০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম?

অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি প্রবণতা বারবার দেখা যায়—কোনো উদীয়মান শক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে অবমূল্যায়ন করা হয়, তারপর একসময় বাস্তবতা এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সেই অবস্থান আর ধরে রাখা যায় না। চীনের ক্ষেত্রে গত দুই দশকের ঘটনাপ্রবাহ ঠিক এমনই একটি চিত্র তুলে ধরেছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, আর্থিক শক্তি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রভাব—সব মিলিয়ে বেইজিং এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যাকে আর কেবল আঞ্চলিক শক্তি বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

সম্প্রতি চীনের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ এতে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানালেও বিশ্বের বড় অংশ তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই নীরবতা কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ফল নয়; বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যে চীনের গভীর প্রভাবের প্রতিফলনও বটে। এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগে চীনের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এমন এক বাস্তবতা, যা অনেক দেশকে তাদের অবস্থান নির্ধারণে সতর্ক করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক শক্তির প্রশ্নেও চীন এখন আর শুধু উৎপাদনশীলতার প্রতীক নয়। বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকগুলোর মধ্যে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্থান এবং মহাকাশ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশটি বহুমাত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সামগ্রিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান আগের মতো প্রশস্ত নেই।

কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রচলিত অনেক বয়ান বদলাতে শুরু করেছে। একসময় চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যেভাবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, সেই ভাষ্য এখন আগের মতো জোরালো নয়। একইভাবে রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতা, অবিশ্বাস এবং কৌশলগত দ্বন্দ্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে ঘিরে। ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, শুল্ক আরোপ ও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বেইজিংকে নীতিগত ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা দেখিয়েছে, চীন সেই চাপের জবাব দিতে প্রস্তুত ছিল এবং প্রয়োজন হলে সমপরিমাণ প্রতিক্রিয়া জানাতেও দ্বিধা করেনি।

চীনের অবস্থান বরাবরই ছিল, বাণিজ্যযুদ্ধের প্রকৃত কোনো বিজয়ী হয় না। তবে নিজেদের বৈধ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে—এই নীতিও তারা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করেছে। ফলে যে চাপের মাধ্যমে দ্রুত ফল আনার আশা করা হয়েছিল, তা উল্টো দুই পরাশক্তির সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতও আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বহু বছর ধরে পশ্চিমা রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের বয়ানে তেহরানকে মূলত বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তব সংঘাতে ইরানের প্রতিক্রিয়া অনেক বিশ্লেষকের পূর্বধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এই পুরো পরিস্থিতিতে চীন সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি; বরং দূরত্ব বজায় রেখে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করেছে এবং কৌশলগত সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছে।

বেইজিংয়ের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তাৎক্ষণিক সাফল্যের চেয়ে ভবিষ্যতের কৌশলগত অবস্থানকে তারা বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রয়োজন হলে স্বল্পমেয়াদে কিছু অর্থনৈতিক চাপও মেনে নেয়, যদি তার বিনিময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। এই ধৈর্যনির্ভর নীতিই চীনের বৈশ্বিক অবস্থানকে ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার বৈদেশিক সম্পদ জব্দ করার পশ্চিমা সিদ্ধান্তও অনেক দেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। এর ফলে বহু রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। বিকল্প আর্থিক কাঠামো, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ বাড়ার পেছনে এই অভিজ্ঞতারও ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত শিল্প খাতে চীনের দ্রুত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই প্রতিযোগিতা কেবল বাজার দখলের নয়; ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্নও এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বিশ্ব এখন এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একক পরাশক্তির আধিপত্যের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। নতুন অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র, বিকল্প জোট, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে তা বদলে যাবে না। বরং যেসব রাষ্ট্র সময়ের পরিবর্তন দ্রুত অনুধাবন করে নিজেদের নীতি ও কৌশল পুনর্গঠন করতে পারবে, ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় তারাই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ

১০:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি প্রবণতা বারবার দেখা যায়—কোনো উদীয়মান শক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে অবমূল্যায়ন করা হয়, তারপর একসময় বাস্তবতা এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সেই অবস্থান আর ধরে রাখা যায় না। চীনের ক্ষেত্রে গত দুই দশকের ঘটনাপ্রবাহ ঠিক এমনই একটি চিত্র তুলে ধরেছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, আর্থিক শক্তি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রভাব—সব মিলিয়ে বেইজিং এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যাকে আর কেবল আঞ্চলিক শক্তি বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

সম্প্রতি চীনের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ এতে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানালেও বিশ্বের বড় অংশ তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই নীরবতা কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ফল নয়; বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যে চীনের গভীর প্রভাবের প্রতিফলনও বটে। এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগে চীনের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এমন এক বাস্তবতা, যা অনেক দেশকে তাদের অবস্থান নির্ধারণে সতর্ক করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক শক্তির প্রশ্নেও চীন এখন আর শুধু উৎপাদনশীলতার প্রতীক নয়। বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকগুলোর মধ্যে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উত্থান এবং মহাকাশ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশটি বহুমাত্রিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সামগ্রিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান আগের মতো প্রশস্ত নেই।

কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রচলিত অনেক বয়ান বদলাতে শুরু করেছে। একসময় চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যেভাবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, সেই ভাষ্য এখন আগের মতো জোরালো নয়। একইভাবে রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতা, অবিশ্বাস এবং কৌশলগত দ্বন্দ্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে ঘিরে। ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, শুল্ক আরোপ ও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বেইজিংকে নীতিগত ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা দেখিয়েছে, চীন সেই চাপের জবাব দিতে প্রস্তুত ছিল এবং প্রয়োজন হলে সমপরিমাণ প্রতিক্রিয়া জানাতেও দ্বিধা করেনি।

চীনের অবস্থান বরাবরই ছিল, বাণিজ্যযুদ্ধের প্রকৃত কোনো বিজয়ী হয় না। তবে নিজেদের বৈধ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে—এই নীতিও তারা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করেছে। ফলে যে চাপের মাধ্যমে দ্রুত ফল আনার আশা করা হয়েছিল, তা উল্টো দুই পরাশক্তির সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতও আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বহু বছর ধরে পশ্চিমা রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের বয়ানে তেহরানকে মূলত বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তব সংঘাতে ইরানের প্রতিক্রিয়া অনেক বিশ্লেষকের পূর্বধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এই পুরো পরিস্থিতিতে চীন সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি; বরং দূরত্ব বজায় রেখে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করেছে এবং কৌশলগত সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছে।

বেইজিংয়ের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তাৎক্ষণিক সাফল্যের চেয়ে ভবিষ্যতের কৌশলগত অবস্থানকে তারা বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রয়োজন হলে স্বল্পমেয়াদে কিছু অর্থনৈতিক চাপও মেনে নেয়, যদি তার বিনিময়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। এই ধৈর্যনির্ভর নীতিই চীনের বৈশ্বিক অবস্থানকে ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার বৈদেশিক সম্পদ জব্দ করার পশ্চিমা সিদ্ধান্তও অনেক দেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। এর ফলে বহু রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। বিকল্প আর্থিক কাঠামো, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ বাড়ার পেছনে এই অভিজ্ঞতারও ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত শিল্প খাতে চীনের দ্রুত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই প্রতিযোগিতা কেবল বাজার দখলের নয়; ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্নও এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বিশ্ব এখন এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একক পরাশক্তির আধিপত্যের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। নতুন অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র, বিকল্প জোট, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে তা বদলে যাবে না। বরং যেসব রাষ্ট্র সময়ের পরিবর্তন দ্রুত অনুধাবন করে নিজেদের নীতি ও কৌশল পুনর্গঠন করতে পারবে, ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় তারাই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।