চীনের কর্মকর্তাদের কাজের ধরণ এক দশক আগে পর্যন্ত ছিল স্পষ্ট: আর্থিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের মূল মাপকাঠি হিসেবে রাখছে নৈতিকতা, আনুগত্য এবং পার্টির নির্দেশনা মেনে চলাকে। অর্থাৎ, যেখানে আগে মূল লক্ষ্য ছিল জিডিপি বৃদ্ধি, এখন প্রধান লক্ষ্য হলো শীর্ষনেতা শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কাজ করা।
লক্ষ্য বদলের ইতিহাস ও প্রভাব
২০১৩ সালে শি জিনপিং পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের এক বছর পর কেন্দ্রীয় সংস্থা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেয়। জিডিপি বৃদ্ধি ভিত্তিক পুরোনো ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসনকে অতিরিক্ত ব্যয় এবং দূষণে প্রবণ করে তুলছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ‘উচ্চমানের উন্নয়ন’ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কাজ করা এখন কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব।
অর্থনীতি বনাম পরিবেশ
যদিও ‘উচ্চমানের উন্নয়ন’ শিরোনামের অধীনে অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, বাস্তবে পরিবেশগত লক্ষ্য কর্মকর্তাদের ওপর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মতো প্রভাব ফেলতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, চীনের সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় কার্বন তীব্রতা ১৮% কমানোর লক্ষ্য ছিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা মাত্র ১২% কমানো গেছে। তবু কোনো কর্মকর্তা এই কারণে তার পদবি হারায়নি।
শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণই প্রধান মানদণ্ড
স্থানীয় প্রশাসকরা এখন শি জিনপিংয়ের উক্তি এবং অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে কাজ করতে উৎসাহী। পার্টি গণসেবা, জনগণের জন্য সুবিধা, বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত এবং দৃঢ়তার নীতিকে ভিত্তি করে কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে কর্মকর্তারা কেবল আর্থিক বৃদ্ধি বা পরিবেশগত লক্ষ্য নিয়ে চিন্তিত নয়, বরং শীর্ষনেতার নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব কর্মশৈলী মানিয়ে নিচ্ছে।
নতুন বাস্তবতা: আনুগত্যই প্রথম
যুব প্রশাসকরা এখন দেশের দরিদ্র অঞ্চলে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে তারা শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দারিদ্র্য বিমোচনে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। পার্টি পিন ধারণ করা, সরস পোশাক পরা এবং সপ্তাহান্তে অফিসে উপস্থিত থাকা—সবকিছুই শীর্ষনেতার আদর্শ অনুসরণে officialsদের অনুরূপ চিত্র উপস্থাপন করছে। অর্থাৎ, চীনা কর্মকর্তাদের জন্য আর্থিক বৃদ্ধি নয়, আনুগত্যই এখন মূল লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















