১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল শাকের পাতায় লুকিয়ে থাকা প্রোটিন, খাদ্য জগতে নতুন সম্ভাবনার নাম রুবিসকো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নবম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী হামলায় আতঙ্ক, ঘরবন্দি ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাপক বন উজাড় হয়েছে’, মন্তব্য প্রতিমন্ত্রী টুকুর ওনাকে কিনে নিচ্ছে ওপেনএআই, এআই বাজারে নতুন সংযোজন ঢাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রান৪আর্থ ম্যারাথন, জলবায়ু সচেতনতার বার্তা ইনভিক্টাস গেমসের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছেন আহত সেনারা: প্রিন্স হ্যারির স্বপ্ন আরও বড় অলিম্পিক সোনা জয়ের পরও আলোচনায় অ্যালিসা লিউ, আনন্দেই খুঁজে পেলেন সাফল্যের নতুন অর্থ

ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল

ওবায়দুল কাদের জেলে বসে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ (মালেক-রাজ্জাক) এর সময়ে।  যারা ওই সময়ে ছাত্রলীগ করতেন তারা সকলেই জানতেনওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি হন ক্ষমতাসীনদের একটি বিশেষ জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের ওই সময়ের নেতা আব্দুল মালেক উকিল ও আব্দুর রাজ্জাকের কাছে নির্দেশ আসার পরে। আব্দুল মালেক উকিল ও আব্দুর রাজ্জাক দুজনই ক্ষমতার ওই বিশেষ জায়গাটির কথা শুনতেন।

মালেক উকিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরে প্রকাশ্যে কী মন্তব্য করেছিলেন তা সকলে জানেন। আর ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের জুমার পরে টিকাটুলিতে যে বাসায় আশ্রয় নেন সেখানে তিনি যা যা বলেছিলেন তা উল্লেখ আর নাই করি। অন্যদিকে আব্দুর রাজ্জাক ১৫ আগস্টের পরে প্রথমে মোশতাকের সঙ্গে যাওয়াপরে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যাওয়াওবায়দুর রহমানের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করে জেল ও রাজনীতিতে যান সে আরেক অধ্যায়।

এ কারণে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পরে যেভাবে ছাত্র রাজনীতিতে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের অবস্থান শক্ত হয়ে উঠছিলো- সে সময়ে ওবায়দুল কাদেরকে সভাপতি নির্বাচন করা ক্ষমতাসীনদের জন্যে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো।

ছাত্রলীগের অনেক সভাপতি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে ছিলেন না বা নেই। তারা বাংলাদেশের রাজনীতির পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের রঙও পরিবর্তন করেছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে শেখ শহীদও। তাছাড়া মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাসের পরিবর্তন হতেই পারে। আর বিশ্বাস পরিবর্তনের কারণে বা সুবিধার কারণে তারা দল পরিবর্তন করতেই পারেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরই একমাত্র- যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে লিখেছেন ও বলেছেন, “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদও ঠিক।

অনেকেই মনে করেন বা বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের” মূল উদ্ভাবক খন্দকার আব্দুল হামিদ ও আবুল মনসুর আহমদ। বাস্তবে এই দুজন বিষয়টিকে মানুষের মুখে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু এটা প্রথমে উচ্চারণ করেন বসন্ত চাট্যার্জ্জী। বসন্ত চাট্যার্জ্জী ও নিরোদ শ্রী চৌধুরির বাড়ি একই জায়গায়। আশ্চর্যভাবে বিশ্বাসটা দুজনের একই যেবাঙালি বলতে বাঙালি হিন্দু। যে কারণে বসন্ত চাট্যার্জ্জী বাংলাদেশ হলে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশী” হবে বলে উল্লেখ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য যে বাঙালি সংস্কৃতির ধারক কোনো মতেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠী নয়।

