১২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা

ব্রডওয়ের অগাস্ট উইলসন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হওয়া ‘ডগ ডে আফটারনুন’-এর নতুন রূপান্তর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ব্যাংক ডাকাতির গল্পটি যেখানে মূল চলচ্চিত্রে তীব্র উত্তেজনা ও আবেগের মিশেলে দর্শককে নাড়া দিয়েছিল, সেখানে মঞ্চে তা অনেকটাই হালকা, প্রায় হাস্যরসাত্মক রূপ নিয়েছে।

নাটকের ভেতরে দ্বন্দ্বের ছাপ

এই প্রযোজনাটি শুরু থেকেই কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। যেন সৃজনশীল মতবিরোধের একটি ছাপ পুরো নাটকজুড়ে রয়ে গেছে। গল্পের জটিলতা ও গভীরতা তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ এতটাই বড় যে দর্শক অনেক সময় নাটকটির সফলতা কামনা করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

চরিত্রে নতুন ব্যাখ্যা, কিন্তু ভারসাম্যের অভাব

সনি চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা মঞ্চে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাজির হন। তার অভিনয়ে এক ধরনের চঞ্চলতা ও হাস্যরস থাকলেও, তা এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো নাটকের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। মূল গল্পের যে টানটান উত্তেজনা, তা এখানে অনেকটাই অনুপস্থিত।

ডাকাতির ঘটনাটি শুরু হলেও, ভেতরে-বাইরে অস্ত্র ও পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় না। বরং বন্দি ও ডাকাতদের মধ্যে হালকা কথোপকথন ও মজার পরিস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে। এমনকি গুরুতর পরিস্থিতিও কখনও কখনও হাসির উপাদানে পরিণত হয়েছে।

Dog Day Afternoon review – Broadway take on heist can't match Pacino's  punch | US theater | The Guardian

বাস্তবতা ও কৌতুকের দ্বৈততা

মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও পরিবেশ নির্মাণে যথেষ্ট বাস্তবতা আনার চেষ্টা দেখা গেলেও, সংলাপ ও শব্দ ব্যবহারে তা অনেক সময় কার্টুনধর্মী হয়ে উঠেছে। এই দ্বৈততা নাটকটিকে একদিকে আকর্ষণীয় করলেও অন্যদিকে গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে।

সম্পর্কের জটিলতা উঠে আসেনি পুরোপুরি

নাটকের দ্বিতীয় ভাগে সনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক সামনে এলে গল্পটি নতুন মোড় নেয়। কিন্তু সেই আবেগময় সম্পর্ককে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। চরিত্রগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্ব ও অনুভূতির গভীরতা এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে না।

দর্শকের জন্য বিনোদন, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়

সব মিলিয়ে নাটকটি বিনোদন দিতে সক্ষম। এতে গতি আছে, মজার মুহূর্ত আছে, কিন্তু মূল গল্পের যে তীব্রতা ও আবেগ দর্শকের মনে দাগ কাটার কথা, তা পুরোপুরি অনুপস্থিত। যারা আগে এই গল্পের চলচ্চিত্র দেখেননি, তাদের কাছে এটি উপভোগ্য হতে পারে। তবে পুরোনো দর্শকদের মনে কিছুটা অপূর্ণতার অনুভূতি থেকেই যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা

০৭:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ব্রডওয়ের অগাস্ট উইলসন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হওয়া ‘ডগ ডে আফটারনুন’-এর নতুন রূপান্তর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ব্যাংক ডাকাতির গল্পটি যেখানে মূল চলচ্চিত্রে তীব্র উত্তেজনা ও আবেগের মিশেলে দর্শককে নাড়া দিয়েছিল, সেখানে মঞ্চে তা অনেকটাই হালকা, প্রায় হাস্যরসাত্মক রূপ নিয়েছে।

নাটকের ভেতরে দ্বন্দ্বের ছাপ

এই প্রযোজনাটি শুরু থেকেই কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। যেন সৃজনশীল মতবিরোধের একটি ছাপ পুরো নাটকজুড়ে রয়ে গেছে। গল্পের জটিলতা ও গভীরতা তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ এতটাই বড় যে দর্শক অনেক সময় নাটকটির সফলতা কামনা করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

চরিত্রে নতুন ব্যাখ্যা, কিন্তু ভারসাম্যের অভাব

সনি চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা মঞ্চে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাজির হন। তার অভিনয়ে এক ধরনের চঞ্চলতা ও হাস্যরস থাকলেও, তা এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো নাটকের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। মূল গল্পের যে টানটান উত্তেজনা, তা এখানে অনেকটাই অনুপস্থিত।

ডাকাতির ঘটনাটি শুরু হলেও, ভেতরে-বাইরে অস্ত্র ও পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয় না। বরং বন্দি ও ডাকাতদের মধ্যে হালকা কথোপকথন ও মজার পরিস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে। এমনকি গুরুতর পরিস্থিতিও কখনও কখনও হাসির উপাদানে পরিণত হয়েছে।

Dog Day Afternoon review – Broadway take on heist can't match Pacino's  punch | US theater | The Guardian

বাস্তবতা ও কৌতুকের দ্বৈততা

মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও পরিবেশ নির্মাণে যথেষ্ট বাস্তবতা আনার চেষ্টা দেখা গেলেও, সংলাপ ও শব্দ ব্যবহারে তা অনেক সময় কার্টুনধর্মী হয়ে উঠেছে। এই দ্বৈততা নাটকটিকে একদিকে আকর্ষণীয় করলেও অন্যদিকে গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে।

সম্পর্কের জটিলতা উঠে আসেনি পুরোপুরি

নাটকের দ্বিতীয় ভাগে সনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক সামনে এলে গল্পটি নতুন মোড় নেয়। কিন্তু সেই আবেগময় সম্পর্ককে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। চরিত্রগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্ব ও অনুভূতির গভীরতা এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে না।

দর্শকের জন্য বিনোদন, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়

সব মিলিয়ে নাটকটি বিনোদন দিতে সক্ষম। এতে গতি আছে, মজার মুহূর্ত আছে, কিন্তু মূল গল্পের যে তীব্রতা ও আবেগ দর্শকের মনে দাগ কাটার কথা, তা পুরোপুরি অনুপস্থিত। যারা আগে এই গল্পের চলচ্চিত্র দেখেননি, তাদের কাছে এটি উপভোগ্য হতে পারে। তবে পুরোনো দর্শকদের মনে কিছুটা অপূর্ণতার অনুভূতি থেকেই যায়।