বিড়াল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুলকাচ্ছে, শরীরের লোম পড়ে যাচ্ছে কিংবা ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে—এমন হলে এর পেছনে অ্যালার্জি থাকতে পারে। মানুষের মতো বিড়ালেরও দৈনন্দিন পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে অ্যালার্জি হতে পারে। কারণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে পোষা বিড়ালের যত্ন নেওয়া এবং কখন পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, তা বোঝা সহজ হয়।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান থেকে অ্যালার্জি
বিড়ালের অ্যালার্জিজনিত ত্বকের সমস্যার একটি পরিচিত ধরন হলো বিড়ালের অতিসংবেদনশীল ত্বকজনিত অ্যালার্জি। ঘরের আশপাশের বিভিন্ন অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিছানা, কার্পেট ও আসবাবপত্রে থাকা ধুলোর ক্ষুদ্র জীব, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জন্মানো ছত্রাকের কণা, গাছপালা ও ঘাসের পরাগরেণু এবং অন্য প্রাণীর শরীর থেকে ঝরে পড়া মৃত ত্বকের কণাও বিড়ালের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এমনকি একই বাড়িতে থাকা অন্য পোষা প্রাণীর শরীরের ঝরে পড়া ত্বকের কণাতেও কোনো কোনো বিড়ালের অ্যালার্জি হতে পারে।
মাছি থেকেও হতে পারে তীব্র অ্যালার্জি
বিড়ালের অ্যালার্জিজনিত ত্বকের সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো মাছির কামড়। সংবেদনশীল কোনো বিড়ালের ক্ষেত্রে মাত্র একটি মাছির কামড়ও তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
তাই নিয়মিত মাছি প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা বিড়ালের অস্বস্তি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।
খাবার থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে
কিছু বিড়ালের নির্দিষ্ট খাবারের উপাদানে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। গরুর মাংস, মুরগির মাংস, মাছ কিংবা দুধজাত খাবারের কিছু প্রোটিন এর কারণ হতে পারে।
সাধারণত এসব খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কিছু বিড়ালের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে খাবারের নির্দিষ্ট প্রোটিনকে ক্ষতিকর উপাদান হিসেবে শনাক্ত করে। তখন সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
খাবারে অ্যালার্জির কারণে শুধু ত্বকের সমস্যা নয়, হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এমন উপসর্গ থাকলে পশু চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।
বিড়ালের অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণ
অ্যালার্জি হলে বিড়ালের মধ্যে মাথা ও ঘাড়ের চারপাশে অতিরিক্ত চুলকানি, শরীরের লোম পাতলা হয়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া বা খসখসে ভাব, পিঠে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ক্ষত এবং বারবার শরীর চাটা কিংবা পরিষ্কার করার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
মানুষের ব্যবহারের প্রসাধনী থেকে সতর্ক থাকুন
বাড়িতে ব্যবহৃত মানুষের ত্বকের জন্য তৈরি লোশন, ক্রিম ও বিভিন্ন ওষুধযুক্ত মলম বিড়ালের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। অল্প পরিমাণেও এগুলো ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই এসব সামগ্রী সবসময় বিড়ালের নাগালের বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখা উচিত।
কখন পশু চিকিৎসকের কাছে যাবেন
বিড়ালের মধ্যে অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ না দিয়ে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সাধারণত বিড়ালের অ্যালার্জি শনাক্ত করতে প্রথমে অন্যান্য সম্ভাব্য রোগ বা সমস্যার কারণগুলো বাদ দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে উপযুক্ত চিকিৎসা ও যত্নের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিড়াল নিজের অসুস্থতার কথা মুখে বলতে পারে না। তাই তার আচরণ ও শরীরের পরিবর্তন খেয়াল রাখা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই একজন দায়িত্বশীল পোষা প্রাণীর মালিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