অর্থাৎ অতি সূক্ষ্মভাবে একটি বিভেদ তৈরি করা। এ বিভেদের মূল উদ্দেশ্য আরও গভীরে। কারণপঞ্চাশ ও ষাটের দশকের যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির ভাষা ও ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তাবাদ গড়ে ওঠে- ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট শুধু নয় সংজ্ঞায়িত হয়ে যায়। যেমন, “তুমি কেআমি কেবাঙালি বাঙালি। অর্থাৎ ধর্ম বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে সকলে বাঙালি। আর সে ভূখণ্ড চিহ্নিত হয়, “তোমার আমার ঠিকানাপদ্মামেঘনা যমুনা। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় পতাকায় ম্যাপও ছিলো পদ্মা মেঘনা যমুনা বিধৌত বাংলাদেশের।

তাই যারা এই বাঙালি জাতীয়তাবাদে আঘাত করেছিলেন বা করেন তারা কিন্তু মূলত সূক্ষ্মভাবে বাংলাদেশের ভিত্তিমূলে আঘাত করে বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তানের দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা করেন। কারণভারত ও পাকিস্তান ধর্মের ভিত্তিতে হয়কেবল বাংলাদেশই এ ভূখণ্ডের বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদে সৃষ্টি করে। যেখানে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের কোনো যোগ ছিলো না।

তাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বসে ওবায়দুল কাদের লিখিতভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সমর্থন করেছিলেনতা সত্যিই রহস্যজনক। এছাড়া গত আওয়ামী লীগ আমলে সকলেরই মনে পড়বে২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমে ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রী করা হয়নি। এ সময়ে ওবায়দুল কাদের প্রায়ই পত্রপত্রিকায় বিবৃতিসাক্ষাৎকার বা কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দুই সফল ও শিক্ষিত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতেন। এই দুইজন হলেন বিশিষ্ট লেখকবুদ্ধিজীবী ও বাংলাদেশের সব থেকে সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতঅন্যজন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে কাঠামোগতভাবে দাঁড় করানো ব্যক্তিত্বওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তওফিক ইমামযিনি এইচ টি ইমাম নামে বেশি পরিচিত।

এত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা থাকতে এই দুইজনকে ওবায়দুল কাদের কেন আক্রমণ করতেন তা রহস্যজনক। কারণ ২০০৮-এর নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটি অর্থনৈতিক মন্দাকে মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ সময়ে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো অর্থনৈতিক মন্দাকে মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেয়া। যে কারণে শুরু থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থাগুলোর সঙ্গে পুনরায় সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেনঅন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর জোর দেন। সে সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এতটা খারাপ পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যেঢাকার সবুজায়নের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের অর্থ প্রায় পুরোটাই দুর্নীতির কবলে পড়ায়- বিশ্বব্যাংক এসব ছোটখাট প্রকল্পেও বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। এমন একটা সময়ে মন্দার ভেতর অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবার জন্যে সব থেকে বেশি প্রয়োজন পড়ে স্থিতিশীল প্রশাসন। এইচ টি ইমাম দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে অনেকটা রিকনসিলিয়েশনের মতোই সবাইকে নিয়ে একটা স্থিতিশীল প্রশাসন দ্রুত দাঁড় করান। যার ফলে দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক হয় এবং মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি গতি পায়। কিন্তু ওই সময়ে দেখা গেছে ওবায়দুল কাদেরসহ অর্থ সংক্রান্ত একটি মূল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্রমাগতভাবে এই দুই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে চলেছে। এবং যে শক্তিটি আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের একটা দূরত্ব চাচ্ছিলো তারা এদের মাধ্যমে দ্রুত সফল হন।

এরপরে ওবায়দুল কাদেরের মুখ বন্ধ করার জন্যে তাকে মন্ত্রী করা হয়- অন্যজন প্রাকৃতিকভাবে বা নিজস্ব গাফিলতির কারণে শাস্তি পেয়ে পদ হারান। কিন্তু মন্ত্রী হয়েও ওবায়দুল কাদের তার এই কাজ থেকে সরে আসেনি। তিনি সেই বিশেষ শক্তির কাজই করে গেছেন। যেমন টিএসসিতে ছাত্রলীগের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এইচ টি ইমাম ছাত্রলীগের ছাত্রদেরকে বলেছিলেনতোমরা পড়াশোনা করে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় পাস করো- ভাইভাতে যাতে তোমরা পাস করতে পারো সেজন্য প্রয়োজনে আমি নিজে কোচিং করাবো। এবং আরও অনেক অভিজ্ঞজন দিয়ে কোচিং করানোর ব্যবস্থা আমি নেব।

