ব্রডওয়ের অগাস্ট উইলসন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হওয়া ‘ডগ ডে আফটারনুন’-এর নতুন রূপান্তর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ব্যাংক ডাকাতির গল্পটি যেখানে মূল চলচ্চিত্রে তীব্র উত্তেজনা ও আবেগের মিশেলে দর্শককে নাড়া দিয়েছিল, সেখানে মঞ্চে তা অনেকটাই হালকা, প্রায় হাস্যরসাত্মক রূপ নিয়েছে।
নাটকের ভেতরে দ্বন্দ্বের ছাপ
এই প্রযোজনাটি শুরু থেকেই কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। যেন সৃজনশীল মতবিরোধের একটি ছাপ পুরো নাটকজুড়ে রয়ে গেছে। গল্পের জটিলতা ও গভীরতা তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ এতটাই বড় যে দর্শক অনেক সময় নাটকটির সফলতা কামনা করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
চরিত্রে নতুন ব্যাখ্যা, কিন্তু ভারসাম্যের অভাব
সনি চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা মঞ্চে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাজির হন। তার অভিনয়ে এক ধরনের চঞ্চলতা ও হাস্যরস থাকলেও, তা এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো নাটকের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। মূল গল্পের যে টানটান উত্তেজনা, তা এখানে অনেকটাই অনুপস্থিত।
ডাকাতির ঘটনাটি শুরু হলেও, ভেতরে-বাইরে অস্ত্র ও পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় না। বরং বন্দি ও ডাকাতদের মধ্যে হালকা কথোপকথন ও মজার পরিস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে। এমনকি গুরুতর পরিস্থিতিও কখনও কখনও হাসির উপাদানে পরিণত হয়েছে।

বাস্তবতা ও কৌতুকের দ্বৈততা
মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও পরিবেশ নির্মাণে যথেষ্ট বাস্তবতা আনার চেষ্টা দেখা গেলেও, সংলাপ ও শব্দ ব্যবহারে তা অনেক সময় কার্টুনধর্মী হয়ে উঠেছে। এই দ্বৈততা নাটকটিকে একদিকে আকর্ষণীয় করলেও অন্যদিকে গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে।
সম্পর্কের জটিলতা উঠে আসেনি পুরোপুরি
নাটকের দ্বিতীয় ভাগে সনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক সামনে এলে গল্পটি নতুন মোড় নেয়। কিন্তু সেই আবেগময় সম্পর্ককে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। চরিত্রগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্ব ও অনুভূতির গভীরতা এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে না।
দর্শকের জন্য বিনোদন, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়
সব মিলিয়ে নাটকটি বিনোদন দিতে সক্ষম। এতে গতি আছে, মজার মুহূর্ত আছে, কিন্তু মূল গল্পের যে তীব্রতা ও আবেগ দর্শকের মনে দাগ কাটার কথা, তা পুরোপুরি অনুপস্থিত। যারা আগে এই গল্পের চলচ্চিত্র দেখেননি, তাদের কাছে এটি উপভোগ্য হতে পারে। তবে পুরোনো দর্শকদের মনে কিছুটা অপূর্ণতার অনুভূতি থেকেই যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















