০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন, পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এশিয়ান গেমসে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সূচি ঘোষণা বাংলায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক, মধ্যপন্থার বার্তা দিল প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চ কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র ও মাইক্রোবাসচালক নিহত, আহত ৬ মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা ও ইউনূসের দৈত্যরা ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনে নতুন উদ্বেগ, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন আনছে ভারত, দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা মোদির চার্লি এক্সসির নতুন অ্যালবাম ঘিরে আলোড়ন, নাচের সুর ছেড়ে নতুন পথে জনপ্রিয় তারকা লোহিত সাগরে হুতিদের নতুন তৎপরতা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলের বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা সৌদি পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত ট্রাম্পের, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা ও ইউনূসের দৈত্যরা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার একটা ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। ভদ্রলোক দেশের একজন সিনিয়র সিটিজেন। সত্তরোর্ধ্ব বা সত্তরের কাছাকাছি তাঁর বয়স হবেই।

রাস্তার মাঝখানে এ ধরনের ভদ্রলোকদের এভাবে লাঞ্ছিত হবার ভিডিও গত দুই বছরে দেখতে দেখতে এদেশের মানুষ অনেকখানি অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কারণবিএনপির এই মতিঝিল সভাপতির বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে দেশের মানুষ এভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখেছেঢাকার জিরো পয়েন্টেও এভাবেই এই বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত হতে দেখেছে। তাদের সমস্ত শরীরের কাপড় এভাবেই খুলে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাসাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক তরুণীকেও একই হাল করা হয়েছে। সাংবাদিকদেরও করা হয়েছে। আইনজীবীবিচারকরাজনীতিক সবার ওপর করা হয়েছে।

সমাজ ও রাষ্ট্রে এই দৈত্যদের এভাবে বোতল থেকে বের করে ছেড়ে দেবার কাজটি ছিল ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনের একটি অংশ। সমাজের মানুষের মধ্যে এভাবে ভীতি ছড়ানো শুধু নয়একটি অনিয়ন্ত্রিত শক্তি তৈরি করতে হয় মবের রাজত্ব কায়েম করতে হলে।

ইতিহাসের হাজার হাজার বছরে বহু ক্ষমতা দখলকারী এ কাজ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো এভাবে ভেঙে ফেলা সম্ভব হবেবাংলা ভাষার মতো একটি পরিশীলিত ভাষাকে যেভাবে নষ্ট করা হয়েছে এভাবে নষ্ট করা সম্ভব হবে- এটা অনেকে ভাবতে পারেনি। কারণ১৯৭১ সালেও সমাজ কাঠামো ভাঙা সম্ভব হয়নি। এর পরেও বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতন গেছে- কিন্তু এভাবে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো ভাঙা সম্ভব হয়নি। বা কেউ ক্ষমতা দখল করে তা করার চেষ্টাও করেনি। কারণএর আগে যারা ক্ষমতা দখল করেছেন তারা হয় রাজনীতিক না হয় সামরিক বাহিনীর মানুষ।

কুমিল্লায় আবদুল হাই কানুকে লাঞ্ছনা, সমালোচনার ঝড়

ইউনূস প্রথম এনজিও শ্রেণী থেকে আসা মানুষ যে কিনা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এদেশের জ্ঞানী রাজনীতিকদের একজন ছিলেন। এবং ১৯৮০র দশক থেকে তিনিই একমাত্র রাজনীতিক যিনি এনজিও বিরোধী ছিলেন সব সময়ই। অনেকে মনে করতেনহয়তো এনজিও যারা করে তারা দরিদ্র মানুষের উপকার করছে- এর ফলে বাম রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই তিনি এনজিও বিরোধী।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ এক পর্যায়ে প্রশিকা” নামক একটি এনজিওকে সঙ্গে নেয়। উল্লেখ্য আওয়ামী লীগ পরে নিজেই প্রশিকাকে শেষ করে দিয়েছিল। সে প্রসঙ্গ এখানে নয়। যাহোকএই সময়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেনআওয়ামী লীগ একটা বড় ভুল করছে রাজনীতিতে এনজিওকে সঙ্গে নিয়ে। আমি তাকে পাল্টা বলিআপনার সঙ্গেও একটা এনজিও আছে।

