০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি রইল কামরান শেখের পদত্যাগ পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ১৫ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, টিটিপি নিয়ে কাবুলকে আবারও চাপ ইসলামাবাদের ইরান যুদ্ধে ফের বাড়ছে বেসামরিক মৃত্যুর শঙ্কা, বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহত ৪ নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ: আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের নথি চেয়েছে দুদক তামিলনাড়ু বিধানসভায় উত্তাপ, ডিএমকেকে বিজয়ের চ্যালেঞ্জ: ‘সোমবার কেউ উঠে চলে যাবেন না’ হামি মেলনের নেপথ্যে যে গল্প: মরুভূমির মাটি থেকে সিল্ক রোড পেরিয়ে আধুনিক শিল্পনগর মিরপুরে অস্ত্রের রাজত্বে বড় ধাক্কা, দুই বন্দুক ও গুলিসহ শ্যুটার জাকির গ্রেপ্তার সিরিয়ার কাছে তিন গোলের হার, বাছাইপর্বে কঠিন চাপে বাংলাদেশ সেলিনের শীত ২০২৬: ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের নান্দনিক বিদ্রোহে নতুন ফরাসি আভিজাত্য কনসার্ট-বাউল গানসহ সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিরাপত্তা চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

থমাস গেইনসবোরোর তুলিতে ফ্যাশনের চিরন্তন গল্প

অষ্টাদশ শতকের ইংল্যান্ডে পোশাক ছিল শুধু শরীর ঢাকার উপকরণ নয়, বরং সামাজিক অবস্থান, রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী থমাস গেইনসবোরো এই পোশাকের জাঁকজমক যেমন নিখুঁতভাবে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি এর আড়ালে থাকা সামাজিক অর্থও গভীরভাবে বুঝতেন।

১৭২৭ থেকে ১৭৮৮ সাল পর্যন্ত জীবিত গেইনসবোরো ছিলেন ইংরেজ সমাজের অভিজাত ও প্রভাবশালী মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর। তাঁর আঁকা প্রতিকৃতিতে সমকালীন মানুষের পোশাক, অলংকার, ভঙ্গি ও জীবনযাপনের ছবি এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে, আজও সেগুলো সেই সময়ের ফ্যাশন ও সমাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

ফ্যাশনের মোহ ও ক্ষণস্থায়িত্ব

গেইনসবোরো ১৭৬৮ সালে ফ্যাশন সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, এর স্বাদ সত্যি হোক কিংবা মিথ্যা—ফ্যাশনও যেন লাগামছাড়া ঘোড়ার মতো নিজের গতিতে ছুটে চলে। তাঁর এই মন্তব্যে ফ্যাশনের পরিবর্তনশীল চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আজকের মতোই তখনও মানুষ ফ্যাশনেবল পোশাকের মাধ্যমে নিজেকে অন্যদের কাছে আলাদা করে তুলে ধরতে চাইত। দামি ও আকর্ষণীয় পোশাক পরা মানে ছিল সমাজে নিজের অবস্থান, রুচি ও মর্যাদা প্রকাশ করা।Gainsborough at the Frick: Fashion, Pearls, and Georgian Portraiture in New York | National Review

নিউইয়র্কে গেইনসবোরোর পোশাকের জগৎ

নিউইয়র্কের ফ্রিক সংগ্রহশালায় আয়োজিত ‘গেইনসবোরো: প্রতিকৃতির ফ্যাশন’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে এই বিষয়টিই বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ২৫ মে পর্যন্ত চলা প্রদর্শনীতে গেইনসবোরোর দুই ডজনের বেশি প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যাইমি এনগ গেইনসবোরোর এমন সব চিত্র বেছে নিয়েছেন, যেগুলোতে অষ্টাদশ শতকের পোশাক ও ব্যক্তিগত সাজসজ্জার বৈচিত্র্য সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীর কিছু ছবি এসেছে ফ্রিক সংগ্রহশালার নিজস্ব সংগ্রহ থেকে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ চিত্র আনা হয়েছে।

পোশাকের আড়ালে সামাজিক পরিচয়

গেইনসবোরোর ছবিতে দেখা যায়, পোশাক কখনো শুধু সৌন্দর্যের বিষয় ছিল না। একজন মানুষ কী পরছেন, কীভাবে দাঁড়াচ্ছেন এবং কী ধরনের সাজসজ্জা ব্যবহার করছেন—এসবের মধ্য দিয়েই তাঁর সামাজিক অবস্থান ও পরিচয়ের নানা দিক প্রকাশ পেত।

ফ্রিক সংগ্রহশালার প্রধান কিউরেটর অ্যাইমি এনগের মতে, গেইনসবোরোর প্রতিকৃতিতে থাকা চমকপ্রদ এবং আধুনিক চোখে কখনো কখনো অদ্ভুত পোশাক আজও দর্শকদের আকৃষ্ট করে। তাঁর ছবিগুলো শুধু পোশাকের ইতিহাস নয়, সেই সময় মানুষ কীভাবে ফ্যাশনকে দেখত এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত ছিল, সেটিও তুলে ধরে।

