নীট (ইউজি) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর কোনো নেতিবাচক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি সরকার। তবে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রাজধানীতে নীট আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে সাধারণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর নতুন কোনো প্রতিকূল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।
মোট ১৩টি মামলা
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নীট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ মোট ১৩টি মামলা দায়ের করেছিল। এর মধ্যে যেসব ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, তাদের মুক্তির বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই এবং এ সংক্রান্ত বিষয়টি সমাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অনুমোদনক্রমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ
এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দিল্লির যন্ত্রর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে মিছিল বের হলে পুলিশ তা আটকে দেয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করা হয়।
দিল্লি পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২ হাজার ৮৭৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা পুলিশের ওপর হামলা এবং যানবাহন ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরাধমূলক রেকর্ড নিয়ে বিতর্ক
পুলিশের তথ্যমতে, শনাক্ত হওয়া ২ হাজার ৮৭৩ জনের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, যৌন সহিংসতা, অপহরণ, অস্ত্র আইন এবং মাদক-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এই কারণেই অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা থেকে সরে আসার সুযোগ রাখা হয়নি।
আন্দোলনের পটভূমি
নীট (ইউজি) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় গত মাসে সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
যন্ত্রর মন্তরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও গতি পায়।
পরে সিজেপি নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠকের পর সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেয়। পাশাপাশি পরীক্ষা সংস্কারের সুপারিশ তৈরির জন্য নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের আশ্বাসের পর ২৫ জুলাই ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে সিজেপি।
তবে সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দাবি, সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি নিশ্চিত না হলে তারা আবারও আন্দোলনে ফিরবে।
এর আগে বিহার ও আসামসহ কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যও নীট আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল।
দিল্লিতে নীট আন্দোলনের মামলায় সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বন্ধের ঘোষণা দিল সরকার। তবে অপরাধমূলক রেকর্ডধারীরা এই সুবিধার বাইরে থাকছেন।
#দিল্লি #NEET #নীট_আন্দোলন #ভারত #দিল্লি_সরকার #শিক্ষা #পরীক্ষা_সংস্কার #সিজেপি #যন্ত্রর_মন্তর #ভারতের_খবর
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















