০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত নতুন শান্তি চুক্তি ইসরাইলে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন জোট থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির—প্রায় সব পক্ষই চুক্তিটিকে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য নেতিবাচক বলে মনে করছে। তাদের অভিযোগ, এই সমঝোতা তেহরানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং ইরানকে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করবে।

চুক্তির খবর প্রকাশের পর সোমবার সকালে ইসরাইলজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে “খারাপ চুক্তি” এবং “ইরানি শাসনের জন্য লাইফলাইন” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন সময়

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে সতর্ক করেছেন, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে বাড়ছে অসন্তোষ।

আগামী দুই মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ অপসারণ, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং লেবাননে সংঘাতের অবসান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহুকে এমন এক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরাইলি ডানপন্থীদের তীব্র আপত্তি

নেতানিয়াহুর জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া কোনো চুক্তি ইসরাইলকে বাধ্য করতে পারে না এবং দেশটি নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিতে স্বাধীন।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলকে তার নীতিগত অবস্থানে অটল থাকতে হবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।

তাদের দাবি, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ এখনও ইসরাইলের জন্য বড় হুমকি এবং সামরিক চাপ কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

Trump rages at Netanyahu as Iran deal hangs in balance

লেবানন ও গাজা নিয়ে নতুন বিরোধ

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, দেশটির সেনাবাহিনী লেবানন ও গাজায় দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান বজায় রাখবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গৃহীত নতুন নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় বাফার জোন ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তৈরি শান্তি পরিকল্পনায় গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে লেবানন ও গাজা—দুই ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে তেল আবিবের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও দৃশ্যমান টানাপোড়েন দেখা গেছে। চুক্তি ঘোষণার আগে বৈরুতে ইসরাইলি হামলার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ওই হামলার কারণে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত আশ্বাস পাওয়ার পরই তারা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্র অবরোধ দ্রুত প্রত্যাহারসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শেষ মুহূর্তে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদেরও সমালোচনা

শুধু ডানপন্থীরাই নয়, ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছে। বিরোধী নেতা ইয়াইর গোলান অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইরান ও হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিজের প্রভাবও হারিয়েছেন।

তার ভাষায়, নেতানিয়াহু ক্রমশ রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে পড়ছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি তার নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্যও স্পষ্ট হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু

০৮:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত নতুন শান্তি চুক্তি ইসরাইলে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন জোট থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির—প্রায় সব পক্ষই চুক্তিটিকে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য নেতিবাচক বলে মনে করছে। তাদের অভিযোগ, এই সমঝোতা তেহরানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং ইরানকে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করবে।

চুক্তির খবর প্রকাশের পর সোমবার সকালে ইসরাইলজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে “খারাপ চুক্তি” এবং “ইরানি শাসনের জন্য লাইফলাইন” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন সময়

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে সতর্ক করেছেন, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে বাড়ছে অসন্তোষ।

আগামী দুই মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ অপসারণ, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং লেবাননে সংঘাতের অবসান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহুকে এমন এক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরাইলি ডানপন্থীদের তীব্র আপত্তি

নেতানিয়াহুর জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া কোনো চুক্তি ইসরাইলকে বাধ্য করতে পারে না এবং দেশটি নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিতে স্বাধীন।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলকে তার নীতিগত অবস্থানে অটল থাকতে হবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।

তাদের দাবি, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ এখনও ইসরাইলের জন্য বড় হুমকি এবং সামরিক চাপ কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

Trump rages at Netanyahu as Iran deal hangs in balance

লেবানন ও গাজা নিয়ে নতুন বিরোধ

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, দেশটির সেনাবাহিনী লেবানন ও গাজায় দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান বজায় রাখবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গৃহীত নতুন নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় বাফার জোন ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তৈরি শান্তি পরিকল্পনায় গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে লেবানন ও গাজা—দুই ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে তেল আবিবের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও দৃশ্যমান টানাপোড়েন দেখা গেছে। চুক্তি ঘোষণার আগে বৈরুতে ইসরাইলি হামলার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ওই হামলার কারণে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত আশ্বাস পাওয়ার পরই তারা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্র অবরোধ দ্রুত প্রত্যাহারসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শেষ মুহূর্তে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদেরও সমালোচনা

শুধু ডানপন্থীরাই নয়, ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছে। বিরোধী নেতা ইয়াইর গোলান অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইরান ও হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিজের প্রভাবও হারিয়েছেন।

তার ভাষায়, নেতানিয়াহু ক্রমশ রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে পড়ছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি তার নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্যও স্পষ্ট হচ্ছে।