সময় বদলায়, শিল্পের সৌন্দর্য থেকে যায়

গেইনসবোরোর সময়ের পোশাক আজকের চোখে অনেকটাই অচেনা। কিন্তু তাঁর আঁকা মানুষের মুখ, অভিব্যক্তি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এখনও দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়।

ফ্যাশন বদলায়, পোশাকের ধরন বদলায়, মানুষের রুচিও বদলায়। কিন্তু একজন শিল্পীর তুলিতে ধরা মানুষের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব সময়ের সীমা পেরিয়ে যেতে পারে—গেইনসবোরোর প্রতিকৃতিগুলো তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি রইল কামরান শেখের পদত্যাগ

থমাস গেইনসবোরোর তুলিতে ফ্যাশনের চিরন্তন গল্প

০৭:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অষ্টাদশ শতকের ইংল্যান্ডে পোশাক ছিল শুধু শরীর ঢাকার উপকরণ নয়, বরং সামাজিক অবস্থান, রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী থমাস গেইনসবোরো এই পোশাকের জাঁকজমক যেমন নিখুঁতভাবে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি এর আড়ালে থাকা সামাজিক অর্থও গভীরভাবে বুঝতেন।

১৭২৭ থেকে ১৭৮৮ সাল পর্যন্ত জীবিত গেইনসবোরো ছিলেন ইংরেজ সমাজের অভিজাত ও প্রভাবশালী মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর। তাঁর আঁকা প্রতিকৃতিতে সমকালীন মানুষের পোশাক, অলংকার, ভঙ্গি ও জীবনযাপনের ছবি এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে, আজও সেগুলো সেই সময়ের ফ্যাশন ও সমাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

ফ্যাশনের মোহ ও ক্ষণস্থায়িত্ব

গেইনসবোরো ১৭৬৮ সালে ফ্যাশন সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, এর স্বাদ সত্যি হোক কিংবা মিথ্যা—ফ্যাশনও যেন লাগামছাড়া ঘোড়ার মতো নিজের গতিতে ছুটে চলে। তাঁর এই মন্তব্যে ফ্যাশনের পরিবর্তনশীল চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আজকের মতোই তখনও মানুষ ফ্যাশনেবল পোশাকের মাধ্যমে নিজেকে অন্যদের কাছে আলাদা করে তুলে ধরতে চাইত। দামি ও আকর্ষণীয় পোশাক পরা মানে ছিল সমাজে নিজের অবস্থান, রুচি ও মর্যাদা প্রকাশ করা।Gainsborough at the Frick: Fashion, Pearls, and Georgian Portraiture in New York | National Review

নিউইয়র্কে গেইনসবোরোর পোশাকের জগৎ

নিউইয়র্কের ফ্রিক সংগ্রহশালায় আয়োজিত ‘গেইনসবোরো: প্রতিকৃতির ফ্যাশন’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে এই বিষয়টিই বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ২৫ মে পর্যন্ত চলা প্রদর্শনীতে গেইনসবোরোর দুই ডজনের বেশি প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যাইমি এনগ গেইনসবোরোর এমন সব চিত্র বেছে নিয়েছেন, যেগুলোতে অষ্টাদশ শতকের পোশাক ও ব্যক্তিগত সাজসজ্জার বৈচিত্র্য সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীর কিছু ছবি এসেছে ফ্রিক সংগ্রহশালার নিজস্ব সংগ্রহ থেকে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ চিত্র আনা হয়েছে।

পোশাকের আড়ালে সামাজিক পরিচয়

গেইনসবোরোর ছবিতে দেখা যায়, পোশাক কখনো শুধু সৌন্দর্যের বিষয় ছিল না। একজন মানুষ কী পরছেন, কীভাবে দাঁড়াচ্ছেন এবং কী ধরনের সাজসজ্জা ব্যবহার করছেন—এসবের মধ্য দিয়েই তাঁর সামাজিক অবস্থান ও পরিচয়ের নানা দিক প্রকাশ পেত।

ফ্রিক সংগ্রহশালার প্রধান কিউরেটর অ্যাইমি এনগের মতে, গেইনসবোরোর প্রতিকৃতিতে থাকা চমকপ্রদ এবং আধুনিক চোখে কখনো কখনো অদ্ভুত পোশাক আজও দর্শকদের আকৃষ্ট করে। তাঁর ছবিগুলো শুধু পোশাকের ইতিহাস নয়, সেই সময় মানুষ কীভাবে ফ্যাশনকে দেখত এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত ছিল, সেটিও তুলে ধরে।

সময় বদলায়, শিল্পের সৌন্দর্য থেকে যায়

গেইনসবোরোর সময়ের পোশাক আজকের চোখে অনেকটাই অচেনা। কিন্তু তাঁর আঁকা মানুষের মুখ, অভিব্যক্তি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এখনও দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়।

ফ্যাশন বদলায়, পোশাকের ধরন বদলায়, মানুষের রুচিও বদলায়। কিন্তু একজন শিল্পীর তুলিতে ধরা মানুষের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব সময়ের সীমা পেরিয়ে যেতে পারে—গেইনসবোরোর প্রতিকৃতিগুলো তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।