মাদকের টাকা জোগাড়ে শিশুকে বিক্রির অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের বাসিন্দা শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে তিনি শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান এবং পরে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা রোমানা আক্তার আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি তার সন্তানকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

আদালতের নির্দেশের পর তৎপরতা
রোমানার আবেদনের পর ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত গাইবান্ধা সদর থানাকে শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন ও মুদ্রিত সংস্করণে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে আরও তৎপর হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করেন।
অভিযানের একপর্যায়ে রোববার রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মাদানের পাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

মায়ের কাছে ফিরল শিশু
উদ্ধারের পর রোববার রাতেই ১১ মাস বয়সী শিশুটিকে তার মা রোমানা আক্তারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ দুই মাস পর সন্তানকে ফিরে পান তিনি।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুই নারীও রয়েছেন।
গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মোতালিব সরকার জানান, ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সোমবার গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।
দুই মাসের বেশি সময় পর শিশুটিকে উদ্ধার এবং এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্ত এখন পরবর্তী পর্যায়ে এগোচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















