০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮ ছোট দামে বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন চমক, ২০২৭ সালে আসছে নিসান পিক্সো লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর মতো জাদুময় জাদুঘর, লুকাস মিউজিয়ামের স্থাপত্যে মুগ্ধতা ও বিতর্ক কুকুরের শরীরে পিসু নাকি টিক? পার্থক্য জানুন, রক্ষা করুন প্রিয় পোষ্যকে কোহাটের কাছে আফগান তালেবানের পাঠানো দুই ড্রোন ভূপাতিত: পাকিস্তান প্রাচীন দাবানল থেকেই কি মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা? আগুন ও ভূমিধসের নতুন রহস্য ঘোলা পানিতে মাছের আচরণে চমক, খাবার খুঁজতে আরও কাছাকাছি হয় দল প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা জরুরি নয়, গতি বাড়ালেও মিলতে পারে বড় উপকার রিফর্ম ইউকে বলছে ব্রিটেন ভেঙে পড়েছে, কিন্তু বার্মিংহাম বলছে অন্য গল্প উচ্চ খরচ, কম উচ্চাকাঙ্ক্ষা—রপ্তানি বাঁচাতে পাকিস্তানের সামনে দুই দিকের লড়াই

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে গত ৭২ ঘণ্টায় আরও ২১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিরানশাহ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

আইএসপিআরের দাবি, নিহতদের মধ্যে চারজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতা রয়েছে। এরা হলেন খালিদ রাজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরা নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

অভিযানে বড় ধাক্কা

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির পর এসব জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআরের মতে, এ অভিযান সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে একই এলাকায় পরিচালিত আরেক দফা অভিযানে ২৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। ফলে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মোট নিহত জঙ্গির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।

Security forces kill 21 terrorists, including four ring leaders, in KP IBOs

অভিযান অব্যাহত থাকবে

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবশিষ্ট জঙ্গিদের নির্মূল করতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি

গত ২ জুন মিরানশাহ উপবিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওই এলাকায় চলাচল ও যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদারের ইঙ্গিত।

১৪৪ ধারা জারির আগে মিরানশাহর কাছে একটি সামরিক চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিকস)-এর তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই মাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

গত মে মাসের শেষ দিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দত্তাখেল এলাকায় পৃথক এক অভিযানে আরও ১১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়।

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৭২ ঘণ্টায় ২১ জঙ্গি নিহত। ধারাবাহিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ৪৮ বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮

০৯:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলমান গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে গত ৭২ ঘণ্টায় আরও ২১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিরানশাহ ও আশপাশের এলাকায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

আইএসপিআরের দাবি, নিহতদের মধ্যে চারজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতা রয়েছে। এরা হলেন খালিদ রাজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরা নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

অভিযানে বড় ধাক্কা

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির পর এসব জঙ্গিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআরের মতে, এ অভিযান সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে একই এলাকায় পরিচালিত আরেক দফা অভিযানে ২৭ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। ফলে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মোট নিহত জঙ্গির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে।

Security forces kill 21 terrorists, including four ring leaders, in KP IBOs

অভিযান অব্যাহত থাকবে

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবশিষ্ট জঙ্গিদের নির্মূল করতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি

গত ২ জুন মিরানশাহ উপবিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওই এলাকায় চলাচল ও যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদারের ইঙ্গিত।

১৪৪ ধারা জারির আগে মিরানশাহর কাছে একটি সামরিক চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিকস)-এর তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই মাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পর ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

গত মে মাসের শেষ দিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দত্তাখেল এলাকায় পৃথক এক অভিযানে আরও ১১ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়।

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৭২ ঘণ্টায় ২১ জঙ্গি নিহত। ধারাবাহিক অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ৪৮ বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।