সিঙ্গাপুরে শরৎ উৎসবের আমেজে পরিবার নিয়ে আনন্দ করার দারুণ সুযোগ আসছে। আগামী ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সিঙ্গাপুর সম্মেলন হলে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী ‘মিড-অটাম ফ্যামিলি ফান’ আয়োজন। প্রতিবছরের এই উৎসবটি আয়োজন করছে সিঙ্গাপুর চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সিঙ্গাপুর চীনা অর্কেস্ট্রা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এবং চীনা সংস্কৃতির নানা আয়োজন উপভোগ করার জন্য উৎসবটিতে থাকছে বিনা মূল্যের বেশ কিছু অনুষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে লণ্ঠনযাত্রা, চাঁদ দেখা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, চাঁদের পিঠা স্বাদ নেওয়া, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ছবি তোলা এবং বিভিন্ন ধরনের হাতেকলমে কাজ শেখার সুযোগ।
আলোয় সাজবে খরগোশের বন
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হবে ‘বিট বিট ফরেস্ট’ নামের আলোকসজ্জা। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছাদবাগানে রাখা হবে বিশাল আকৃতির চারটি আলোকিত ফোলানো খরগোশ। ছবি তোলার জন্যও এটি হতে পারে আকর্ষণীয় জায়গা।
সিঙ্গাপুরের জন্য বিশেষভাবে সাজানো একটি খরগোশ থাকবে ভবনের সংযোগস্থলেও। সেটিকে ঐতিহ্যবাহী কাবায়া পোশাকে সাজানো হবে। এই আলোকসজ্জা ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেখা যাবে।
লণ্ঠন হাতে পরিবার নিয়ে হাঁটার সুযোগ
শরৎ উৎসবের অন্যতম পরিচিত আয়োজন লণ্ঠনযাত্রা। এবারের লণ্ঠনযাত্রার নাম ‘চাঁদের সঙ্গে কথা বলা’। গল্পের ধারাবাহিকতায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এগিয়ে যেতে হবে এবং পথে অংশ নিতে হবে বিভিন্ন মজার কাজে।
পরিবারগুলো এই যাত্রার অংশ হিসেবে একটি অগ্নিনিরাপত্তা কেন্দ্রও ঘুরে দেখতে পারবে। সেখানে আগুন থেকে নিরাপদ থাকার বিষয়ে নানা পরামর্শ দেওয়া হবে।
প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিঙ্গাপুর সম্মেলন হলে লণ্ঠনযাত্রার নিবন্ধন শুরু হবে। আগে এলে আগে সুযোগ পাওয়া যাবে এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮০ জন এতে অংশ নিতে পারবেন। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী বিনা মূল্যে একটি লণ্ঠন পাবেন।
দূরবীনে চাঁদ দেখার আয়োজন
১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছাদবাগানে থাকবে চাঁদ দেখার বিশেষ আয়োজন। পূর্বাঞ্চলীয় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যরা দূরবীন দিয়ে চাঁদ দেখার সুযোগ করে দেবেন।
আবহাওয়া ও আকাশ পরিষ্কার থাকলে চাঁদের পাশাপাশি নক্ষত্র ও গ্রহও দেখার সুযোগ মিলতে পারে। এ সময় স্থানীয় গায়ক ও গীতিকার জেসন ইউয়ের সংগীত পরিবেশনাও থাকবে।
হানফু পরে ছবি তোলার সুযোগ
চীনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হানফু পরার আগ্রহ থাকলে রয়েছে বিশেষ পোশাকের আয়োজন। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সপ্তম তলার বহুমুখী মিলনায়তনে হানফু পরে ছবি তোলার সুযোগ থাকবে। উৎসবের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এটি হতে পারে পরিবারের জন্য আনন্দের একটি আয়োজন।
শিশুদের জন্য হাতেকলমে নানা কাজ
উৎসবের কার্যক্রম গ্রামে থাকছে দুটি কারুশিল্পের কেন্দ্র। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রথম তলার সংযোগস্থলে খরগোশের কান আকৃতির মাথার অলংকার বানানো যাবে। আর সিঙ্গাপুর সম্মেল হলের প্রদর্শনী হলে তৈরি করা যাবে রঙিন স্বচ্ছ কাগজের পাখা।
দুই দিনই দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসব কার্যক্রম চলবে।
নিজের তৈরি শিল্পকর্মে আলোর খেলা
সিঙ্গাপুর সম্মেল হল থেকে তৈরি করা পাখা নিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দশম তলার অনুশীলনকক্ষে গেলে সেটিকে বনভূমির নানা পটভূমিতে আলোকিত করে দেখার সুযোগ মিলবে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে থাকবে মঞ্চনাট্যের পরিবেশনা। ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা, বিকেল ৪টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই পরিবেশনা দেখা যাবে।
টিকিট কেটে যেসব আয়োজন
বিনা মূল্যের আয়োজনের পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠানের জন্য টিকিট প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে রয়েছে সংগীতানুষ্ঠান, শিল্পকর্ম তৈরির কর্মশালা এবং চা তৈরির ঐতিহ্যবাহী কৌশল শেখার সুযোগ।
১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সিঙ্গাপুর চীনা অর্কেস্ট্রার কনসার্ট হলে অনুষ্ঠিত হবে ‘মুনবাউন্ড’ নামের বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানটিতে চাঁদকেন্দ্রিক সংগীতের সঙ্গে দর্শকদেরও বিভিন্নভাবে যুক্ত করা হবে। থাকবে ধাঁধা সমাধানের আয়োজন এবং অর্কেস্ট্রার শিল্পীদের পরিবেশনা।
নরম রঙে ছবি আঁকার কর্মশালা
যারা নিজের হাতে কিছু তৈরি করতে চান, তাদের জন্য থাকছে প্যাস্টেল নাগোমি শিল্পের কর্মশালা। নরম প্যাস্টেল ব্যবহার করে আঙুলের সাহায্যে ছবি আঁকার এই শান্ত ও কোমল শিল্পরীতিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই একটি শিল্পকর্ম তৈরি করতে পারবেন।
১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সপ্তম তলার বহুমুখী মিলনায়তনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে।
চা তৈরির প্রাচীন কৌশল শেখা
১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৭টা পর্যন্ত থাকছে চা ফেটানো ও ছবি আঁকার কর্মশালা।
এখানে চীনের সং রাজবংশের সময়কার ঐতিহ্যবাহী চা তৈরির কৌশল শেখানো হবে। প্রাচীন চায়ের পাত্র ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীরা এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি নিজেরাও অনুশীলন করতে পারবেন।
পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ডাকটিকিট সংগ্রহের মতো একটি খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে। নির্ধারিত কাজগুলো শেষ করে কার্ড পূরণ করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে খাবার নেওয়ার সুযোগ মিলবে।
এ ছাড়া উৎসবজুড়ে থাকবে চাঁদের পিঠা স্বাদ নেওয়া এবং শিশুদের গল্প বলা, শিশুদের পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফলে দুই দিনের আয়োজনেই পরিবার নিয়ে শরৎ উৎসবের আবহ উপভোগ করার মতো বেশ কিছু সুযোগ থাকছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