তিনি স্বীকার করে বলেনযে তিনি এখন রাজনীতিতে প্রান্তিক শক্তি। তাকে টিকে থাকার জন্য কিছু কাজ করতে হচ্ছে। এবং তারপরে তাঁর স্বভাবসুলভ ভাষায় বলেনশোনো আমি সেই মাপের ইঁদুর নিয়েছি যা বিড়াল হিসেবে প্রয়োজনে টুপ করে খেয়ে ফেলতে পারব। কিন্তু রাজনীতির মূলধারার সঙ্গে এনজিও জড়িয়ে গেলে তারা সমাজ ধ্বংস করে ফেলবে। তাকে পাল্টা প্রশ্ন করি কেন এনজিওরা এক কাজ করবেতখন এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তার সারসংক্ষেপ এক লাইনে বলা যায়তার মতে যারা এনজিও করে তাদেরকে সমাজে দেহজীবীদের যেভাবে ব্যবহার করা হয়- বিদেশীরা তাদেরকে ওইভাবেই ব্যবহার করে। আর ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ান সমাজগুলো ভেঙে ফেলা পশ্চিমাদের একটি বড় কাজ হবে। দেখো ইতোমধ্যে ভারতে এনজিও ঢুকাতে না পেরে সেখানে তারা ধর্ম ঢুকিয়ে সমাজ ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। তাকে এর বিপরীতে বলেছিলামআপনিও তো ধর্মকর্মসমাজতন্ত্র নীতি নিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন তিনি সেক্যুলার হিসেবে ধর্মকে রাজনীতিতে যতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ধর্ম ব্যবসায়ীরা তা পারবে না।

অধিকাংশ এনজিওর যে আসলে নিজেদের ব্যবসা ছাড়া দেশের প্রতি দায় বা মানুষের প্রতি কোন দায় নেই এটা সাংবাদিক হিসেবে আমরা দেখেছি।

যাহোকওই আলোচনা এখানে নয়। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের কথা উল্লেখ করলাম একারণে যে, আজ মতিঝিলের বিএনপি সভাপতির ওপর এই ধরনের হামলা হয়েছে- যা গত দুই বছর ধরে দেশে চলছে – তা প্রমাণ করছে যে সমাজটি অনেকখানি ভেঙে ফেলতে সমর্থ হয়েছে ইউনূস ও তার সহযোগীরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগ লিয়াকত আলীর অপমান বাংলা ও বাঙালির লজ্জা –  Bilat-bangla-news.com

এবং রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে যে বোতলগুলোতে দৈত্যগুলোকে রাখতে হয় সেই বোতলগুলোর মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এরা নানার রূপে নানান সময়ে আবির্ভূত হচ্ছে। আর ইউনূস এই বোতলের মুখ খোলার কাজকে বৈধ করার জন্য রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়ে গেছে।

পৃথিবীর ইতিহাস বলে কোন রাষ্ট্র ও সমাজ কখনই দৈত্য রাখার বোতলের মুখ খোলে না। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালেও সেটা খোলা হয়নি। যারা খোলে তাদের অবস্থা কী হয় তার প্রমাণ একটু পৃথিবীর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। যেমন আফগানিস্তান ওই বোতলের মুখ খুলেছে- তাই আমেরিকা খুলে দিক আর পাকিস্তান খুলে দিক।

এখন শুধু শান্ত মাথায় একবার ভেবে দেখা যেতে পারে যে কন্যা শিশুটি মালয়েশিয়ায় এমনকি দরিদ্র নেপালেও জন্ম নেবে আগামীকাল- আর যে আফগানিস্তানে জন্ম নেবে – কে জন্মগতভাবে অভিশাপগ্রস্ত হবেএকটি কন্যা শিশুর আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়ার অর্থ হচ্ছে অভিশাপগ্রস্ত মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়া।

তাই বাংলাদেশকে এখন ভাবতে হবেসে কি দেশটি আগামী শিশুদের জন্য অভিশাপের ক্ষেত্র তৈরি করবে না বসবাসযোগ্য তৈরি করবেকাজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক কঠিন করে দিয়ে গেছে ইউনূস।

লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকসম্পাদকসারাক্ষণ, The Present World.

