০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

রেডিমেড গার্মেন্টসের মার্কিন রফতানিতে ধস: নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) মার্কিন বাজারে বছরের শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রফতানি ৮.৫৩ শতাংশ কমেছে, যা দেশের একক সর্ববৃহৎ রফতানি গন্তব্য হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করেছে।

মূল্যের পতন ও রফতানি পরিমাণে হ্রাস

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই ধরনের প্রভাব একসঙ্গে পড়েছে। বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে ২.৪৭ শতাংশ এবং মোট রফতানি পরিমাণ (বর্গমিটার সমতুল্য হিসেবে) ৬.২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

OTEXA

মার্কিন বাজারের সামগ্রিক সংকোচন

বাংলাদেশের রফতানির এই পতন মার্কিন অ্যাপারেল আমদানি বাজারের মোট সংকোচনকে প্রতিফলিত করছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মার্কিন বাজার ১৩.৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ক্রেতাদের খরচের ধারা পরিবর্তন এবং বড় খুচরা বিক্রেতাদের স্টক সমন্বয় এই ধসের পেছনের প্রধান কারণ।

প্রতিযোগিতার নতুন ছবি

তবে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো—ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া—ই মার্কিন বাজারে ইতিবাচক বৃদ্ধি দেখিয়েছে। একই সময় ভিয়েতনামের রফতানি ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে, আর কম্বোডিয়ার রফতানি ১৮.৪৩ শতাংশ উর্ধ্বগতি পেয়েছে।

অনিশ্চয়তায় রফতানি বাণিজ্য

চীনের পতন এবং নতুন সুযোগ

চীনের মার্কিন বাজারে ব্যাপক পতন চলতে থাকায় বাংলাদেশের জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ফ্যাশন কোম্পানিগুলো জিওপলিটিক্যাল টেনশন এবং বাণিজ্য বাধার কারণে “চায়না প্লাস ওয়ান” স্রোত বেগবান করছে।

উন্নয়ন ও বৈচিত্র্যের প্রয়োজন

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যদি বাংলাদেশ দক্ষতা বাড়ায় এবং পণ্য পরিসর বৈচিত্র্য করে, তাহলে চীনের জায়গা শূন্য থাকা অংশ দখল করতে পারবে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মোহিউদ্দিন রুবেল উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র সাধারণ, কম মুনাফার পণ্যের উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। তিনি বলেন, “পণ্যের পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য উভয়ের পতন ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের উচ্চমানের পণ্য ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। মার্কিন বাজার সংকুচিত হলেও কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যে ক্রেতারা সেই গন্তব্যের দিকে অর্ডার স্থানান্তর করছে যেখানে লজিস্টিক সুবিধা বা শুল্ক সুবিধা ভালো।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

রেডিমেড গার্মেন্টসের মার্কিন রফতানিতে ধস: নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ

১০:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) মার্কিন বাজারে বছরের শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রফতানি ৮.৫৩ শতাংশ কমেছে, যা দেশের একক সর্ববৃহৎ রফতানি গন্তব্য হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করেছে।

মূল্যের পতন ও রফতানি পরিমাণে হ্রাস

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই ধরনের প্রভাব একসঙ্গে পড়েছে। বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে ২.৪৭ শতাংশ এবং মোট রফতানি পরিমাণ (বর্গমিটার সমতুল্য হিসেবে) ৬.২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

OTEXA

মার্কিন বাজারের সামগ্রিক সংকোচন

বাংলাদেশের রফতানির এই পতন মার্কিন অ্যাপারেল আমদানি বাজারের মোট সংকোচনকে প্রতিফলিত করছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মার্কিন বাজার ১৩.৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ক্রেতাদের খরচের ধারা পরিবর্তন এবং বড় খুচরা বিক্রেতাদের স্টক সমন্বয় এই ধসের পেছনের প্রধান কারণ।

প্রতিযোগিতার নতুন ছবি

তবে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো—ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া—ই মার্কিন বাজারে ইতিবাচক বৃদ্ধি দেখিয়েছে। একই সময় ভিয়েতনামের রফতানি ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে, আর কম্বোডিয়ার রফতানি ১৮.৪৩ শতাংশ উর্ধ্বগতি পেয়েছে।

অনিশ্চয়তায় রফতানি বাণিজ্য

চীনের পতন এবং নতুন সুযোগ

চীনের মার্কিন বাজারে ব্যাপক পতন চলতে থাকায় বাংলাদেশের জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ফ্যাশন কোম্পানিগুলো জিওপলিটিক্যাল টেনশন এবং বাণিজ্য বাধার কারণে “চায়না প্লাস ওয়ান” স্রোত বেগবান করছে।

উন্নয়ন ও বৈচিত্র্যের প্রয়োজন

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যদি বাংলাদেশ দক্ষতা বাড়ায় এবং পণ্য পরিসর বৈচিত্র্য করে, তাহলে চীনের জায়গা শূন্য থাকা অংশ দখল করতে পারবে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মোহিউদ্দিন রুবেল উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র সাধারণ, কম মুনাফার পণ্যের উপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। তিনি বলেন, “পণ্যের পরিমাণ ও ইউনিট মূল্য উভয়ের পতন ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের উচ্চমানের পণ্য ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। মার্কিন বাজার সংকুচিত হলেও কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যে ক্রেতারা সেই গন্তব্যের দিকে অর্ডার স্থানান্তর করছে যেখানে লজিস্টিক সুবিধা বা শুল্ক সুবিধা ভালো।”