েছেন?

মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের পরবর্তী পরিবর্তনগুলোই সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট করবে।