জনপ্রিয় সংবাদ

হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন, পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা ও ইউনূসের দৈত্যরা

০৯:২৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার একটা ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। ভদ্রলোক দেশের একজন সিনিয়র সিটিজেন। সত্তরোর্ধ্ব বা সত্তরের কাছাকাছি তাঁর বয়স হবেই।

রাস্তার মাঝখানে এ ধরনের ভদ্রলোকদের এভাবে লাঞ্ছিত হবার ভিডিও গত দুই বছরে দেখতে দেখতে এদেশের মানুষ অনেকখানি অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কারণবিএনপির এই মতিঝিল সভাপতির বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে দেশের মানুষ এভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখেছেঢাকার জিরো পয়েন্টেও এভাবেই এই বয়সের মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত হতে দেখেছে। তাদের সমস্ত শরীরের কাপড় এভাবেই খুলে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাসাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক তরুণীকেও একই হাল করা হয়েছে। সাংবাদিকদেরও করা হয়েছে। আইনজীবীবিচারকরাজনীতিক সবার ওপর করা হয়েছে।

সমাজ ও রাষ্ট্রে এই দৈত্যদের এভাবে বোতল থেকে বের করে ছেড়ে দেবার কাজটি ছিল ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনের একটি অংশ। সমাজের মানুষের মধ্যে এভাবে ভীতি ছড়ানো শুধু নয়একটি অনিয়ন্ত্রিত শক্তি তৈরি করতে হয় মবের রাজত্ব কায়েম করতে হলে।

ইতিহাসের হাজার হাজার বছরে বহু ক্ষমতা দখলকারী এ কাজ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো এভাবে ভেঙে ফেলা সম্ভব হবেবাংলা ভাষার মতো একটি পরিশীলিত ভাষাকে যেভাবে নষ্ট করা হয়েছে এভাবে নষ্ট করা সম্ভব হবে- এটা অনেকে ভাবতে পারেনি। কারণ১৯৭১ সালেও সমাজ কাঠামো ভাঙা সম্ভব হয়নি। এর পরেও বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতন গেছে- কিন্তু এভাবে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো ভাঙা সম্ভব হয়নি। বা কেউ ক্ষমতা দখল করে তা করার চেষ্টাও করেনি। কারণএর আগে যারা ক্ষমতা দখল করেছেন তারা হয় রাজনীতিক না হয় সামরিক বাহিনীর মানুষ।

কুমিল্লায় আবদুল হাই কানুকে লাঞ্ছনা, সমালোচনার ঝড়

ইউনূস প্রথম এনজিও শ্রেণী থেকে আসা মানুষ যে কিনা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এদেশের জ্ঞানী রাজনীতিকদের একজন ছিলেন। এবং ১৯৮০র দশক থেকে তিনিই একমাত্র রাজনীতিক যিনি এনজিও বিরোধী ছিলেন সব সময়ই। অনেকে মনে করতেনহয়তো এনজিও যারা করে তারা দরিদ্র মানুষের উপকার করছে- এর ফলে বাম রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই তিনি এনজিও বিরোধী।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ এক পর্যায়ে প্রশিকা” নামক একটি এনজিওকে সঙ্গে নেয়। উল্লেখ্য আওয়ামী লীগ পরে নিজেই প্রশিকাকে শেষ করে দিয়েছিল। সে প্রসঙ্গ এখানে নয়। যাহোকএই সময়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেনআওয়ামী লীগ একটা বড় ভুল করছে রাজনীতিতে এনজিওকে সঙ্গে নিয়ে। আমি তাকে পাল্টা বলিআপনার সঙ্গেও একটা এনজিও আছে।