সেদিন মিডিয়াতে এসেছিলো এইচ টি ইমাম বলেছেনছাত্রলীগের ছেলেরা যাতে ভাইভাতে পাস করতে পারে সে ব্যবস্থা আমি নেব। এবং নিউজ যাতে এভাবে যায়- এজন্য ওবায়দুল কাদের তার ঘনিষ্ঠ কয়েক রিপোর্টারকে ফোনও করেন। অর্থাৎ এরা একটা চক্র ছিলো। আর রিপোর্ট সেভাবেই বেশিভাগ টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় প্রচার হয়। যা নিয়ে পরে সত্য বিষয়টি আব্দুল গাফফার চৌধুরি লিখেছিলেন।

বাস্তবে রাজনীতির অন্দরমহলে এটা কোন গোষ্ঠীর কাজ ছিলো তা নিয়ে এদেশের ভবিষ্যৎ গবেষকদের গবেষণা করতে হবে।

এরপরেও ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হন। এই পদেশামসুল হকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানতাজউদ্দিন আহমদজিল্লুর রহমানসৈয়দা সাজেদা চৌধুরিআব্দুল জলিলসৈয়দ আশরাফের মতো নেতারা ছিলেন। এর ভেতর শামসুল হকবঙ্গবন্ধু থেকে সৈয়দ আশরাফ আর আওয়ামী লীগবাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ অভিন্ন সত্তা। কিন্তু সম্প্রতি কিছু তথাকথিত লেখক গবেষকদের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষের তরুণদের তাজউদ্দিন আহমদকে এক ধরনের কমিউনিস্ট বানানোর চেষ্টা দেখে- এ লেখার প্রসঙ্গ না হলেও এক লাইন বলতে হচ্ছেতাজউদ্দিন আহমদের ছাত্র জীবনমুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের বিশেষ সহকারী জীবন থেকে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ধীরে ধীরে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। তাকে যারা বামপন্থী ট্যাগ দিচ্ছেন- এদের ভেতর তরুণরা ভুল করছেন। আর বাদবাকীদের উদ্দেশ্য কী জানি না। তবে বঙ্গবন্ধুতাজউদ্দিন আহমদ এরা সকলেই প্রকৃত বিপ্লবী। বিপ্লবীদের নিজের জীবনে বিপ্লবের বড় অংশ থাকে। নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য বঙ্গবন্ধুতাজউদ্দিন আহমদ সকলেই তাদের তরুণ বেলার কমিউনিস্টদের জীবন থেকে ত্যাগ ও নিয়মানুবর্তিতা নিজের জীবনে গ্রহণ করেছেন। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দিন আহমদই সব থেকে বেশি সচেতন ছিলেন যাতে বিশেষ বামদের” হাতে অস্ত্র না যায়। তাহলে মুক্তিযুদ্ধকে তারা ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে।

তাই এমন ব্যক্তিত্বরা আওয়ামী লীগের যে পদে ছিলেন সেখানে আওয়ামী লীগে এমন কোনো দেউলিয়াত্ব আসেনি যে ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করতে হবে। আর তিনি জেনারেল সেক্রেটারি হবার পরে এই সংগঠনের কার্যক্রম কীভাবে নষ্ট হয়সকল অঙ্গসংগঠন কীভাবে নষ্ট হয় তা সকলেই জানেন। সে কাজ ওবায়দুল কাদের কীভাবে করেন তা বলে এ লেখার কলেবর বাড়াতে চাই না। তাছাড়া এ বিষয়টি আমার থেকে আওয়ামী লীগের সংগঠনের যে কোনো প্রকৃত কর্মী অনেক বেশি ভালো লিখতে বা বলতে পারবেন। তবে একটা লাইন শুধু বলবোশামসুল হকবঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সৈয়দ আশরাফ ছিলেন সকল নেতা কর্মীর ভাই। আর ওবায়দুল কাদের ছিলেন স্যার

