০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন মশাখালীতে যমুনা এক্সপ্রেস থামিয়ে আন্দোলন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ খুলনায় ইটভাটায় যুবককে গুলি করে হত্যা, মাথায় গুলি করে পালাল দুর্বৃত্তরা নারীদের ট্যুর দ্য ফ্রান্সে রুদ্ধশ্বাস লড়াই, ৮ সেকেন্ডের নাটক পেরিয়ে ভোলেরিংয়ের জয়

ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে ঘটে গেল নজিরবিহীন এক গোপন নিরাপত্তা অভিযান। ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পর ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠিয়ে গোপনে সেখান থেকে নামিয়ে একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পুরো পরিকল্পনা এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পকে বহন না করেও পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান সাংবাদিক, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ও কর্মীদের নিয়ে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়ে যায়। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে ইরানের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য পৌঁছে গেছে।

হামলার আশঙ্কায় গোপন পরিকল্পনা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনের আগের রাতে একাধিক তথ্য পায়। এর মধ্যে ছিল, ইরানের লোকজন ট্রাম্প ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, এমনকি হোটেলের কোন তলায় আছেন—সেটিও জানে। একই সময়ে সম্মেলনস্থলের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখা যাওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়।

Trump flew in secrecy amid Iran threat as Air Force One became a decoy -  The Washington Post

এরপর দ্রুত ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই পরিকল্পনা ও হুমকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার সময়ও তিনি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল তৈরিতে যুক্ত ছিলেন।

ক্যাটারিং কনটেইনারে লুকিয়ে বিমান বদল

তুরস্ক ছাড়ার আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তিনি দেশে ফিরবেন। পরে ক্যামেরার সামনে পুরোনো ৭৪৭ বিমানে ওঠেন তিনি। সাংবাদিকদের বিমানের পেছনের অংশে উঠতে বলা হয় এবং জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে পরে জানা যায়, ট্রাম্পকে ওই বিমানে রাখা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের অপর পাশে একটি ক্যাটারিং কনটেইনারের আড়ালে তাকে বের করে এনে কাছেই থাকা সি-৩২এ সামরিক বিমানে তোলা হয়। এরপর তিনি গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানটি ট্রাম্প ছাড়াই পরে উড্ডয়ন করে। এতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুমকির বিষয়টি জানতেন এবং পুরো পরিকল্পনায় সহায়তা করার পর ওই বিমানে যাত্রা করেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারও ওই বিমানে ছিলেন। তবে তাদের সবাই হুমকির বিষয়ে অবগত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

Trump took a secret flight out of Turkey in an elaborate plot to hide his  location amid Iran war

যুক্তরাজ্যে পৌঁছে ফের বদল

যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল সামরিক ঘাঁটিতে প্রথমে কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান পৌঁছায়। পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটে সি-৩২এ এবং তার নয় মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান সেখানে নামে।

মিলডেনহলে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে সি-৩২এ থেকে গাড়িতে করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেওয়া হয়। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে নামেন এবং পরে কাতারের দেওয়া নতুন বিমান নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।

গোপন অভিযান নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সিদ্ধান্তটি তার ছিল না। তার ভাষায়, নিরাপত্তার জন্য সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী ভিন্ন বিমানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তিনি তাদের নির্দেশই অনুসরণ করেছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি

ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান

০১:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে ঘটে গেল নজিরবিহীন এক গোপন নিরাপত্তা অভিযান। ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পর ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠিয়ে গোপনে সেখান থেকে নামিয়ে একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পুরো পরিকল্পনা এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পকে বহন না করেও পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান সাংবাদিক, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ও কর্মীদের নিয়ে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়ে যায়। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে ইরানের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য পৌঁছে গেছে।

হামলার আশঙ্কায় গোপন পরিকল্পনা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনের আগের রাতে একাধিক তথ্য পায়। এর মধ্যে ছিল, ইরানের লোকজন ট্রাম্প ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, এমনকি হোটেলের কোন তলায় আছেন—সেটিও জানে। একই সময়ে সম্মেলনস্থলের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখা যাওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়।

Trump flew in secrecy amid Iran threat as Air Force One became a decoy -  The Washington Post

এরপর দ্রুত ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই পরিকল্পনা ও হুমকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার সময়ও তিনি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল তৈরিতে যুক্ত ছিলেন।

ক্যাটারিং কনটেইনারে লুকিয়ে বিমান বদল

তুরস্ক ছাড়ার আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তিনি দেশে ফিরবেন। পরে ক্যামেরার সামনে পুরোনো ৭৪৭ বিমানে ওঠেন তিনি। সাংবাদিকদের বিমানের পেছনের অংশে উঠতে বলা হয় এবং জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে পরে জানা যায়, ট্রাম্পকে ওই বিমানে রাখা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের অপর পাশে একটি ক্যাটারিং কনটেইনারের আড়ালে তাকে বের করে এনে কাছেই থাকা সি-৩২এ সামরিক বিমানে তোলা হয়। এরপর তিনি গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানটি ট্রাম্প ছাড়াই পরে উড্ডয়ন করে। এতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুমকির বিষয়টি জানতেন এবং পুরো পরিকল্পনায় সহায়তা করার পর ওই বিমানে যাত্রা করেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারও ওই বিমানে ছিলেন। তবে তাদের সবাই হুমকির বিষয়ে অবগত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

Trump took a secret flight out of Turkey in an elaborate plot to hide his  location amid Iran war

যুক্তরাজ্যে পৌঁছে ফের বদল

যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল সামরিক ঘাঁটিতে প্রথমে কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান পৌঁছায়। পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটে সি-৩২এ এবং তার নয় মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান সেখানে নামে।

মিলডেনহলে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে সি-৩২এ থেকে গাড়িতে করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেওয়া হয়। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে নামেন এবং পরে কাতারের দেওয়া নতুন বিমান নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।

গোপন অভিযান নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সিদ্ধান্তটি তার ছিল না। তার ভাষায়, নিরাপত্তার জন্য সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী ভিন্ন বিমানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তিনি তাদের নির্দেশই অনুসরণ করেছেন।