ভারতের বিরুদ্ধে ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাকিস্তান শক্ত জবাব দেবে।
সিয়ালকোটে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ বলেন, ভারত নিজেদের লোকজন কিংবা আটক পাকিস্তানিদের ব্যবহার করে কোথাও মরদেহ ফেলে তা ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করতে পারে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে দায়ী করার চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত বছরের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় ভারতের যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হয়েছে। ভারতের নিজস্ব জনগণও তুলনামূলক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই ধরনের সমালোচনা ভারতীয় নেতৃত্বকে ভবিষ্যতেও মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ আরও সতর্ক করে বলেন, এবার যদি এমন কোনো ‘নাটক’ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে পাকিস্তান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং প্রয়োজনে ভারতের অভ্যন্তরে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যেই কূটনৈতিক উদ্যোগ
মন্তব্যের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গও তোলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আসিফ বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায় এবং আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ চলমান সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।
নিরাপত্তা সূত্রের সতর্কতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা
সম্প্রতি নিরাপত্তা সূত্রগুলোও সতর্ক করে জানিয়েছে, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সীমান্ত অতিক্রম করে আটক হওয়া পাকিস্তানি নাগরিকদের ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যের জবাবেও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ। তিনি বলেন, দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের চিন্তাই অবাস্তব এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
পাহেলগাম ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত বছরের ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভারত এ ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। পাকিস্তান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।
এই ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওই সংঘাতকালকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে।
কঠোর বার্তা ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা
খাজা আসিফ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ভুল হিসাবের ফল মারাত্মক হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো ও নির্ধারক হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত, পরিমিত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
শেষে তিনি ভারতকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের হুমকি দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