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম আওয়ামী লীগের এই স্যার” তাদের দলের নেত্রীকে বলছেন, “আপা আপনি প্রায় স্টেটসম্যান পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। যেখানে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর জন্যে এত মেটিকুলাস ডিজাইনের সাফল্যের পরেও বাংলাদেশের উন্নয়ন আর শেখ হাসিনা প্রায় সমার্থক শব্দ। আর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটা কথা আগেই ভালো ছিলাম। সর্বোপরি সাধারণ মানুষও বলেএই যেমন জয়শংকর বাংলাদেশে আসার পরে বাংলাদেশের রাজনীতির সব কিছু বদলে গেছে। শেখ হাসিনা যদি এমনি মেনে নিতেনযদি তিনি সব দেশকে নিয়ে না চলতেন- তাহলে তার পতন হতো না। শুধু তাই নয় মানুষ তো দেখতে পাচ্ছে- এখন তো রাষ্ট্রদূতদেরই জয় জয়কার। আর শেখ হাসিনার সময় কত মন্ত্রী এসেও প্রধানমন্ত্রীর দেখা না পেয়ে ফিরে গেছে। এরপরেও ওবায়দুল কাদের বলছে, “আপনি প্রায় স্টেটসম্যান পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন

ওই বক্তব্যের এক পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের যা বলেছেন তাতে অনেকটা দূর থেকে হলেও প্রকাশ করেবর্তমান রাষ্ট্রপতি জাস্টিস শাহাবুদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা শেখ হাসিনার একটি বড় ভুল।

সাংবাদিক হিসেবে জানি ওবায়দুল কাদের নিজে ওই পদে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন। যে কারণে শাহাবুদ্দিন আহমদের ওপর তার একটা ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু তার থেকে বড় হলোতিনি ওই বক্তব্যে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে কী দিয়েছে। ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইন সফল হবার পরে সেই বাংলাদেশে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন কী দিয়েছেন বাংলাদেশকে- সে কথা লেখার পরিবেশ এখনও আসেনি। তবে যদি সে পরিবেশ কখনও ফিরে আসে সেখানে অন্তত এটুকু লেখা থাকবে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করেন। আর ইউনূসের ভয়ংকর চক্রান্ত ও প্রতিহিংসার মাঝেও তিনি টিকিয়ে রাখেন দেশের সংবিধান। সেখানে তার কমিটমেন্টের কোনো ঘাটতি ছিলো না।

তবে ওবায়দুল কাদেরকে শুধু বলা যায়তিনি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি। পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশ ত্যাগ করেছেন। বর্তমানের জামায়াত নেতামুক্তিযোদ্ধা মেজর আকতারুজ্জামানের ভাষায়- তিনি যুদ্ধ থেকে পশ্চাদপসারণ করেছেন। সাফল্যের সঙ্গে পশ্চাদপসারণও সমরবিজ্ঞানে অনেক বড় বিজয়।

কিন্তু পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হয়ে ওবায়দুল কাদের পালিয়ে গেলেন কেনএবং বাথরুমে থাকার গল্প তিনি কেন তার কর্মীদের শোনালেনউদ্দেশ্য কী৮৫ বছর বয়সের আমির হোসেন আমু তো তার অনেক আগেই চলে যেতে পারতেনতিনি তো যাননি। তিনি তো কোনো বাথরুমে লুকিয়ে থাকার গল্প তার কর্মীদের শোনাননি। বরং কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “আজ যে অবস্থা আপনারা দেখছেনআগামীকাল তা থাকবে না। এটাই রাজনীতির সত্য। রাজনীতি নদীর জলস্রোতের মতো উপরে ওঠে এবং আবার নিচেও নামে। এটাই স্বাভাবিক গতি।

কিন্তু ওবায়দুল কাদের তো রাজনীতি করতেন না তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়শামীম ওসমান মার্কা লোকদের মতো খেলা” খেলতেন। আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হয়েযে পদে বঙ্গবন্ধু ছিলেনসেই পদে থেকে  তিনি মমতা বা শামীম ওসমানের মতো বলতেন, “খেলা হবে। তোফায়েল আহমদ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেনএটা রাজনীতির ভাষা নয়। তারপরেও তিনি সেই ভাষা বলতেন। যার মুখে রাজনীতির ভাষা থাকে না তিনি কে?

