বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় ধরনের চোট-সংকটের মধ্যেও নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিল জাপান। টেক্সাসের আর্লিংটনে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে সামুরাই ব্লু। ম্যাচজুড়ে পিছিয়ে পড়েও হাল না ছেড়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরেছে দলটি।
চোটে জর্জরিত জাপান
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই জাপান একাধিক ধাক্কা খায়। দলের অন্যতম আক্রমণভাগের ভরসা কাওরু মিতোমা গুরুতর হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ছিটকে যান। তাকুমি মিনামিনোও ফিটনেস সমস্যার কারণে দলে থাকতে পারেননি। এর সঙ্গে অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো পায়ের চোটের কারণে দল ছাড়েন এবং পরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি জাপানের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি। প্রথমার্ধে দলটি রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকেছে এবং আক্রমণেও নেদারল্যান্ডসকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলেছে।
গোলের লড়াই
ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে নেদারল্যান্ডসের পক্ষে। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু জাপান খুব দ্রুতই জবাব দেয়। কেইতো নাকামুরার শক্তিশালী শট ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেনকে পরাস্ত করে সমতা ফেরায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ক্রাইসেনসিও সামারভিল দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে নেদারল্যান্ডসকে আবারও এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল জাপানের হার প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু কোচ হাজিমে মরিয়াসু ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ম্যাচে নতুন গতি আনেন।
জুনিয়া ইতো, তাকেহিরো তোমিয়াসু, ইউকিনারি সুগাওয়ারাসহ একাধিক খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হয়। এর মধ্যেই তারকা ফুটবলার তাকেফুসা কুবো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, যা জাপানের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।

শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন
চাপের মুখে অনেক দলই আত্মসমর্পণ করত। কিন্তু জাপান তা করেনি। ম্যাচজুড়ে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের অবিরাম উৎসাহ দলকে অনুপ্রাণিত করেছে। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখা যায় ৮৯তম মিনিটে।
কোকি ওগাওয়ার কর্নার থেকে উঠে আসা বলে দাইচি কামাদা অসাধারণ হেডে গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সেই ফলই অক্ষুণ্ন থাকে।
ডার্ক হর্স হিসেবে জাপান
এই ড্র শুধু একটি পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে জাপানের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দলটি দেখিয়েছে যে তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা রাখে।
ম্যাচ শেষে দাইচি কামাদা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারানো অবশ্যই হতাশাজনক। তবে এই ম্যাচে জাপান প্রমাণ করেছে যে তাদের দলে অনেক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার রয়েছে। দেশের জন্য ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই তারা খেলছে।
সামনের চ্যালেঞ্জ
গ্রুপ পর্বে জাপানের সামনে এখন আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আগামী শনিবার মন্টেরেতে তারা তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে। এরপর ২৫ জুন আবার আর্লিংটনে সুইডেনের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে দলটি।
বড় চোটের ধাক্কা, ম্যাচের ভেতর নতুন চোটের আশঙ্কা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ—সবকিছুর পরও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের এই লড়াকু ড্র দলটির আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ ড্র করে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে জাপান। চোট-সংকটের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে সামুরাই ব্লু।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















