বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের যোগাযোগ কোনো একক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব পর্যায়ে নিয়মিত সংলাপ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে অঙ্গীকার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং ভবিষ্যতেও এ অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত। এখন পর্যন্ত যেসব অর্জন হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সহযোগিতা বিস্তৃত হবে।
জ্বালানি ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা
ড. খলিলুর রহমান জানান, জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক দাতা।
যেসব বিষয় আলোচনায় আসেনি
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বৈঠকে অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ) কিংবা জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
এছাড়া আওয়ামী লীগ বা কথিত কোনো অর্থনৈতিক করিডর সম্পর্কেও বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে তিনি জানান।
চাপ নয়, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) নিয়ে ওয়াশিংটনের কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনোই একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদার করাই বাংলাদেশের নীতি।
সার্জিও গোরের সফর
এটি সার্জিও গোরের বাংলাদেশে প্রথম সরকারি সফর। সফরকালে তিনি প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, এই সফর মূলত অনুসন্ধানধর্মী। তিনি বলেন, বিশেষ দূত বাংলাদেশের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও পরিদর্শন করতে পারেন।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সার্জিও গোরের সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সার্জিও গোর বর্তমানে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সহকারী এবং প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশ।
#বাংলাদেশ #যুক্তরাষ্ট্র #কূটনীতি #খলিলুররহমান #সার্জিওগোর #রোহিঙ্গা #বাণিজ্য #বিনিয়োগ #জ্বালানি #সারাক্ষণ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