লেখকঃ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকসম্পাদকসারাক্ষণ, The Present World

জনপ্রিয় সংবাদ

ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল

ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল

০৯:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ওবায়দুল কাদের জেলে বসে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ (মালেক-রাজ্জাক) এর সময়ে।  যারা ওই সময়ে ছাত্রলীগ করতেন তারা সকলেই জানতেনওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি হন ক্ষমতাসীনদের একটি বিশেষ জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের ওই সময়ের নেতা আব্দুল মালেক উকিল ও আব্দুর রাজ্জাকের কাছে নির্দেশ আসার পরে। আব্দুল মালেক উকিল ও আব্দুর রাজ্জাক দুজনই ক্ষমতার ওই বিশেষ জায়গাটির কথা শুনতেন।

মালেক উকিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরে প্রকাশ্যে কী মন্তব্য করেছিলেন তা সকলে জানেন। আর ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের জুমার পরে টিকাটুলিতে যে বাসায় আশ্রয় নেন সেখানে তিনি যা যা বলেছিলেন তা উল্লেখ আর নাই করি। অন্যদিকে আব্দুর রাজ্জাক ১৫ আগস্টের পরে প্রথমে মোশতাকের সঙ্গে যাওয়াপরে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যাওয়াওবায়দুর রহমানের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করে জেল ও রাজনীতিতে যান সে আরেক অধ্যায়।

এ কারণে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পরে যেভাবে ছাত্র রাজনীতিতে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের অবস্থান শক্ত হয়ে উঠছিলো- সে সময়ে ওবায়দুল কাদেরকে সভাপতি নির্বাচন করা ক্ষমতাসীনদের জন্যে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো।

ছাত্রলীগের অনেক সভাপতি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে ছিলেন না বা নেই। তারা বাংলাদেশের রাজনীতির পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের রঙও পরিবর্তন করেছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে শেখ শহীদও। তাছাড়া মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাসের পরিবর্তন হতেই পারে। আর বিশ্বাস পরিবর্তনের কারণে বা সুবিধার কারণে তারা দল পরিবর্তন করতেই পারেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরই একমাত্র- যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে লিখেছেন ও বলেছেন, “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদও ঠিক।

অনেকেই মনে করেন বা বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের” মূল উদ্ভাবক খন্দকার আব্দুল হামিদ ও আবুল মনসুর আহমদ। বাস্তবে এই দুজন বিষয়টিকে মানুষের মুখে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু এটা প্রথমে উচ্চারণ করেন বসন্ত চাট্যার্জ্জী। বসন্ত চাট্যার্জ্জী ও নিরোদ শ্রী চৌধুরির বাড়ি একই জায়গায়। আশ্চর্যভাবে বিশ্বাসটা দুজনের একই যেবাঙালি বলতে বাঙালি হিন্দু। যে কারণে বসন্ত চাট্যার্জ্জী বাংলাদেশ হলে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশী” হবে বলে উল্লেখ করেন। এর মূল উদ্দেশ্য যে বাঙালি সংস্কৃতির ধারক কোনো মতেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠী নয়।

অর্থাৎ অতি সূক্ষ্মভাবে একটি বিভেদ তৈরি করা। এ বিভেদের মূল উদ্দেশ্য আরও গভীরে। কারণপঞ্চাশ ও ষাটের দশকের যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির ভাষা ও ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তাবাদ গড়ে ওঠে- ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট শুধু নয় সংজ্ঞায়িত হয়ে যায়। যেমন, “তুমি কেআমি কেবাঙালি বাঙালি। অর্থাৎ ধর্ম বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে সকলে বাঙালি। আর সে ভূখণ্ড চিহ্নিত হয়, “তোমার আমার ঠিকানাপদ্মামেঘনা যমুনা। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় পতাকায় ম্যাপও ছিলো পদ্মা মেঘনা যমুনা বিধৌত বাংলাদেশের।

