পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে গত ৭২ ঘণ্টায় আরও ২১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিরানশাহ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
আইএসপিআরের দাবি, নিহতদের মধ্যে চারজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতা রয়েছে। এরা হলেন খালিদ রাজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরা নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
অভিযানে বড় ধাক্কা
সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির পর এসব জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআরের মতে, এ অভিযান সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে একই এলাকায় পরিচালিত আরেক দফা অভিযানে ২৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। ফলে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মোট নিহত জঙ্গির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।
_updates.jpg)
অভিযান অব্যাহত থাকবে
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবশিষ্ট জঙ্গিদের নির্মূল করতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি
গত ২ জুন মিরানশাহ উপবিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওই এলাকায় চলাচল ও যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদারের ইঙ্গিত।
১৪৪ ধারা জারির আগে মিরানশাহর কাছে একটি সামরিক চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিকস)-এর তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই মাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
গত মে মাসের শেষ দিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দত্তাখেল এলাকায় পৃথক এক অভিযানে আরও ১১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়।
পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৭২ ঘণ্টায় ২১ জঙ্গি নিহত। ধারাবাহিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ৪৮ বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















