০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাস, তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই বিধানসভায় অনুমোদন আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ, বাদ পড়াদের আপিল প্রক্রিয়া চালুর দাবি নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে টানা অচল ভারতের সংসদ, শিক্ষার্থী দমন-পীড়নের অভিযোগে সরব বিরোধীরা প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা আটক বিশ্বকাপের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর রোজারিওতে ফিরলেন মেসি, বিশ্রামে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার হুমকি, টানা একাদশ রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিখাইলো দ্রাপাতি ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, মোদির কঠোর বার্তার পরও রাজপথে হাজারো তরুণ আজব প্রযুক্তিতে বাতাস থেকেই পানি, আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ কুবোটার       ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে জাপানে তীব্র তাপপ্রবাহ, ‘ভয়াবহ গরমের দিন’ ঘোষণা

চট্টগ্রামে যানজট কমাতে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা

দীর্ঘদিনের যানজট, অচল ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণের সমস্যায় ভোগা চট্টগ্রাম এবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। নগরীর ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। রাজধানীতে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার পর চট্টগ্রামেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা

নতুন স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থায় সড়কে যানবাহনের চাপ তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা হবে। ফলে যানজট কমবে, পাশাপাশি সময় ও জ্বালানির অপচয়ও হ্রাস পাবে।

সোনারগাঁয়ে মহাসড়ক দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো জরুরি সেবার যানবাহনের দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করা। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি যানবাহন প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।

নগরায়ণের চাপে নতুন উদ্যোগ

দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণে চট্টগ্রামের সড়ক নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এখনও নগরীর বড় অংশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। ফলে যান চলাচল কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিকল্পিত প্রকল্পের আওতায় বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। এতে সড়ক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি যানজটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখনও অচল অধিকাংশ সিগন্যাল

বর্তমানে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থার বড় সমস্যা হলো অচল সিগন্যাল ব্যবস্থা। নগরীর বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বছরের পর বছর ধরে সিগন্যাল বাতি বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার বদলে ট্রাফিক পুলিশকে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

পরিকল্পিত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টের বেশিরভাগ জায়গাতেই সিগন্যাল কার্যত অচল। কোথাও সিগন্যাল বাতি নেই, কোথাও নিয়ন্ত্রণ বাক্স থাকলেও আলো কাজ করে না। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক স্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে।

এর ফলে ব্যস্ত মোড়গুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং প্রায়ই বিশৃঙ্খলা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি দরকার পরিকল্পনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই প্রকল্প চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

তাদের মতে, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে প্রয়োজন। পাশাপাশি নগরীর ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক অবকাঠামোর দুর্বলতাও দূর করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষয় সমন্বিতভাবে সমাধান করা গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রকৃত সুফল পাবে চট্টগ্রামবাসী। নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাস, তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই বিধানসভায় অনুমোদন

চট্টগ্রামে যানজট কমাতে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা

১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘদিনের যানজট, অচল ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণের সমস্যায় ভোগা চট্টগ্রাম এবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। নগরীর ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। রাজধানীতে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার পর চট্টগ্রামেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা

নতুন স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থায় সড়কে যানবাহনের চাপ তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা হবে। ফলে যানজট কমবে, পাশাপাশি সময় ও জ্বালানির অপচয়ও হ্রাস পাবে।

সোনারগাঁয়ে মহাসড়ক দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো জরুরি সেবার যানবাহনের দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করা। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি যানবাহন প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক ব্যবহার করতে পারবে।

নগরায়ণের চাপে নতুন উদ্যোগ

দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণে চট্টগ্রামের সড়ক নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এখনও নগরীর বড় অংশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। ফলে যান চলাচল কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিকল্পিত প্রকল্পের আওতায় বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও সাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। এতে সড়ক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি যানজটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখনও অচল অধিকাংশ সিগন্যাল

বর্তমানে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থার বড় সমস্যা হলো অচল সিগন্যাল ব্যবস্থা। নগরীর বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বছরের পর বছর ধরে সিগন্যাল বাতি বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার বদলে ট্রাফিক পুলিশকে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

পরিকল্পিত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টের বেশিরভাগ জায়গাতেই সিগন্যাল কার্যত অচল। কোথাও সিগন্যাল বাতি নেই, কোথাও নিয়ন্ত্রণ বাক্স থাকলেও আলো কাজ করে না। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক স্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে।

এর ফলে ব্যস্ত মোড়গুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং প্রায়ই বিশৃঙ্খলা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি দরকার পরিকল্পনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই প্রকল্প চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

তাদের মতে, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে প্রয়োজন। পাশাপাশি নগরীর ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক অবকাঠামোর দুর্বলতাও দূর করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষয় সমন্বিতভাবে সমাধান করা গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রকৃত সুফল পাবে চট্টগ্রামবাসী। নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।