তাই যারা এই বাঙালি জাতীয়তাবাদে আঘাত করেছিলেন বা করেন তারা কিন্তু মূলত সূক্ষ্মভাবে বাংলাদেশের ভিত্তিমূলে আঘাত করে বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তানের দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা করেন। কারণভারত ও পাকিস্তান ধর্মের ভিত্তিতে হয়কেবল বাংলাদেশই এ ভূখণ্ডের বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদে সৃষ্টি করে। যেখানে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের কোনো যোগ ছিলো না।

তাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বসে ওবায়দুল কাদের লিখিতভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সমর্থন করেছিলেনতা সত্যিই রহস্যজনক। এছাড়া গত আওয়ামী লীগ আমলে সকলেরই মনে পড়বে২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমে ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রী করা হয়নি। এ সময়ে ওবায়দুল কাদের প্রায়ই পত্রপত্রিকায় বিবৃতিসাক্ষাৎকার বা কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দুই সফল ও শিক্ষিত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতেন। এই দুইজন হলেন বিশিষ্ট লেখকবুদ্ধিজীবী ও বাংলাদেশের সব থেকে সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতঅন্যজন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে কাঠামোগতভাবে দাঁড় করানো ব্যক্তিত্বওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তওফিক ইমামযিনি এইচ টি ইমাম নামে বেশি পরিচিত।

এত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা থাকতে এই দুইজনকে ওবায়দুল কাদের কেন আক্রমণ করতেন তা রহস্যজনক। কারণ ২০০৮-এর নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে একটি অর্থনৈতিক মন্দাকে মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ সময়ে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো অর্থনৈতিক মন্দাকে মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেয়া। যে কারণে শুরু থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থাগুলোর সঙ্গে পুনরায় সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেনঅন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর জোর দেন। সে সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এতটা খারাপ পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যেঢাকার সবুজায়নের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের অর্থ প্রায় পুরোটাই দুর্নীতির কবলে পড়ায়- বিশ্বব্যাংক এসব ছোটখাট প্রকল্পেও বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। এমন একটা সময়ে মন্দার ভেতর অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবার জন্যে সব থেকে বেশি প্রয়োজন পড়ে স্থিতিশীল প্রশাসন। এইচ টি ইমাম দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে অনেকটা রিকনসিলিয়েশনের মতোই সবাইকে নিয়ে একটা স্থিতিশীল প্রশাসন দ্রুত দাঁড় করান। যার ফলে দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক হয় এবং মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি গতি পায়। কিন্তু ওই সময়ে দেখা গেছে ওবায়দুল কাদেরসহ অর্থ সংক্রান্ত একটি মূল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্রমাগতভাবে এই দুই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে চলেছে। এবং যে শক্তিটি আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের একটা দূরত্ব চাচ্ছিলো তারা এদের মাধ্যমে দ্রুত সফল হন।

এরপরে ওবায়দুল কাদেরের মুখ বন্ধ করার জন্যে তাকে মন্ত্রী করা হয়- অন্যজন প্রাকৃতিকভাবে বা নিজস্ব গাফিলতির কারণে শাস্তি পেয়ে পদ হারান। কিন্তু মন্ত্রী হয়েও ওবায়দুল কাদের তার এই কাজ থেকে সরে আসেনি। তিনি সেই বিশেষ শক্তির কাজই করে গেছেন। যেমন টিএসসিতে ছাত্রলীগের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এইচ টি ইমাম ছাত্রলীগের ছাত্রদেরকে বলেছিলেনতোমরা পড়াশোনা করে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় পাস করো- ভাইভাতে যাতে তোমরা পাস করতে পারো সেজন্য প্রয়োজনে আমি নিজে কোচিং করাবো। এবং আরও অনেক অভিজ্ঞজন দিয়ে কোচিং করানোর ব্যবস্থা আমি নেব।

