০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ?

মাত্র ৭৫ লাখ ডলারের বাজেটে নির্মিত একটি হরর সিনেমা। হলিউডের মানদণ্ডে এটি খুবই স্বল্প বাজেটের প্রকল্প। কিন্তু আয়ের দিক থেকে ছবিটি যেন সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। গত ১৫ মে মুক্তির পর উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহ থেকেই ৭ জুন পর্যন্ত ১৬ কোটি ১২ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছে ‘অবসেশন’। আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলারে। এখনও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ছবিটি মুক্তি পায়নি।

শুধু মুক্তির প্রথম সপ্তাহের উন্মাদনা নয়, সময়ের সঙ্গে দর্শকসংখ্যা বাড়তে থাকায় ছবিটি এখন হলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের সাফল্যের গল্প

‘অবসেশন’ একা নয়। আরেকটি হরর ছবি ‘ব্যাকরুমস’ও হলিউডকে বিস্মিত করেছে। প্রায় ১ কোটি ডলার বাজেটের এই ছবিটি উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি। বৈশ্বিক বাজারে এর মোট আয় ২২ কোটি ৬ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত ২৭ মে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ১১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার দর্শক টেনেছে। একটি হরর ছবির জন্য এটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দুই ছবিরই একটি বড় মিল রয়েছে। উভয় পরিচালকই নতুন এবং বয়সে তরুণ। ‘অবসেশন’-এর পরিচালক কারি বার্কারের জন্ম ১৯৯৯ সালে, আর ‘ব্যাকরুমস’-এর পরিচালক কেন পারসন্সের জন্ম ২০০৫ সালে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেক্ষাপটে তারা এমন বয়সে রয়েছেন, যখন কেউ সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বা এখনও পড়াশোনারত থাকে।

An $800 film nobody wanted turned into a Hollywood bidding war., A  20-year-old creator spent years uploading videos to YouTube and ended up  making box office history., These stories are bigger than ...

ইউটিউব থেকে বড় পর্দায়

বার্কার ও পারসন্স দুজনেই পরিচিত ‘ইউটিউব প্রজন্ম’ হিসেবে। তারা প্রথমে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং সেই পরিচিতিকেই হলিউডে প্রবেশের সোপান হিসেবে ব্যবহার করেন।

বার্কারের ইউটিউব চ্যানেলের অনুসারী প্রায় ১২ লাখ, আর পারসন্সের অনুসারী সংখ্যা ৩৩ লাখেরও বেশি। তবে তাদের প্রতি হলিউডের আগ্রহ শুধু জনপ্রিয়তার কারণে নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, তাদের ভিডিওতে শুরু থেকেই সিনেমাটিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট ছিল। ইউটিউবের যুগে বেড়ে ওঠা এই নির্মাতারা ভিডিওভিত্তিক সংস্কৃতি ও ভাষাকে স্বাভাবিকভাবে আত্মস্থ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাদের সৃজনশীল কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেন-জি দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ

অনেক সফল ইউটিউবারের তুলনায় বার্কার ও পারসন্সের বিশেষত্ব হলো সিনেমার প্রতি গভীর অনুরাগ। ইউটিউবে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার পর তারা এখন বড় পর্দায় পরিচালনার ক্ষমতা দেখাচ্ছেন।

তাদের আগে থেকেই গড়ে ওঠা অনলাইন পরিচিতি বিপণনে সহায়তা করছে। পাশাপাশি ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি দর্শকদের মানসিকতা ও রুচির সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক সংযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বার্তা

হলিউডে ইউটিউবার পরিচালকদের উত্থান শুধু একটি সাময়িক প্রবণতা নয়, বরং প্রজন্মগত পরিবর্তনের সূচনাও হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়াতেও এমন নির্মাতাদের আবির্ভাব সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০০০ সালে ‘ডাই ব্যাড’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক রিউ সিউং-ওয়ান মাত্র ২৭ বছর বয়সে আলোচনায় এসেছিলেন। তাই বয়সের চেয়ে প্রতিভাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিল্প-পরিবেশ। সে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পের উচিত এখন থেকেই ইউটিউবভিত্তিক নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের জন্য বিনিয়োগ ও সহায়তার সুযোগ তৈরি করা।

ইউটিউবার পরিচালক

ইউটিউব থেকে উঠে আসা তরুণ নির্মাতাদের সাফল্য হলিউডে নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের জন্য পথ খুলে দিচ্ছে।

ইউটিউবের জনপ্রিয়তা কি এখন হলিউডের নতুন পরিচালকদের জন্ম দিচ্ছে? ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর সাফল্য সেই প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা কীভাবে চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেন, তা নিয়েই এখন আলোচনা জোরদার হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ?

