কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য আরও দ্রুত ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও তাইওয়ানের মধ্যে নতুন গবেষণা সহযোগিতা শুরু হয়েছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় (U of A) ও ন্যাশনাল সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয় (NSYSU) যৌথভাবে চালু করেছে ‘সিলিকন ফোটোনিক্স অ্যাট অ্যারিজোনা-কাওশিয়াং সেন্টার’ বা SPARK।
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে অনুষ্ঠিত বড় সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সম্মেলন SEMICON Taiwan-এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ অংশীদারত্ব ঘোষণা করেন। নতুন কেন্দ্রটির মূল লক্ষ্য হলো এআই ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং একই সঙ্গে অ্যারিজোনার দক্ষিণাঞ্চল ও তাইওয়ানে ভবিষ্যৎ সেমিকন্ডাক্টর ও ফোটোনিক্স বিশেষজ্ঞ তৈরি করা।
এআই যুগে আলো দিয়ে ডেটা স্থানান্তরের উদ্যোগ
কম্পিউটার চিপসহ আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। অন্যদিকে ফোটোনিক্স আলো ব্যবহার করে তথ্য পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ করে। বৈদ্যুতিক সংযোগের তুলনায় আলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডেটা দ্রুত স্থানান্তর করা এবং কম শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।
SPARK-এর গবেষণায় কম্পিউটিংয়ের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ডেটা স্থানান্তরের গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে উন্নত প্যাকেজিং প্রযুক্তি এবং ‘কো-প্যাকেজড অপটিকস’ নিয়ে কাজ করা হবে। এতে অপটিক্যাল উপাদানকে কম্পিউটার চিপের কাছাকাছি স্থাপন করা যায়, ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছোট হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ, তাপ উৎপাদন ও ডেটা স্থানান্তরের বিলম্ব কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ১১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত ডেটা সেন্টারে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিপের সঙ্গে সরাসরি জ্বালানি-সাশ্রয়ী অপটিক্যাল প্রযুক্তি যুক্ত করার নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করাই SPARK-এর অন্যতম লক্ষ্য।
অ্যারিজোনা-তাইওয়ান প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার
SPARK-এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে মার্চে স্বাক্ষরিত ছয় পক্ষের একটি সহযোগিতা চুক্তির ওপর। ওই চুক্তিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি টাকসন, পিমা কাউন্টি, অ্যারিজোনা কমার্স অথরিটি এবং তাইওয়ানের কাওশিয়াং শহরের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করা।
অ্যারিজোনা কমার্স অথরিটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী সান্দ্রা ওয়াটসন বলেছেন, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন ও গবেষণা-উদ্ভাবনের মতো উচ্চপ্রযুক্তি খাতে অ্যারিজোনা ও কাওশিয়াংয়ের পারস্পরিক শক্তিকে কাজে লাগাতে SPARK গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে সেমিকন্ডাক্টর উদ্ভাবন দ্রুততর হওয়ার পাশাপাশি গবেষণাকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ দেওয়ার সুযোগও বাড়বে।
দক্ষ জনবল তৈরিতেও গুরুত্ব
শুধু গবেষণা নয়, SPARK-এর আওতায় অ্যারিজোনা ও কাওশিয়াংয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যৌথভাবে কোর্স তৈরি, শিল্পখাতের কর্মীদের জন্য অনলাইন শিক্ষার সুযোগ এবং একাধিক ছোট সনদের মাধ্যমে ডিগ্রি অর্জনের একাডেমিক কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও গবেষণার দিক নির্ধারণে সরাসরি যুক্ত থাকবে। অংশীদার কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা প্রকল্প বেছে নিতে পারবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার ফল ও দক্ষ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আগাম সুযোগ পাবে। গবেষণার ফলাফল ও মেধাস্বত্ব ভবিষ্যৎ পণ্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রটি সহায়তা করবে।
দক্ষিণ অ্যারিজোনায় সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই SPARK-কে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন সুবিধা সম্প্রসারণের কাজও চলছে, যাতে অ্যারিজোনা কমার্স অথরিটির সহায়তা রয়েছে।
সিলিকন ফোটোনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, এআই, উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং এবং দক্ষ জনবল তৈরিকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে নতুন প্রজন্মের কম্পিউটিং প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করাই SPARK উদ্যোগের কেন্দ্রীয় লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