সেদিন মিডিয়াতে এসেছিলো এইচ টি ইমাম বলেছেনছাত্রলীগের ছেলেরা যাতে ভাইভাতে পাস করতে পারে সে ব্যবস্থা আমি নেব। এবং নিউজ যাতে এভাবে যায়- এজন্য ওবায়দুল কাদের তার ঘনিষ্ঠ কয়েক রিপোর্টারকে ফোনও করেন। অর্থাৎ এরা একটা চক্র ছিলো। আর রিপোর্ট সেভাবেই বেশিভাগ টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় প্রচার হয়। যা নিয়ে পরে সত্য বিষয়টি আব্দুল গাফফার চৌধুরি লিখেছিলেন।

বাস্তবে রাজনীতির অন্দরমহলে এটা কোন গোষ্ঠীর কাজ ছিলো তা নিয়ে এদেশের ভবিষ্যৎ গবেষকদের গবেষণা করতে হবে।

এরপরেও ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হন। এই পদেশামসুল হকবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানতাজউদ্দিন আহমদজিল্লুর রহমানসৈয়দা সাজেদা চৌধুরিআব্দুল জলিলসৈয়দ আশরাফের মতো নেতারা ছিলেন। এর ভেতর শামসুল হকবঙ্গবন্ধু থেকে সৈয়দ আশরাফ আর আওয়ামী লীগবাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ অভিন্ন সত্তা। কিন্তু সম্প্রতি কিছু তথাকথিত লেখক গবেষকদের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষের তরুণদের তাজউদ্দিন আহমদকে এক ধরনের কমিউনিস্ট বানানোর চেষ্টা দেখে- এ লেখার প্রসঙ্গ না হলেও এক লাইন বলতে হচ্ছেতাজউদ্দিন আহমদের ছাত্র জীবনমুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের বিশেষ সহকারী জীবন থেকে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ধীরে ধীরে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। তাকে যারা বামপন্থী ট্যাগ দিচ্ছেন- এদের ভেতর তরুণরা ভুল করছেন। আর বাদবাকীদের উদ্দেশ্য কী জানি না। তবে বঙ্গবন্ধুতাজউদ্দিন আহমদ এরা সকলেই প্রকৃত বিপ্লবী। বিপ্লবীদের নিজের জীবনে বিপ্লবের বড় অংশ থাকে। নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য বঙ্গবন্ধুতাজউদ্দিন আহমদ সকলেই তাদের তরুণ বেলার কমিউনিস্টদের জীবন থেকে ত্যাগ ও নিয়মানুবর্তিতা নিজের জীবনে গ্রহণ করেছেন। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দিন আহমদই সব থেকে বেশি সচেতন ছিলেন যাতে বিশেষ বামদের” হাতে অস্ত্র না যায়। তাহলে মুক্তিযুদ্ধকে তারা ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে।

তাই এমন ব্যক্তিত্বরা আওয়ামী লীগের যে পদে ছিলেন সেখানে আওয়ামী লীগে এমন কোনো দেউলিয়াত্ব আসেনি যে ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করতে হবে। আর তিনি জেনারেল সেক্রেটারি হবার পরে এই সংগঠনের কার্যক্রম কীভাবে নষ্ট হয়সকল অঙ্গসংগঠন কীভাবে নষ্ট হয় তা সকলেই জানেন। সে কাজ ওবায়দুল কাদের কীভাবে করেন তা বলে এ লেখার কলেবর বাড়াতে চাই না। তাছাড়া এ বিষয়টি আমার থেকে আওয়ামী লীগের সংগঠনের যে কোনো প্রকৃত কর্মী অনেক বেশি ভালো লিখতে বা বলতে পারবেন। তবে একটা লাইন শুধু বলবোশামসুল হকবঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে সৈয়দ আশরাফ ছিলেন সকল নেতা কর্মীর ভাই। আর ওবায়দুল কাদের ছিলেন স্যার

