০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সন্তান দেখাশোনায় আত্মীয়কেই কাজে নিলেন মা, মিলছে সাহায্য ও পারিবারিক বন্ধন

১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে—সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। পুলিশের দাবি, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করা হলেও পরে কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সেই তথ্যগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দফতর জানায়, বিষয়টি পরিষ্কার করতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি শিশু

পুলিশের যাচাই অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।

সব বয়স মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

কেন নিখোঁজ হয় শিশুরা

পুলিশ জানিয়েছে, ছোট শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সাধারণত ভিন্ন ধরনের কারণ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো ঘটনায় শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা নিখোঁজ হয়।

১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে কারণগুলো আরও বৈচিত্র্যময়। অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব—এসব কারণে তারা বাড়ি থেকে চলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনলাইন জিডিতে বাড়ছে নিখোঁজের তথ্য

পুলিশ সদর দফতর বলছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজ করতে অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে নিখোঁজসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিডি করার সুযোগ সহজ হওয়ায় জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিখোঁজের মোট সংখ্যা দেখার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কতজন উদ্ধার হয়েছে এবং পরিবারের কাছে ফিরেছে—এই তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এ তথ্য বাদ পড়লে শিশু নিখোঁজের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণা তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’

১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ

০৮:৪২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে—সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। পুলিশের দাবি, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করা হলেও পরে কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সেই তথ্যগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দফতর জানায়, বিষয়টি পরিষ্কার করতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজারের বেশি শিশু

পুলিশের যাচাই অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।

সব বয়স মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

কেন নিখোঁজ হয় শিশুরা

পুলিশ জানিয়েছে, ছোট শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সাধারণত ভিন্ন ধরনের কারণ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো ঘটনায় শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা নিখোঁজ হয়।

১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে কারণগুলো আরও বৈচিত্র্যময়। অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব—এসব কারণে তারা বাড়ি থেকে চলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনলাইন জিডিতে বাড়ছে নিখোঁজের তথ্য

পুলিশ সদর দফতর বলছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজ করতে অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে নিখোঁজসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিডি করার সুযোগ সহজ হওয়ায় জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।

পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিখোঁজের মোট সংখ্যা দেখার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কতজন উদ্ধার হয়েছে এবং পরিবারের কাছে ফিরেছে—এই তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এ তথ্য বাদ পড়লে শিশু নিখোঁজের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণা তৈরি হতে পারে।