০৮:৫৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মাত্র ৭৫ লাখ ডলারের বাজেটে নির্মিত একটি হরর সিনেমা। হলিউডের মানদণ্ডে এটি খুবই স্বল্প বাজেটের প্রকল্প। কিন্তু আয়ের দিক থেকে ছবিটি যেন সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। গত ১৫ মে মুক্তির পর উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহ থেকেই ৭ জুন পর্যন্ত ১৬ কোটি ১২ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছে ‘অবসেশন’। আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলারে। এখনও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ছবিটি মুক্তি পায়নি।

শুধু মুক্তির প্রথম সপ্তাহের উন্মাদনা নয়, সময়ের সঙ্গে দর্শকসংখ্যা বাড়তে থাকায় ছবিটি এখন হলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের সাফল্যের গল্প

‘অবসেশন’ একা নয়। আরেকটি হরর ছবি ‘ব্যাকরুমস’ও হলিউডকে বিস্মিত করেছে। প্রায় ১ কোটি ডলার বাজেটের এই ছবিটি উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি। বৈশ্বিক বাজারে এর মোট আয় ২২ কোটি ৬ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত ২৭ মে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ১১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার দর্শক টেনেছে। একটি হরর ছবির জন্য এটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দুই ছবিরই একটি বড় মিল রয়েছে। উভয় পরিচালকই নতুন এবং বয়সে তরুণ। ‘অবসেশন’-এর পরিচালক কারি বার্কারের জন্ম ১৯৯৯ সালে, আর ‘ব্যাকরুমস’-এর পরিচালক কেন পারসন্সের জন্ম ২০০৫ সালে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেক্ষাপটে তারা এমন বয়সে রয়েছেন, যখন কেউ সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বা এখনও পড়াশোনারত থাকে।

An $800 film nobody wanted turned into a Hollywood bidding war., A  20-year-old creator spent years uploading videos to YouTube and ended up  making box office history., These stories are bigger than ...

ইউটিউব থেকে বড় পর্দায়

বার্কার ও পারসন্স দুজনেই পরিচিত ‘ইউটিউব প্রজন্ম’ হিসেবে। তারা প্রথমে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং সেই পরিচিতিকেই হলিউডে প্রবেশের সোপান হিসেবে ব্যবহার করেন।

বার্কারের ইউটিউব চ্যানেলের অনুসারী প্রায় ১২ লাখ, আর পারসন্সের অনুসারী সংখ্যা ৩৩ লাখেরও বেশি। তবে তাদের প্রতি হলিউডের আগ্রহ শুধু জনপ্রিয়তার কারণে নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, তাদের ভিডিওতে শুরু থেকেই সিনেমাটিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট ছিল। ইউটিউবের যুগে বেড়ে ওঠা এই নির্মাতারা ভিডিওভিত্তিক সংস্কৃতি ও ভাষাকে স্বাভাবিকভাবে আত্মস্থ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাদের সৃজনশীল কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেন-জি দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ

অনেক সফল ইউটিউবারের তুলনায় বার্কার ও পারসন্সের বিশেষত্ব হলো সিনেমার প্রতি গভীর অনুরাগ। ইউটিউবে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার পর তারা এখন বড় পর্দায় পরিচালনার ক্ষমতা দেখাচ্ছেন।

তাদের আগে থেকেই গড়ে ওঠা অনলাইন পরিচিতি বিপণনে সহায়তা করছে। পাশাপাশি ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি দর্শকদের মানসিকতা ও রুচির সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক সংযোগ রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বার্তা

হলিউডে ইউটিউবার পরিচালকদের উত্থান শুধু একটি সাময়িক প্রবণতা নয়, বরং প্রজন্মগত পরিবর্তনের সূচনাও হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়াতেও এমন নির্মাতাদের আবির্ভাব সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০০০ সালে ‘ডাই ব্যাড’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক রিউ সিউং-ওয়ান মাত্র ২৭ বছর বয়সে আলোচনায় এসেছিলেন। তাই বয়সের চেয়ে প্রতিভাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিল্প-পরিবেশ। সে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পের উচিত এখন থেকেই ইউটিউবভিত্তিক নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের জন্য বিনিয়োগ ও সহায়তার সুযোগ তৈরি করা।

ইউটিউবার পরিচালক

ইউটিউব থেকে উঠে আসা তরুণ নির্মাতাদের সাফল্য হলিউডে নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের জন্য পথ খুলে দিচ্ছে।

ইউটিউবের জনপ্রিয়তা কি এখন হলিউডের নতুন পরিচালকদের জন্ম দিচ্ছে? ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর সাফল্য সেই প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা কীভাবে চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেন, তা নিয়েই এখন আলোচনা জোরদার হচ্ছে।