০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন, করিমন ও ভটভটির চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে এসব যানকে স্থানীয় সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, মহাসড়কে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উন্নত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকে জোর

মন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোর আওতায় তিন চাকার যানবাহনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট রুটের বাইরে চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।

দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। যেসব মোটরসাইকেল এখনও নিবন্ধন পায়নি, তাদের মালিকরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বৈধ নিবন্ধন নম্বর নিতে পারবেন।

নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি লাইন-২

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।

তিনি জানান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থায়ন চূড়ান্ত হলে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হবে।

রেলওয়ের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা

রেলওয়ে খাত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৬-২০৪৫ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক যাত্রীবহুল রুটগুলো ধাপে ধাপে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। তবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে একযোগে সব রুটে ডাবল লাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই যাত্রী ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসারে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলস্টেশন এবং ঢাকার বিভিন্ন রেলওয়ে অফিস ভবনের ছাদ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর প্রস্তুতি

মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে এবং শিগগিরই চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে পরিকল্পনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গঠনের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার ওপর প্রকল্পের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

মহাসড়কে তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণ

মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা আনছে সরকার। নিবন্ধন, লাইসেন্স ও রুট নিয়ন্ত্রণে থাকবে কঠোর ব্যবস্থা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

০৮:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন, করিমন ও ভটভটির চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে এসব যানকে স্থানীয় সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, মহাসড়কে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও তিন চাকার যানবাহন চলাচল করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উন্নত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকে জোর

মন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোর আওতায় তিন চাকার যানবাহনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট রুটের বাইরে চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।

দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। যেসব মোটরসাইকেল এখনও নিবন্ধন পায়নি, তাদের মালিকরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বৈধ নিবন্ধন নম্বর নিতে পারবেন।

নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এমআরটি লাইন-২

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।

তিনি জানান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থায়ন চূড়ান্ত হলে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হবে।

রেলওয়ের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা

রেলওয়ে খাত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৬-২০৪৫ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক যাত্রীবহুল রুটগুলো ধাপে ধাপে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। তবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে একযোগে সব রুটে ডাবল লাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই যাত্রী ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুসারে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলস্টেশন এবং ঢাকার বিভিন্ন রেলওয়ে অফিস ভবনের ছাদ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর প্রস্তুতি

মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে এবং শিগগিরই চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে পরিকল্পনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গঠনের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার ওপর প্রকল্পের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

মহাসড়কে তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণ

মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা আনছে সরকার। নিবন্ধন, লাইসেন্স ও রুট নিয়ন্ত্রণে থাকবে কঠোর ব্যবস্থা।