তিনি স্বীকার করে বলেনযে তিনি এখন রাজনীতিতে প্রান্তিক শক্তি। তাকে টিকে থাকার জন্য কিছু কাজ করতে হচ্ছে। এবং তারপরে তাঁর স্বভাবসুলভ ভাষায় বলেনশোনো আমি সেই মাপের ইঁদুর নিয়েছি যা বিড়াল হিসেবে প্রয়োজনে টুপ করে খেয়ে ফেলতে পারব। কিন্তু রাজনীতির মূলধারার সঙ্গে এনজিও জড়িয়ে গেলে তারা সমাজ ধ্বংস করে ফেলবে। তাকে পাল্টা প্রশ্ন করি কেন এনজিওরা এক কাজ করবেতখন এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তার সারসংক্ষেপ এক লাইনে বলা যায়তার মতে যারা এনজিও করে তাদেরকে সমাজে দেহজীবীদের যেভাবে ব্যবহার করা হয়- বিদেশীরা তাদেরকে ওইভাবেই ব্যবহার করে। আর ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ান সমাজগুলো ভেঙে ফেলা পশ্চিমাদের একটি বড় কাজ হবে। দেখো ইতোমধ্যে ভারতে এনজিও ঢুকাতে না পেরে সেখানে তারা ধর্ম ঢুকিয়ে সমাজ ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। তাকে এর বিপরীতে বলেছিলামআপনিও তো ধর্মকর্মসমাজতন্ত্র নীতি নিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন তিনি সেক্যুলার হিসেবে ধর্মকে রাজনীতিতে যতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ধর্ম ব্যবসায়ীরা তা পারবে না।

অধিকাংশ এনজিওর যে আসলে নিজেদের ব্যবসা ছাড়া দেশের প্রতি দায় বা মানুষের প্রতি কোন দায় নেই এটা সাংবাদিক হিসেবে আমরা দেখেছি।

যাহোকওই আলোচনা এখানে নয়। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের কথা উল্লেখ করলাম একারণে যে, আজ মতিঝিলের বিএনপি সভাপতির ওপর এই ধরনের হামলা হয়েছে- যা গত দুই বছর ধরে দেশে চলছে – তা প্রমাণ করছে যে সমাজটি অনেকখানি ভেঙে ফেলতে সমর্থ হয়েছে ইউনূস ও তার সহযোগীরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগ লিয়াকত আলীর অপমান বাংলা ও বাঙালির লজ্জা –  Bilat-bangla-news.com

এবং রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে যে বোতলগুলোতে দৈত্যগুলোকে রাখতে হয় সেই বোতলগুলোর মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এরা নানার রূপে নানান সময়ে আবির্ভূত হচ্ছে। আর ইউনূস এই বোতলের মুখ খোলার কাজকে বৈধ করার জন্য রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়ে গেছে।

পৃথিবীর ইতিহাস বলে কোন রাষ্ট্র ও সমাজ কখনই দৈত্য রাখার বোতলের মুখ খোলে না। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালেও সেটা খোলা হয়নি। যারা খোলে তাদের অবস্থা কী হয় তার প্রমাণ একটু পৃথিবীর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। যেমন আফগানিস্তান ওই বোতলের মুখ খুলেছে- তাই আমেরিকা খুলে দিক আর পাকিস্তান খুলে দিক।

এখন শুধু শান্ত মাথায় একবার ভেবে দেখা যেতে পারে যে কন্যা শিশুটি মালয়েশিয়ায় এমনকি দরিদ্র নেপালেও জন্ম নেবে আগামীকাল- আর যে আফগানিস্তানে জন্ম নেবে – কে জন্মগতভাবে অভিশাপগ্রস্ত হবেএকটি কন্যা শিশুর আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়ার অর্থ হচ্ছে অভিশাপগ্রস্ত মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়া।

তাই বাংলাদেশকে এখন ভাবতে হবেসে কি দেশটি আগামী শিশুদের জন্য অভিশাপের ক্ষেত্র তৈরি করবে না বসবাসযোগ্য তৈরি করবেকাজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক কঠিন করে দিয়ে গেছে ইউনূস।

লেখক: সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকসম্পাদকসারাক্ষণ, The Present World.