ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একটি আদালত ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির জেরা আগামী ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন। নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে না পারায় রোববার নতুন তারিখ ঠিক করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাত হোসেন।
মামলার আসামি নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী ওমি এবং শহীদুল আলম। তারা তিনজনই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৮ জুন ঢাকার অদূরে তুরাগ নদীর তীরে বিরুলিয়ায় অবস্থিত বোট ক্লাবে পরীমনি হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়।
এর পাঁচ দিন পর, ১৩ জুন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন পরীমনি। সেখানে তিনি তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ঘটনার বিচার চেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করেন তিনি। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ফেসবুকে অভিযোগ প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলশানে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরীমনি। সেখানে তিনি একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানান।
পরদিন ১৪ জুন সাভার মডেল থানায় নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা এবং মারধরের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র
মামলাটি তদন্তের পর ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাভার থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন নাসির উদ্দিন ও অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর ২০২২ সালের ১৮ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় পরীমনির সাক্ষ্য
মামলার বিচার চলাকালে ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতে নিজের জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন পরীমনি। তবে তার সাক্ষ্য এখনো শেষ হয়নি। মামলায় তার জেরাও পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায়নি।
রোববারের ধার্য তারিখে আদালতে সময়মতো উপস্থিত হতে না পারায় তার জেরার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর আদালতে পরীমনির জেরা হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটি দায়েরের পর পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলমান। তিন আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