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম আওয়ামী লীগের এই স্যার” তাদের দলের নেত্রীকে বলছেন, “আপা আপনি প্রায় স্টেটসম্যান পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। যেখানে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর জন্যে এত মেটিকুলাস ডিজাইনের সাফল্যের পরেও বাংলাদেশের উন্নয়ন আর শেখ হাসিনা প্রায় সমার্থক শব্দ। আর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটা কথা আগেই ভালো ছিলাম। সর্বোপরি সাধারণ মানুষও বলেএই যেমন জয়শংকর বাংলাদেশে আসার পরে বাংলাদেশের রাজনীতির সব কিছু বদলে গেছে। শেখ হাসিনা যদি এমনি মেনে নিতেনযদি তিনি সব দেশকে নিয়ে না চলতেন- তাহলে তার পতন হতো না। শুধু তাই নয় মানুষ তো দেখতে পাচ্ছে- এখন তো রাষ্ট্রদূতদেরই জয় জয়কার। আর শেখ হাসিনার সময় কত মন্ত্রী এসেও প্রধানমন্ত্রীর দেখা না পেয়ে ফিরে গেছে। এরপরেও ওবায়দুল কাদের বলছে, “আপনি প্রায় স্টেটসম্যান পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন

ওই বক্তব্যের এক পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের যা বলেছেন তাতে অনেকটা দূর থেকে হলেও প্রকাশ করেবর্তমান রাষ্ট্রপতি জাস্টিস শাহাবুদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি করা শেখ হাসিনার একটি বড় ভুল।

সাংবাদিক হিসেবে জানি ওবায়দুল কাদের নিজে ওই পদে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন। যে কারণে শাহাবুদ্দিন আহমদের ওপর তার একটা ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু তার থেকে বড় হলোতিনি ওই বক্তব্যে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে কী দিয়েছে। ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইন সফল হবার পরে সেই বাংলাদেশে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন কী দিয়েছেন বাংলাদেশকে- সে কথা লেখার পরিবেশ এখনও আসেনি। তবে যদি সে পরিবেশ কখনও ফিরে আসে সেখানে অন্তত এটুকু লেখা থাকবে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করেন। আর ইউনূসের ভয়ংকর চক্রান্ত ও প্রতিহিংসার মাঝেও তিনি টিকিয়ে রাখেন দেশের সংবিধান। সেখানে তার কমিটমেন্টের কোনো ঘাটতি ছিলো না।

তবে ওবায়দুল কাদেরকে শুধু বলা যায়তিনি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি। পার্টির সভাপতি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশ ত্যাগ করেছেন। বর্তমানের জামায়াত নেতামুক্তিযোদ্ধা মেজর আকতারুজ্জামানের ভাষায়- তিনি যুদ্ধ থেকে পশ্চাদপসারণ করেছেন। সাফল্যের সঙ্গে পশ্চাদপসারণও সমরবিজ্ঞানে অনেক বড় বিজয়।

কিন্তু পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হয়ে ওবায়দুল কাদের পালিয়ে গেলেন কেনএবং বাথরুমে থাকার গল্প তিনি কেন তার কর্মীদের শোনালেনউদ্দেশ্য কী৮৫ বছর বয়সের আমির হোসেন আমু তো তার অনেক আগেই চলে যেতে পারতেনতিনি তো যাননি। তিনি তো কোনো বাথরুমে লুকিয়ে থাকার গল্প তার কর্মীদের শোনাননি। বরং কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “আজ যে অবস্থা আপনারা দেখছেনআগামীকাল তা থাকবে না। এটাই রাজনীতির সত্য। রাজনীতি নদীর জলস্রোতের মতো উপরে ওঠে এবং আবার নিচেও নামে। এটাই স্বাভাবিক গতি।

কিন্তু ওবায়দুল কাদের তো রাজনীতি করতেন না তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়শামীম ওসমান মার্কা লোকদের মতো খেলা” খেলতেন। আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হয়েযে পদে বঙ্গবন্ধু ছিলেনসেই পদে থেকে  তিনি মমতা বা শামীম ওসমানের মতো বলতেন, “খেলা হবে। তোফায়েল আহমদ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেনএটা রাজনীতির ভাষা নয়। তারপরেও তিনি সেই ভাষা বলতেন। যার মুখে রাজনীতির ভাষা থাকে না তিনি কে?

লেখকঃ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকসম্পাদকসারাক্ষণ, The Present World