বিভিন্ন কাজের প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ বাংলাদেশি
ব্র্যাক জানিয়েছে, কম্বোডিয়ায় প্রতারণার শিকার হয়ে আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এর আগে গত জুন মাসে একই ধরনের পরিস্থিতিতে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দর থেকে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানো পর্যন্ত জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
জরিমানা ছাড়া ফেরার সুযোগ
কম্বোডিয়া সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের কোনো জরিমানা ছাড়াই স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে। এই সুযোগের পরই ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা দেশে ফেরা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ায় থাকা কিছু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী ফেরার পথে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখান এবং নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও পরে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। এ সময় তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছে বলে ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
দেড় বছরে কম্বোডিয়ায় ১৫,৯২১ বাংলাদেশি
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনো হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে অথবা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত জুনে দেশে ফেরা ৫৮৩ বাংলাদেশির অনেকের কাছেই বিএমইটির ছাড়পত্র ছিল বলে জানা গেছে।
মিয়ানমারেও সাইবার স্ক্যামের শিকার বাংলাদেশিরা
কম্বোডিয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারেও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের সাইবার প্রতারণায় জড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি ‘সাইবার স্ক্যাম সেন্টার’ থেকে আট বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন।
তাদেরও থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ ও কাস্টমার সার্ভিসসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখানো হতো। পরে চাকরিপ্রার্থীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
কম্বোডিয়া থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আসা, ১,৮০০ জনের অপেক্ষা এবং চাকরির প্রলোভনে অনলাইন প্রতারণায় জড়ানোর তথ্য নতুন করে এ ধরনের পাচার ও প্রতারণার ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















