০৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সন্তান দেখাশোনায় আত্মীয়কেই কাজে নিলেন মা, মিলছে সাহায্য ও পারিবারিক বন্ধন

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ১৫ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, টিটিপি নিয়ে কাবুলকে আবারও চাপ ইসলামাবাদের

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ১৫ জন ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় তাদের প্রতিহত করা হয়।

৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় প্রবেশের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গতিবিধি শনাক্ত করার পর অভিযান শুরু করে বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।

৩৬ ঘণ্টার অভিযান

আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে।

অভিযান শেষে এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইএসপিআর। এসব অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনা এবং তাদের সহযোগীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখাটি জানিয়েছে।

আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সীমান্তে সর্বশেষ এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে আফগান তালেবান সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও তালেবান সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।TTP terror group attacks Pakistan from Afghan border — Who are they? What  do they want? Explained | Today News

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও সাহসের প্রশংসা করেন এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আজম-ই-ইস্তেহকাম অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাহিনীর দৃঢ়তা প্রশংসনীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের প্রশংসা করেছেন।

টিটিপি ইস্যুতে কাবুলের ওপর চাপ

সীমান্তে এই অভিযান এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। চীনের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং ইসলামাবাদ সফর করেছেন এবং উরুমকি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি আফগান রাষ্ট্রদূত সারদার শাকিবকে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিটিপি ও আফগান ভূখণ্ড থেকে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান, কার্যকর ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান তালেবান প্রায় ২ হাজার টিটিপি যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে এবং তালেবান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা টিটিপিকে পাকিস্তানে হামলা না করার সতর্কতা দিয়েছেন। তবে একই প্রতিবেদনে টিটিপির প্রতি তালেবানের সমর্থন অব্যাহত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামাবাদের মতে, শুধু যোদ্ধাদের স্থানান্তর করলেই টিটিপির নেতৃত্ব, প্রশিক্ষণ ও রসদ সরবরাহের নেটওয়ার্ক ভেঙে যায় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ১৫ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, টিটিপি নিয়ে কাবুলকে আবারও চাপ ইসলামাবাদের

০৮:১৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ১৫ জন ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় তাদের প্রতিহত করা হয়।

৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় প্রবেশের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গতিবিধি শনাক্ত করার পর অভিযান শুরু করে বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।

৩৬ ঘণ্টার অভিযান

আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে।

অভিযান শেষে এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইএসপিআর। এসব অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনা এবং তাদের সহযোগীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখাটি জানিয়েছে।

আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সীমান্তে সর্বশেষ এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে আফগান তালেবান সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের ক্ষেত্রেও তালেবান সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।TTP terror group attacks Pakistan from Afghan border — Who are they? What  do they want? Explained | Today News

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও সাহসের প্রশংসা করেন এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আজম-ই-ইস্তেহকাম অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাহিনীর দৃঢ়তা প্রশংসনীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের প্রশংসা করেছেন।

টিটিপি ইস্যুতে কাবুলের ওপর চাপ

সীমান্তে এই অভিযান এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। চীনের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং ইসলামাবাদ সফর করেছেন এবং উরুমকি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি আফগান রাষ্ট্রদূত সারদার শাকিবকে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিটিপি ও আফগান ভূখণ্ড থেকে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান, কার্যকর ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান তালেবান প্রায় ২ হাজার টিটিপি যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে এবং তালেবান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা টিটিপিকে পাকিস্তানে হামলা না করার সতর্কতা দিয়েছেন। তবে একই প্রতিবেদনে টিটিপির প্রতি তালেবানের সমর্থন অব্যাহত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামাবাদের মতে, শুধু যোদ্ধাদের স্থানান্তর করলেই টিটিপির নেতৃত্ব, প্রশিক্ষণ ও রসদ সরবরাহের নেটওয়ার্ক ভেঙে যায় না।