০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

দেশপ্রেমের এই নমুনা, আমার হাতে হাতকড়া: মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

ঢাকার পল্টন থানায় মানবপাচার সংক্রান্ত মামলায় হাজির হওয়ার সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার হাতে হাতকড়া পরানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রিমান্ড ও আদালতে হাজিরি

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে দ্বিতীয় দফার ১১ দিনের রিমান্ড শেষে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালস থেকে নামার সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনকে বলেন, “দেশপ্রেমের এই নমুনা—আজ আমার হাতে হাতকড়া। আমি দেশের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি। সেই দেশপ্রেমের কারণে আজ আমাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। মামলাগুলো হয়রানি ও হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।”

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম সরকার রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে জানান, আসামি ১/১১-এর কুশীলব ছিলেন। শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছিলেন বলে তাকে সংসদ সদস্য করা হয়। টাকা ও স্বার্থের কারণে তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন। রিমান্ডে তিনি সমস্ত তথ্য দেননি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে তার চার দিনের রিমান্ড অপরিহার্য।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব বলেন, মামলায় আসামিকে ইতিমধ্যেই দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত সংক্রান্ত অগ্রগতির কোনো উল্লেখ নেই। এটি মানবপাচার মামলা, কিন্তু তথ্য উদঘাটনের পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তা অন্য বিষয়ে ব্যস্ত। আত্মসাতের টাকা উদ্ধার করতে এই মামলায় রিমান্ড দেওয়ার যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বয়স ৭২ বছরের বেশি, তিনি অসুস্থ, ব্রেইন সার্জারি এবং হার্টে রিং বসানো রয়েছে। তবু বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে কারণ তারা প্রত্যাশিত তথ্য পাচ্ছেন না। তাই রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী গ্রেফতারি ও রিমান্ড

এর আগে গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালত প্রথমে পাঁচ দিন এবং পরবর্তীতে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

দেশপ্রেমের এই নমুনা, আমার হাতে হাতকড়া: মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

০৮:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার পল্টন থানায় মানবপাচার সংক্রান্ত মামলায় হাজির হওয়ার সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার হাতে হাতকড়া পরানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রিমান্ড ও আদালতে হাজিরি

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে দ্বিতীয় দফার ১১ দিনের রিমান্ড শেষে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালস থেকে নামার সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনকে বলেন, “দেশপ্রেমের এই নমুনা—আজ আমার হাতে হাতকড়া। আমি দেশের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি। সেই দেশপ্রেমের কারণে আজ আমাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। মামলাগুলো হয়রানি ও হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।”

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম সরকার রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে জানান, আসামি ১/১১-এর কুশীলব ছিলেন। শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছিলেন বলে তাকে সংসদ সদস্য করা হয়। টাকা ও স্বার্থের কারণে তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন। রিমান্ডে তিনি সমস্ত তথ্য দেননি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে তার চার দিনের রিমান্ড অপরিহার্য।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব বলেন, মামলায় আসামিকে ইতিমধ্যেই দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত সংক্রান্ত অগ্রগতির কোনো উল্লেখ নেই। এটি মানবপাচার মামলা, কিন্তু তথ্য উদঘাটনের পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তা অন্য বিষয়ে ব্যস্ত। আত্মসাতের টাকা উদ্ধার করতে এই মামলায় রিমান্ড দেওয়ার যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বয়স ৭২ বছরের বেশি, তিনি অসুস্থ, ব্রেইন সার্জারি এবং হার্টে রিং বসানো রয়েছে। তবু বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে কারণ তারা প্রত্যাশিত তথ্য পাচ্ছেন না। তাই রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী গ্রেফতারি ও রিমান্ড

এর আগে গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালত প্রথমে পাঁচ দিন এবং পরবর্তীতে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।